BTC News | বিটিসি নিউজ

আজ- বুধবার, ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

আজ- ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আদমদীঘিতে শীতের তীব্রতায়, লেপ তোশকের কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়েছে

আদমদীঘিতে শীতের তীব্রতায়, লেপ তোশকের কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়েছে

সান্তাহার (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার আদমদীঘিতে জেঁকে বসেছে শীত। দিনের শুরু থেকে তীব্র বাতাস আর ঘন কুয়াশায় ঢাকা জনজীবন। গত দুদিন থেকে এ অঞ্চলে সূর্য়ের দেখা নেই। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি আর পৌষের শুরুতে বেড়েছে শীতের তীব্রতা।

শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লেপ-তোশক তৈরির ধুম লেগেছে মানুষের ঘরে ঘরে আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। এ কারনে কর্মব্যস্ততা বেড়েছে বগুড়ার আদমদীঘির লেপ-তোশকের কারিগদের। পুরোনো লেপ ঠিকঠাক করার পাশাপাশি অনেকেই নতুন লেপ তৈরির জন্য লেপের দোকানে ভিড় করছেন।

উপজেলার লেপ-তোশক তৈরির বিভিন্ন দোকানে গিয়ে দেখা গেছে, কারিগরেরা লেপ তৈরির কাজে ব্যস্ত। কেউ তুলো ধুনছেন, কেউবা ব্যস্ত লেপ-তোশক সেলাইয়ের কাজে, কেউবা সূচের ফোটায় লেপে হরেক রকম নকশা ফুটিয়ে তুলছেন।

লেপ তৈরি করতে আসা ছাতনি গ্রামের মৌসুমি তুলতানা বলেন, কার্পাস তুলা দিয়ে একটি লেপের অর্ডার দিয়েছি এবং একটি পুরোনো লেপ ঠিক করার জন্য এনেছি। কাপড়, তুলা, মজুরী-সব মিলিয়ে ২৫০০ টাকার মধ্যে একটি লেপ বানাতে দিয়েছি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কারিগররা জানান, বছরের অনান্য সময় তেমন কাজ থাকে না। বছরের এই সময় শীত বাড়ার সাথে সাখে ব্যস্ততা বেড়েছে ধনুকারদের। তাই কাজের চাহিদার জন্য অতিরিক্ত শ্রমিক নিতে হয়েছে অনেক দোকানে।

২০ বছর ধরে এই ব্যবসা করছেন সান্তাহারের ধনুকার আসগর আলী। তিনি জানান, শীত এলেই কাজের চাপ বেড়ে যায়। এবার শীতের আগমনে লেপ-তোশক তৈরির অর্ডার ভালই পাচ্ছি। তাই কারিগরদের নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছি। তিনি জানান, তুলার মান ও পরিমানের ওপর নির্ভর করে লেপ তৈরির খরচ। একটি ডবল লেপ বানাতে চার-পাঁচ কেজি তুলা লাগে এবং খরচ পড়ে ১৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা। সিঙ্গেল লেপে খরচ পড়ে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। আর লেপ বানাতে সাধারনত কার্পাস তুলা ব্যবহার করা হয়। সাধারন তুলাও কেউ কেউ ব্যবহার করে।

ব্যবসায়ীরা জানান, শীতের মৌসুমে লেপ-তোশকের কদর বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায় তাঁদের ব্যস্ততা। শ্রমিকদের মজুরী, তুলার মূল্যসহ আনুষঙ্গিক কাঁচামালের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে লেপ-তোশকের মূল্য এ বছর বাড়বে বলে বিক্রেতারা জানান।

উপজেলা সদরের সড়কের পাশে ৮/১০ টা দোকানে লেপ-তোষক তৈরি হয়। এ ছাড়া উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নে লেপ-তোষকের দোকানে শীতের প্রকোপ বাড়ার সাথে বিক্রিও বেড়েছে।

উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরে রেলওয়ে প্লাটফর্মের পশ্চিম পাশে বেশ কয়েকটি লেপ-তোষকের দোকান। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এখানে লেপ-তোষক তৈরি হয়। জানা গেছে, একটি লেপ তৈরি করতে একজন কারিগরের সময় লাগে ১ ঘন্টা। এভাবে একজন কারিগর দিনে ৮ থেকে ১০টি লেপ তোষক তৈরির কাজ করে থাকেন। তবে লেপ-তোষকের কাজ হয় তিনমাস পর্যন্ত। তারাপর এরা অন্য পেশায় কাজ করে।

সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর সান্তাহার (বগুড়া) প্রতিনিধি মো. রবিউল ইসলাম (রবীন)। #

এইরকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর

ব্রেকিং নিউজ