BTC News | বিটিসি নিউজ

আজ- মঙ্গলবার, ১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

আজ- ১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

স্ত্রী-সন্তানদের ইতালী নেয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না মোক্তারের

স্ত্রী-সন্তানদের ইতালী নেয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না মোক্তারের

নাটোর প্রতিনিধি: অনেক চেষ্টায় ইতালীর নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন, বসবাসের জন্য কোটি টাকা খরচে কিনেছিলেন বাড়িও। সম্প্রতি ছুটিতে বাড়ি আসেন তিনি, স্বপ্ন ছিল স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে আবারও ফিরবেন সেদেশে। সেখানেই বসতি গড়বেন তাদের নিয়ে। কিন্তু সে স্বপ্ন আর পূরণ হলো না প্রবাসী মোক্তার সরকারের। কষ্টার্জিত অর্থে কেনা বাড়িতে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে স্বপ্নের বসতি গড়া হলো না তার।

মঙ্গলবার ভোরে আকস্মিক ভাবে মারা যান তিনি। তার এমন মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকা জুড়ে। স্ত্রী-সন্তানসহ স্বজনদের বুক ফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।

মোক্তার সরকার (৪৪) নাটোরের বড়াইগ্রামের জোনাইল ইউনিয়নের পারবোর্ণি গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।

জোনাইল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম রাসেল জানান, প্রায় ১০ বছর আগে ইতালী যান মোক্তার সরকার। সেখানে তিনি ইতালীর আরেক নাগরিকের সাথে যৌথ ভাবে একটি অটো মোবাইল সার্ভিস সেন্টার চালাতেন। কিছুদিন আগে তিনি সব শর্ত পূরণ করে ইতালীর নাগরিকত্ব লাভ করেন।

এরপর সেখানকার ফরমিয়া শহরে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বাড়ি কিনেন। ইচ্ছে ছিল স্ত্রী আর তিন মেয়েকে নিয়ে যাবেন সেখানে। এরপর সেখানেই বসবাস করবেন সবাই মিলে। সে অনুযায়ী পাসপোর্টসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও প্রস্তুত করা হয়েছিল।

গত ২১ জানুয়ারী তিনি ছুটিতে বাড়িতে আসেন। ছুটি শেষে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ফেরার কথা ছিলো ইতালীতে। কিন্তু তার আকস্মিক মৃত্যুতে সব স্বপ্ন ধূলিস্মাৎ হয়ে গেলো।

নিহতের স্ত্রী রত্না বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে তিনি বুকে তীব্র ব্যাথা অনুভব করেন এবং বমি করেন। পরে দ্রুত তাকে একটি বেসরকারী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কিছুক্ষণ পরই তিনি মারা যান। তিনি বলেন, আমার স্বামী নিজস্ব জমি বিক্রি আর ইতালীতে উপার্জিত অর্থ দিয়ে একটি বাড়ি কিনে ছিলেন। আমাদেরকেও নিয়ে যাবার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু তিনি এভাবে চলে যাবেন তা কল্পনাও করিনি। তার এমন মৃত্যুতে আমরা নি:স্ব হয়ে গেলাম।

নিহতের ছোট ভাই ফজল সরকার বলেন, আমার ভাইয়ের এদেশে আর তেমন কিছুই নেই। দেশে সব জমি বেচে আর নিজের উপার্জনের অর্থ দিয়ে সেখানে বাড়ি কেনাসহ ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছিলেন। এখন আমি ইতালীতে তার বাড়ি বিক্রিসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা অর্থ যেন আমার ভাবি-ভাতিজিরা পান সে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে করজোড়ে অনুরোধ করছি।

ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, বিষয়টি খুবই দু:খজনক। ভৃক্তভোগী পরিবার আবেদন করলে তাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা হবে।

সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর নাটোর প্রতিনিধি খান মামুন। #

এইরকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর

ব্রেকিং নিউজ
হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গ দেবে না ন্যাটো পোপকে নিয়ে ট্রাম্পের ‘অশালীন’ মন্তব্য, ক্ষেপলেন মেলোনি হরমুজে মার্কিন অবরোধ শুরু, ইরানি জাহাজ ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের ইরানের উপকূল থেকে ২০০ কিমি দূরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ও দুই যুদ্ধজাহাজ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি এরদোয়ানের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলার ঘোষণা পুতিনের ইরানে ফের হামলা করলে আবারও হারবে যুক্তরাষ্ট্র— তেহরানবাসীর বার্তা আইআরজিসির হুঁশিয়ারি: ইরানের বন্দর হুমকিতে পড়লে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধে সমর্থন দেবে না ব্রিটেন : স্টারমার মার্কিন নৌ-অবরোধের হুমকিকে ‘হাস্যকর’ বললেন ইরানের নৌবাহিনী প্রধান