বিটিসি স্পোর্টস ডেস্ক: ফিফা এখনও কোনো মন্তব্য করেনি, তবে মেক্সিকো জানিয়ে দিয়েছে নিজেদের অবস্থান। বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকরা বলেছে, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা রাজি হলে ইরানের ম্যাচ আয়োজনে কোনো সমস্যা নেই তাদের।
মেক্সিকো প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম মঙ্গলবার বলেছেন, বিশ্বকাপে ইরানের ম্যাচ আয়োজনে আগ্রহী তারা।
মার্কিন ও ইসরায়েলী যৌথ হামলার পর নিজেদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানায় ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে বলেন, বিশ্বকাপে ইরানকে স্বাগত জানাবে তারা। তবে ‘নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য’ তাদের যুক্তরাষ্ট্রে খেলা ঠিক হবে না।
মেক্সিকোয় ইরানের দূতাবাসের এক্স অ্যাকাউন্টে এক বার্তায় ট্রাম্পের ওই মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে সোমবার নিজেদের অবস্থান জানান ইরানের ফুটবল প্রধান মেহদি তাজ।
“যখন ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তিনি ইরান জাতীয় দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন না, তাহলে আমরা অবশ্যই আমেরিকায় যাব না।”
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
গত বছর এশিয়ান বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে নিজেদের গ্রুপে সেরা হয়ে টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে ইরান।
আগামী ১১ জুন শুরু হবে চূড়ান্ত পর্বের খেলা। গ্রুপ পর্বে ইরানের দুটি ম্যাচ খেলার কথা লস অ্যাঞ্জেলসে, অন্যটি সিয়াটলে। ‘জি’ গ্রুপে এশিয়ার দেশটির সঙ্গী বেলজিয়াম, মিশর ও নিউ জিল্যান্ড।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাভাবিক অফিস সময়সূচির বাইরে এই বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি লস অ্যাঞ্জেলস ও সিয়াটলে ম্যাজ আয়োজনের জন্য গঠিত কমিটি।
ইরানের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোয় সরিয়ে নেওয়া লজিস্টিকসের দিক থেকে টুর্নামেন্টের জন্য বড় একটা চ্যালেঞ্জ হবে। তবে ভূ-রাজনৈতিক কারণে ম্যাচের ভেন্যু সরিয়ে নেওয়া খুব অপ্রচলিত কিছু নয়।
ইউক্রেইনে প্রতিবেশী রাশিয়ার আগ্রাসনে সহায়তা করার দায়ে গত বছর উয়েফার নির্দেশে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দেশের মাটিতে খেলতে পারেনি বেলারুশ। হাঙ্গেরিতে খেলে ম্যাচটি ২-০ ব্যবধান হারে তারা।
ক্রিকেটে দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে যেমন ভারত ও পাকিস্তান বহুজাতিক টুর্নামেন্টে নিজেদের মধ্যে ম্যাচ খেলে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে।
গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তান সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানায় ভারত। পরে তারা নিজেদের সবগুলো ম্যাচ খেলে দুবাইয়ে।
ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি ফিফা নাকচ করে দিলে হয়তো যে দেশের সঙ্গে যুদ্ধ চলছে, সেই দেশে খেলতে যাবে না ইরান। গত সপ্তাহে দেশটির ক্রীড়া মন্ত্রী বলেছিলেন, তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলী বাহিনীর আক্রমণে সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর ইরানের খেলোয়াড়দের পক্ষে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সম্ভব নয়।
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) সোমবার জানায়, বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ইরান তাদের কোনো বার্তা দেয়নি। #















