গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: মাদক সেবনের জন্য টাকা চেয়ে না পেয়ে বিধবা মাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে বসতঘরে আগুন দিলেন মাদকাসক্ত ছেলে। মুহূর্তের মধ্যেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে কাঠ ও টিনের তৈরি ঘরটি।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাতে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোটালীপাড়া উপজেলার দক্ষিণ হিরন গ্রামের মৃত শাহ আলম শেখের ছেলে শহিদুল ইসলাম (২৫) দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন করে আসছিল। ঘটনার রাতে শহিদুল তার মা হেনয়ারা বেগমের কাছে মাদক সেবনের জন্য টাকা চায়। হেনয়ারা বেগম টাকা দিতে না পারায় মাদকাসক্ত শহিদুল বিধবা মাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে ঘরে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় আশপাশের মানুষ আগুন নিভানোর জন্য এগিয়ে আসার আগ মূহুর্তেই ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
হেনয়ারা বেগম বলেন, আমার ছেলে শহিদুল দীর্ঘ দিন ধরে মাদক সেবন করে আসছে। সে প্রতিনিয়ত আমার কাছে মাদক সেবনের জন্য টাকা চায়। টাকা দিতে না পারলে সে আমাকে মারধর করতো। যার কারনে আমি শহিদুলের ভয়ে পালিয়ে থাকতাম। ঘটনার রাতে টাকা দিতে না পারায় আমাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে ঘরে আগুন দেয়।
তিনি আরও বলেন, আমি একজন দুঃখিনী মা। আমার বড় ছেলে ওলিউল্লাহ কাজের জন্য ভারতে গিয়ে ১০ বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছে। ছয় মাস আগে বরিশালে কাজ করতে গিয়ে আমার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। ছোট ছেলেটি মাদকাসক্ত। আমি এখন কি ভাবে বাঁচবো।
কান্না জড়িত কন্ঠে হেনয়ারা বেগম আরও বলেন, আমার মাথা গোজাঁর ঠাঁই টুকুও এখন পুড়ে ছাই হয়ে গেল। আমার আর বেঁচে থাকার ইচ্ছা নাই। এতো শোক আমি কি ভাবে সইবো।
প্রতিবেশী জামির আলী বলেন, শহিদুল দীর্ঘ দিন ধরে মাদক সেবন করে আসছে। মাদকের টাকা না দিতে পারলে সে তার মাকে মারধর করতো। গতকাল রাতে মাদকের জন্য শহিদুল তার মার কাছে টাকা চেয়ে না পেয়ে বসত ঘরে আগুন দেয়। আমরা আগুন নিভানোর জন্য ছুটে আসতে আসতেই ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।আমরা চাই না এ ভাবে আর কোন পরিবারে মাদকাসক্ত ছেলের জন্ম হোক।
কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রিয়াদ মাহমুদ বলেন, এ বিষয়ে আমি এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নিবো।
সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি শাফিউল কায়েস। #















