নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার ঈশ্বরদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষ, গোলাগুলি, অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার দুপুর ১২টা থেকে শুরু হওয়া এই সহিংসতায় পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসানের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার মূল সূত্রপাত গত ঈদুল ফিতরের দিনের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই দিন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইমরুল কায়েস সুমন ও যুবদল নেতা শ্যামলসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে মারধর, অফিস ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং বিচার দাবিতে সোমবার সকালে দুই গ্রুপ পৃথক পোষ্ট অফিস মোড় ও বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় পৃথক দুটি সংবাদ সম্মেলন করে। সংবাদ সম্মেলন শেষে বেলা ১২টার দিকে উভয় পক্ষ শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে রেলগেট এবং পোস্ট অফিস মোড় এলাকায় তারা মুখোমুখি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলটি মুখোমুখি হতেই উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা এবং ইটপাটকেল নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে গোলাগুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালীন বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে শহরের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও লোকবল কম থাকায় তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ইটপাটকেলের আঘাতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মমিনুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে বিশৃঙ্খলা এড়াতে শহরজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
আহতদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা না গেলেও উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী ও সাধারণ পথচারী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে পাবনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মোস্তফা নূরে আলম শ্যামলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পুরো শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, কিছু উশৃংখল নেতাকর্মীরা গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিরোধিতা করেছেন, তারাই আবারও দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে হামলা চালিয়ে পরিবেশ অশান্ত করে তুলছেন।
তবে অপর পক্ষের কারো সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর নিজস্ব প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম / পাবনা। #















