BTC News | বিটিসি নিউজ

আজ- রবিবার, ২৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১০ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

আজ- ২৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

খেতে পড়ে আছে আলু- ঈদ আনন্দ নেই আলুচাষিদের পরিবারে

খেতে পড়ে আছে আলু- ঈদ আনন্দ নেই আলুচাষিদের পরিবারে

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: রাত পোহালেই ঈদ। কিন্তু উৎসবের সেই চিরচেনা আমেজ নেই লালমনিরহাটের আলুচাষি পরিবার গুলোর ঘরে। মাঠভরা আলু, কিন্তু নেই ক্রেতা—লোকসানের বোঝা কাঁধে নিয়ে ঈদের আনন্দ যেন হারিয়ে গেছে তাদের জীবন থেকে।

টানা দ্বিতীয় বছরের মতো আলুচাষে লোকসান গুনছেন কৃষকরা। উৎপাদিত আলু খেতেই পড়ে আছে, আর তা ঘিরেই হতাশায় ডুবছেন তারা। ফলে ঈদের কোনো প্রস্তুতিই নেই এসব পরিবারে।

লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, চারদিকে ঈদকে ঘিরে ব্যস্ততা থাকলেও আলুচাষিদের ঘরে বিরাজ করছে নীরবতা। উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে আলু বিক্রি করেও ঋণের বোঝা কমাতে পারছেন না তারা। অনেকেই পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোস্তফি এলাকার কৃষক নুর ইসলাম এ বছর ১৫ বিঘা জমিতে আলুচাষ করেছেন। আশা ছিল, আগের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

তিনি বলেন, “উৎপাদনের অর্ধেক দামে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে, তবুও ক্রেতা মিলছে না। হাতে টাকা নেই, সন্তানদের নতুন পোশাক কিনে দিতে পারিনি। আলুচাষ আমাকে পথে বসিয়েছে, আমাদের ঈদের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে।

পরিবারের জন্য সেমাই, চিনি ও দুধ কিনেছি, কিন্তু কাউকেই নতুন পোশাক দিতে পারিনি। খুব কষ্ট লাগছে। ঈদের দিনটাও বিষাদের মধ্যেই কাটবে। গত বছরও আলুচাষে লোকসান করায় ভালোভাবে ঈদ করতে পারিনি।

হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান এলাকার আলু চাষি আব্দুর রহিম একই চিত্র তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “আলুচাষে লোকসান করে মানসিকভাবে খুব দুশ্চিন্তায় আছি। উৎপাদিত আলু বিক্রি করে কিছু ঋণ শোধ করেছি, কিন্তু এখনও দেনা রয়ে গেছে। হাতে কোনো টাকা নেই। পরিবারের কাউকেই নতুন পোশাক কিনে দিতে পারিনি। এখনো সেমাই- চিনি কিনতে পারিনি। ঈদের দিন মাংস খাওয়ার কথাও ভাবতে পারছি না।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৫টি উপজেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৫ শত হেক্টর, কিন্তু চাষ হয়েছে ৭ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় উৎপাদনও ভালো হয়েছে।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. শাইখুল আরেফিন বিটিসি নিউজকে বলেন, ‘চাষিরা লক্ষ্যমাত্রার বেশি চাষ করেছেন। উৎপাদন খরচ ও বাজার দরে প্রতি কেজি আলুতে প্রায় ১০ টাকার লোকসান হচ্ছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় আলুর বহুমুখী ব্যবহার ও শিল্পজাত কারখানা গড়ে তোলা জরুরি।’ আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু বাজারদর কম থাকায় কৃষকরা হতাশ।

তিনি আরও বলেন, “বিদেশে আলু রপ্তানির সুযোগ তৈরি না হলে কৃষকরা বড় ধরনের সংকটে পড়বেন। এতে ভবিষ্যতে আলুচাষে আগ্রহ কমে যেতে পারে।

সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর লালমনিরহাট প্রতিনিধি হাসানুজ্জামান হাসান। #

এইরকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর

ব্রেকিং নিউজ
ইরান যুদ্ধে জড়াল হুতিরা, হুমকিতে সুয়েজ খাল? ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছিল কিউবা, মেক্সিকো ছাড়ার পর নিখোঁজ দুই নৌকা যুদ্ধে যোগ দিল হুতিরা, ইসরায়েলের দিকে ছুড়ল ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের সাথে যুদ্ধে ইসরায়েলে রাজনৈতিক ঐক্য চুরমার, ঘনিয়ে আসছে বড় বিপর্যয়! বৈঠকে বসছেন পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মধ্য ইসরায়েলে একাধিক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ইরানে আগ্রাসন বন্ধ না করলে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ চালানোর ঘোষণা ইয়েমেনের হরমুজ প্রণালীতে টোল বুথ: জাহাজপ্রতি কত ফি নিচ্ছে ইরান? চরম সেনা-সংকট, যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে ইসরায়েলি বাহিনী : সেনাপ্রধান ইরান যুদ্ধে হুতিদের অংশগ্রহণে বিপাকে ইসরায়েল, রুদ্ধ হতে পারে বিশ্ব বাণিজ্যের আরেকটি পথ