নিজস্ব প্রতিবেদক: আলেম ওলামাগণরা হচ্ছেন সমাজের নেতা। তার কারণ হচ্ছে মানুষ যতই ধনী বা গরীব হোক কাতারে আবদ্ধ হয়ে মসজিদের ইমামের পিছনে নামাজ আদায় করেন। ইমাম এর কথা শোনেন। কারন তাঁরা হচ্ছেন ইসলামের ধারক ও বাহক। নবী করিম (সা.) ও তাঁর সাহাবীদের পরেই ইসলামের পতাকা হাতে নিয়ে আছেন তাঁরা। তারা হচ্ছেন সমাজের নেতা। এই সম্মানীয় ব্যক্তিরা যখন মনের অজান্তে ভুল করে বসেন তখন চারিদিকের মানুষজন নানা কটু কথা বলেন।
অথচ সাধারণ একজন মানুষ চুরি ও অন্যান্য অন্যায় কাজ করলে তেমন কোন সাড়া পরেনা বলে বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখা সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া–র রূহের মাগফেরাত কামনায় রাজশাহীর নওহাটা কলেজ মাঠে জাতীয়তাবাদী ওলামা দল রাজশাহী জেলা শাখার আয়োজনে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পবা-মোহনপুর আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেমন আলেম ওলামাদের ভালবাসতেন এবং নিজে দর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতেন, তেমনি বেগম খালেদা জিয়াও একই পথে হেঠেছেন। তিনি কখনো আলেম ওলামাদের অসম্মান করে কথা বলেননি। তিন সর্বদা তাঁদের ভালবাসতেন। সেইসাথে তাঁদের বিরদ্ধে কেউ বাজে মন্তব্য করলে তিনি প্রতিবাদ করতেন।
তিনি আরো বলেন, পতিত সরকারের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন আলেম ওলামাদের জঙ্গী বলে প্রচার এবং ঢাকার মতিঝিলে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামীর আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের উপর রাতের অন্ধকারে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিলো তখনো তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন মিলন।
তিনি আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি শুধু একজন সফল প্রধানমন্ত্রীই নন, বরং গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের ন্যায্য অধিকার রক্ষার প্রতীক।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি সংকটময় সময়ে বেগম খালেদা জিয়া আপসহীন নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ত্যাগ, ধৈর্য ও সাহসিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ব্যক্তিগত কষ্ট ও সীমাহীন প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি কখনো গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপস করেননি। তাঁর রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে শুধু শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছে না, বরং তাঁর আদর্শ অনুসরণের অঙ্গীকারও করনে।
প্রধান অতিথি দোয়া মাহফিলের গুরুত্ব তুলে ধরে আরো বলেন, এ ধরনের ধর্মীয় কর্মসূচি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং মানুষের মধ্যে মানবিক ও নৈতিক চেতনা জাগ্রত করে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংকটের সময় দোয়া ও মোনাজাত মানুষের মনে ধৈর্য, সহনশীলতা ও আশাবাদ সৃষ্টি করে।
তিনি বলেন বেগম জিয়া সবাইকে একতাবদ্ধ হতে শিখিয়ে গেছেন। যার প্রমান হচ্ছে বেগম জিয়ার জানাযায় লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল। এছাড়াও তাঁর জানাযায় লক্ষ লক্ষ আলেম ওলামাগণ উপস্থিত হয়ে তাঁর জন্য দোয়া করেছেন। এ থেকেই বোঝা যায় এক্য ছাড়া জাতী কখনো সামনের দিকে অগ্রসর হতে পারবেনা বলে উল্লেখ করে তিনি ও জাতির কল্যাণে সকলকে আল্লাহর কাছে দোয়া করার আহ্বান জানান।
জাতীয়তাবাদী ওলামাদের রাজশাহী জেলা শাখার আহ্বায়ক তাজউদ্দিন খান এর সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাফেজ মাওলানা মাসুদ রানার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সদস্য, নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও পৌর সাবেক মেয়র শেখ মকবুল হোসেন, মোহনপুর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি শামীমুল ইসলাম মুন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আর রশিদ, নওহাটা পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম পিটার, পবা উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ, মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজীম উদ্দিন সরকার, বিএনপি নেতা মর্তুজা আলী ও সাইদুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, জাতীয়তাবাদী ওলামা দল রাজশাহী জেলা শাখার সদস্য সচিব নুরুল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আব্দুল ওহাব, মফিজুর রহমান, কারী মাসুদ রানা, মাওলানা আমিনুল ইসলাম, মীর আব্দুল কাদের, মাওলানা শহিদুল ইসলাম ও জাতীয়তাবাদী ওলামা দল পবা উপজেলার আহবায়ক মাওলানা হাবিবুল্লাহ। এছাড়াও অত্র কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ এবং আলেম-ওলামাগণ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে উপস্থিত আলেম-ওলামাগণ বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই দোয়া মাহফিল নওহাটা এলাকায় ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির এক আবহ সৃষ্টি করে। জাতীয় নেতৃবৃন্দের স্মরণে এ ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকা উচিত। যাতে নতুন প্রজন্ম দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাস ও মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তারা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সদস্য ও নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র শেখ মকবুল হোসেন, মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামীমুল ইসলাম মুন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আর রশিদ, নওহাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম পিটারসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতারা।
এছাড়াও জাতীয়তাবাদী ওলামা দল রাজশাহী জেলা ও পবা উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ, আলেম-ওলামা এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন। দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দল রাজশাহী জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাফেজ মাওলানা মাসুদ রানা।
দোয়া মাহফিলে বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং গণতন্ত্রের সুস্থ ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ জাতির সব প্রয়াত নেতৃবৃন্দের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।
এদিকে বিকেলে পবার হড়গ্রাম ইউনিয়ন এলাকাবাসীর আয়োজনে আলীগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসা মাঠে বেগম জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানেও এডভোকেট শফিকুল হক মিলন প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
হড়গ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন এর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আব্দুল ওহাব এর সঞ্চালনায় সেখানে জেলা বিএনপির সদস্য শেখ মকবুল হোসেন, পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ, ও আব্দুস সালাম ও হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, দামকুড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এনামুলক হক কনক, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানী সমুন ও জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা রুমেনা ইসলাম ও মহানগর মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসিরা খানম।
এছাড়াও বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী বৃন্দ এবং সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন। #















