বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খরগ দ্বীপ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। এ সময় এমন প্রশ্নে তিনি রহস্যময় ও রসিকতাপূর্ণ আচরণ করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমার কোনো পরিকল্পনা থাকতেও পারে আবার না-ও থাকতে পারে, কিন্তু আমি কেন একজন সাংবাদিকের কাছে তা প্রকাশ করব?’ এ সময় তিনি হবু পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্নকর্তাকে নিয়ে কিছুটা মজাও করেন। তবে পেন্টাগন ইতিমধ্যে এই যুদ্ধে অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলারের বরাদ্দ চেয়েছে, যা এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
সরাসরি যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, যখন প্রতিপক্ষকে আক্ষরিক অর্থেই নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হচ্ছে, তখন যুদ্ধবিরতির কোনো প্রশ্নই আসে না।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান গুটিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। শুক্রবার (২০ মার্চ) এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় তারা এখন সামরিক তৎপরতা কমিয়ে আনার কথা ভাবছেন।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্প এক নতুন অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই জলপথটি পাহারা দেওয়া এবং সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব সেইসব দেশের যারা এটি ব্যবহার করে, যুক্তরাষ্ট্র একা এই দায়িত্ব নেবে না। ট্রাম্পের মতে, একবার ইরানের হুমকি নির্মূল হয়ে গেলে এটি অন্যান্য দেশের জন্য একটি ‘সহজ সামরিক অভিযান’ হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র কেবল অনুরোধ পেলেই তাদের সহায়তা করবে।
অথচ এই প্রণালীটি বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের পথ হওয়ায় এর সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার প্রভাব সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পড়ছে। বেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ইতিমধ্যে ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলারে পৌঁছেছে এবং ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু এলাকায় পেট্রোলের দাম গ্যালন প্রতি ৮ ডলারে ঠেকেছে, যা আসন্ন নির্বাচনে ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনায় বসতে রাজি নয়। অন্যদিকে হোয়াইট হাউস খরগ দ্বীপসহ ইরানের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনা দখলের জন্য শত শত মেরিন সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরও তেহরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী এখনো পতনোন্মুখ নয়, বরং তারা অবশিষ্ট নেতাদের নেতৃত্বে আরও ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের অভিযান গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা এবং একই সঙ্গে স্থল সেনা মোতায়েনের চিন্তা বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তেলের দাম কমার আশায় বিনিয়োগকারীরা ট্রাম্পের বক্তব্যের দিকে তাকিয়ে থাকলেও বাজারের অস্থিরতা আপাতত কাটার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। #















