BTC News | বিটিসি নিউজ

আজ- মঙ্গলবার, ১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২রা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

আজ- ১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২০৩০ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ থেকে ১২ শতাংশ করার সুপারিশ

২০৩০ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ থেকে ১২ শতাংশ করার সুপারিশ

বিশেষ (ঢাকা) প্রতিনিধি: দেশের কর-জিডিপি অনুপাত কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় উন্নীত করার লক্ষ্যে কর কাঠামোর প্রয়োজনীয় পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ প্রণয়ন এবং দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অভ্যন্তরীণ এবং বহির্বাণিজ্য সহায়ক করনীতি প্রণয়নের উদ্দেশে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে করণীয় বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সুপারিশসম্বলিত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে পেশ করেছে জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত কমিটি।

প্রতিবেদনে ২০৩০ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কাঠামোগত পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের অনুপাত বর্তমান ৩০:৭০ থেকে ৫০:৫০ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তারের নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের জাতীয় টাস্কফোর্স প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করেন।

এসময় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদন দাখিলের সময় জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি ড. জায়েদী সাত্তারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।

উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি দ্রুততর ও টেকসই করতে হলে সরকারের নিজস্ব রাজস্ব আয় বৃদ্ধি অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে কর ব্যবস্থা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান কর কাঠামো নানা সীমাবদ্ধতায় জর্জরিত। এই প্রেক্ষাপটে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ রাজস্ব আদায় ও কর-জিডিপি অনুপাত গ্রহণযোগ্য মাত্রায় উন্নীত করার লক্ষ্যে গত বছরের ৬ অক্টোবর ড. জায়েদী সাত্তারের নেতৃত্বে ১১ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করা হয়।

কর-জিডিপি অনুপাত কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় উন্নীত করার লক্ষ্যে কর কাঠামোর প্রয়োজনীয় পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ প্রণয়ন এবং স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে করণীয় বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তৈরির জন্য টাস্কফোর্সকে এই বছরের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে আজ বিকাল ৫টায় জাতীয় টাস্কফোর্সের সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি দাখিল করেন।

প্রতিবেদনে, বাংলাদেশের কর ব্যবস্থাকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে জটিল, অদক্ষ এবং পরোক্ষ করের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সামান্য সংস্কার বা খণ্ডিত পরিবর্তনের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে কর ব্যবস্থার মৌলিক ও কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। ‘উন্নয়নের জন্য কর নীতি: কর ব্যবস্থার পুনর্গঠনের জন্য একটি সংস্কারমূলক কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে মোট ৫৫টি নীতিগত বিষয় চিহ্নিত করে সেগুলোর জন্য সুপারিশ প্রদান করা হয়েছে। প্রতিবেদনে অগ্রাধিকারভিত্তিক ৭টি নীতিগত বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়াও ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ, সহজ কর কাঠামো, প্রণোদনা পুনর্গঠন, ঝুঁকিভিত্তিক অডিট এবং বাণিজ্য কর থেকে সরে এসে দেশীয় করের দিকে কৌশলগত পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। শুল্ক কাঠামো আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে রফতানি ও আমদানির বিকল্প পণ্যের কার্যকর সুরক্ষা সমান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে আলাদা ভ্যালুয়েশন ডেটাবেজের প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে বন্দরের পরিবর্তে পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট প্রয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।

মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থায় বহু হারের পরিবর্তে একক হারের দিকে অগ্রসর হওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে।

প্রতিবেদন গ্রহণ শেষে কমিটির সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে সময় খুবই কম। আমরা এসব নীতির বাস্তবায়নের পথচলা শুরু করে যেতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “এই নীতিগুলো বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব আদায়ের খাত ও পদ্ধতি আরও স্পষ্ট হবে এবং এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি বড় নীতিগত পরিবর্তন আনবে।”

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “এই প্রতিবেদন আমাদের জন্য একটি গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির পাশাপাশি এ খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”

কমিটির প্রধান ড. জায়েদী সাত্তার বলেন, “গত এক দশকে আমাদের রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতি অত্যন্ত জটিল হয়ে গেছে। এসব পদ্ধতির সংস্কার ছাড়া রাজস্ব আদায়ের পরিসর বাড়ানো কঠিন।”

তিনি বলেন, “এই পদ্ধতিগুলো দ্রুত সংস্কার করা গেলে অর্থনীতিতে এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান বলেন, “এই প্রতিবেদনে সংকটগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলো নিরসনের পথনির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর বিশেষ (ঢাকা) প্রতিনিধি মো: ফারুক আহম্মেদ। #

এইরকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর

ব্রেকিং নিউজ
ডে-কেয়ার সেন্টারে ‘অন্যরকম’ সময় কাটালেন প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের চিফ হুইপের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ সমাজের প্রতিটি স্তরের অসমতা দূর করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের : স্পিকার ইউএনএইচসিআর ও ডব্লিউএফপির যৌথ উচ্চ পর্যায়ের মিশনের সঙ্গে বৈঠক: রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন ত্রাণমন্ত্রী আইএলও ও চীনা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে এলজিআরডি মন্ত্রীর বৈঠক ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে আগ্রহী বাংলাদেশ বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে চায় সিঙ্গাপুর জলঢাকায় ভুমিসেবা মেলা উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত মোরেলগঞ্জে দুইটি ইউনিয়নে উন্মুক্ত বাজেট সভা অনুষ্ঠিত রাসিকের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সভা অনুষ্ঠিত