BTC News | বিটিসি নিউজ

আজ- শনিবার, ২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৯ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

আজ- ২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আধুনিক নগর ভবন ও নগর অবকাঠামোর রূপকার মিজানুর রহমান মিনু

আধুনিক নগর ভবন ও নগর অবকাঠামোর রূপকার মিজানুর রহমান মিনু

নিজস্ব প্রতিবেদক: এক সময় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) নিজস্ব কোনো ভবন কিংবা স্থায়ী ঠিকানা ছিল না। রাজশাহী পৌরসভা (তৎকালীন রামপুর–বোয়ালিয়া মিউনিসিপ্যালিটি) নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন টিনসেট ভবনে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করত। কখনো ভুবন মোহন পার্ক, কখনো সোনাদীঘির পাড় বা রাজশাহী কলেজ এলাকা থেকে দপ্তর পরিচালিত হয়েছে।

এই অস্থায়ী অবস্থার অবসান ঘটিয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনকে একটি আধুনিক ও স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেন তৎকালীন মেয়র মিজানুর রহমান মিনু। ১৯৯১ সালে প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি নগর ভবনের জন্য স্থায়ী জায়গা নির্ধারণ করেন এবং এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তাঁর পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানেই নির্মিত হয় বর্তমান রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বহুতল আধুনিক নগর ভবন।

জানা গেছে, ১৯৭৬ সালের ১ এপ্রিল রাজশাহী পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে এটি অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় ভুগেছে। ১৯৮৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পৌরসভা সিটি করপোরেশনে রূপান্তরিত হলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। সেই প্রেক্ষাপটে মিজানুর রহমান মিনুর মেয়াদকালকে রাসিকের অবকাঠামোগত পুনর্জাগরণের সময় হিসেবে বিবেচনা করেন নগর উন্নয়ন সংশ্লিষ্টরা।

১৯৯৭ সাল থেকে শুরু হয়ে ২০০২ সাল পর্যন্ত প্রায় ৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নগর ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়, যা সে সময়ের প্রেক্ষাপটে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ছিল। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভবনটির নকশা, কার্যকারিতা ও আধুনিকতা সে সময় দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের জন্যও দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। বর্তমান মূল্যে এই ব্যয় শত কোটি টাকার কাছাকাছি বলে ধারণা করা হয়।

নগর ভবনের পাশাপাশি নগরবাসীর ব্যবসা-বাণিজ্য ও সেবামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণে স্বপ্নচূড়া, দারুচিনি প্লাজা ও বৈখাশী বাজারী মার্কেটসহ একাধিক বাণিজ্যিক স্থাপনার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয় মিজানুর রহমান মিনুর উদ্যোগে। এসব প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল রাসিকের নিজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করা।

তবে বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে কিছু প্রকল্প কাঙ্ক্ষিত সুফল দিতে পারেনি। প্রশাসনিক জটিলতা, সময়ের পরিবর্তন ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় কিছু পরিকল্পনা আংশিক বাস্তবায়িত হয়, আবার কিছু প্রকল্প থমকে যায়। নগর উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ধারাবাহিকতার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে তোলে।

নগরবাসীর একটি অংশের মতে, মিজানুর রহমান মিনুর সময়ে গৃহীত অবকাঠামোগত উদ্যোগগুলোর সুফল পরবর্তী সময়েও রাজশাহী ভোগ করেছে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, এসব স্থাপনার যথাযথ ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে নগরের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আরও বাড়তে পারত।

সব মিলিয়ে, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত ভিত্তি নির্মাণে মিজানুর রহমান মিনুর ভূমিকা ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নগর উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও পরিকল্পিত, জনবান্ধব ও টেকসই রাজশাহী গড়ে ওঠবে—এমন প্রত্যাশাই নগরবাসীর।

সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর নিজস্ব প্রতিনিধি ইফতেখার আলম (বিশাল) / রাজশাহী। #

এইরকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর

ব্রেকিং নিউজ
ঈদ উপলক্ষে ট্রেন যাত্রীদের সহায়তায় রাসিক প্রশাসক রিটনের ব্যতিক্রমী প্রশংসনীয় উদ্যোগ লালমনিরহাটে রেলের ৭০০ কোয়ার্টার ঝুঁকিপূর্ণ, থাকেন বহিরাগতরা : রাতে বসে মাদকের হাট রাজশাহী মহানগরীতে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার-১৬ রাজশাহীতে আরএমপি’র মাদকবিরোধী অভিযানে ১ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার; ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার মাদকবিরোধী অভিযানে কঠোর পুলিশ, জানালেন আইজিপি ভিয়েতনামকে হারিয়ে কম্পাউন্ড দলগত পুরুষ বিভাগে সেরা বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল ইতালি ১০ জন নিয়েও ব্রাজিলকে হারিয়ে দাপট দেখাল ফ্রান্স রিয়াল মাদ্রিদকে ৬-২ গোলে বিধ্বস্ত করল বার্সেলোনা কৈশোরে বঙ্গভবনে আগমনের স্মৃতিচারণ প্রধানমন্ত্রীর