ঢাকা প্রতিনিধি: সচিবালয়ে প্রবেশের বিষয়ে আমরা মিডিয়া হাউসকে টার্গেট করে এক বা একাধিক কার্ডের মাধ্যমে এটা সমাধান করার চেষ্টা করবো বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, অন্যায়ভাবে কেউ বাদ পড়ে গেলে আমরা নীতিমালার আওতায় অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডের সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেব। পাশাপাশি গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশে ডাটাবেইজ তৈরি করা হবে।
সোমবার (০২ মার্চ) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদলের সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মাসউদুল হক।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, আপনাদের এই পেশাগত দায়িত্ব পালন করার যে পরিবেশ এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমি মোটামুটি একটা পরিকল্পনা নিয়েছি তার মধ্যে একটা অংশ হচ্ছে আপনাদের এখানে এই ব্যবস্থাটা করা আরেকটা অংশ হচ্ছে যে সিকিউরিটি সিস্টেমটা এন্ট্রি সিস্টেমটা কীভাবে ইজি করা যায়। প্রথমে আমি আপনাদের এখান থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত পুরো অংশটাই আপনারাই ব্যবহার করবেন।
আমরা তৈরি করে দেব এবং ভেতরের সুযোগ-সুবিধাগুলো আপনাদের মধ্য থেকে প্রতিনিধি নিয়ে করব। যখন লেআউটটা করা হবে তখন আপনাদের প্রতিনিধি নিয়ে করব যাতে এখানকার অভ্যন্তরীণ সুযোগ সুবিধাগুলো আপনাদের চাহিদা মতো তৈরি করে দেওয়া যায়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সচিবালয়ের মধ্যে আপনাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করার যে প্রবেশ অধিকার এটাকেও সহজ সরল করা যায় কীভাবে সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছি। তো উনি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে কেবল কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন।
একটা ঘটনা ঘটেছে যে, অগ্নিসংযোগের দুর্ঘটনা আপনারা তো জানেন। তারপরেই বোধ হয় প্রধান উপদেষ্টার তরফ থেকে একটা নীতি আসছিল। তারপরে এক্সেস পাসের একটা শর্ত দেওয়া হয়েছে। যেটা এখনো আছে। এখনো বহাল আছে।
আমরা মোটামুটি চিন্তা করছি। আপনাদের মতামত নিয়েই চূড়ান্ত করব। এখনো চূড়ান্ত করতে পারিনি। আমরা চিন্তা করছি আপনাদের মধ্য থেকে দুই তিনজন প্রতিনিধি আপনারা ঠিক করে তাদের সঙ্গে আমরা পরামর্শ করব।
তিনি বলেন, সরকার হিসেবে আমাদের তো সব ধরনের সেবাই নিশ্চিত করতে হয়। এজন্য প্রত্যেকটি গণমাধ্যম সচিবালয়ের জন্য যদি নির্দিষ্ট প্রতিনিধি পাঠায়। সচিবালয়ের প্রবেশ অধিকারটা যদি গণমাধ্যমের মিডিয়া হাউজের মাধ্যমে ঠিকঠাক করা হয় তাহলে একদিকে চাপও কমলো। আরেকদিকে আপনাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করার বাইরে যারা অন্যান্যভাবে প্রয়োজন পড়ে, তারা অন্য সময় বা অন্য কাজে আসছেন কিন্তু গণমাধ্যমের কাজ করার জন্য যাতে তার নিজের মিডিয়া হাউস থেকেই তিনি যেন এই এখতিয়ারটা পান।
তথ্যমন্ত্রী স্বপন বলেন, সচিবালয়ে প্রবেশের বিষয়ে আমরা মিডিয়া হাউসকে টার্গেট করে এক বা একাধিক কার্ডের মাধ্যমে এটা সমাধান করার চেষ্টা করব। আমাদেরও তখন হিসেব করতে সুবিধা হবে যে সচিবালয় প্রবেশ করার জন্য আজকে কোন মিডিয়া হাউস কয়জনকে পাঠিয়েছে। তাহলে আমরাও একটা ডেটাবেজ মেনটেইন করতে পারবো।
অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডটা নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের যে কমিটি আছে তাদের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি যে নীতিমালার ভিত্তিতে এগুলো করা দরকার। সারাদেশেই তো কোনো নীতিমালার চর্চা নাই। আবার আমাদের প্রধানমন্ত্রী সব বিষয়ে এত বেশি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চলতে চাচ্ছেন। এজন্য আমাদের সবসময় খেয়াল রাখতে হচ্ছে যে, আমাদের লোক যেন কোনো বেনিফিট না নিতে পারে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, অ্যাক্রেডিটেশনের পুরো ব্যাপারটাকেই আমরা নীতিমালাটাকে আরও অনেক বেশি প্রয়োগযোগ্য করব। অবশ্যই এটা আপনাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেই করব। যদি এর কোনো ব্যত্যয় ঘটে থাকে তাহলে সেখানে আমরা সংশোধন আনবো। আর যদি কোথাও দেখা যায় যে, অন্যায়ভাবে কেউ বাদ পড়ে গিয়েছে তাকে আমরা নীতিমালার আওতায় অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডের সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেব।
সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর ঢাকা প্রতিনিধি মো. রাজু আহমেদ। #















