বিটিসি স্পোর্টস ডেস্ক: প্রথমার্ধের ছন্দহারা লিভারপুল বিরতির পর পাল্টে গেল। অনেক লক্ষ্যহীন শটের মাঝে মুহূর্তের চমকে চমৎকার একটি গোল উপহার দিলেন দমিনিক সোবোসলাই। হারের শঙ্কায় পড়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল ম্যানচেস্টার সিটি। যোগ করা সময়ে আর্লিং হলান্ডের সফল স্পট কিকে জয়ও তুলে নিল তারা।
অ্যানফিল্ডে রোববার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ২-১ গোলে জিতেছে সিটি। বের্নার্দো সিলভার গোলে সমতায় ফিরেছিল তারা।
নাটকীয় জয়ে আর্সেনালের সঙ্গে ব্যবধান আবার ৬ পয়েন্টে নামিয়ে আনল পেপ গুয়ার্দিওলার দল।
২৫ ম্যাচে ১৫ জয় ও পাঁচ ড্রয়ে ৫০ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে সিটি। সমান ম্যাচে ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে চূড়ায় আর্সেনাল।
ষষ্ঠ স্থানে লিভারপুলের পয়েন্ট ৩৯।
প্রথম ২৫ মিনিটে একরকম কোণঠাসা হয়ে থাকে লিভারপুল। ব্যস্ত সময় কাটে তাদের রক্ষণ ও গোলরক্ষক আলিসনের। অন্যপাশে এই সময়ে একদমই নির্ভার ছিলেন সিটি গোলরক্ষক জানলুইজি দোন্নারুম্মা।
২৬তম মিনিটে লিভারপুলের গোলের জন্য প্রথম শট নিতে পারেন মোহামেদ সালাহ, একজনের পায়ে লেগে সেটা বাইরে যায়। ৩৩তম মিনিটে আরেকবার ভালো পজিশনে বল পেয়ে আলিসন বরাবর শট নেন হলান্ড।
৪২তম মিনিটে আরেকটি পাল্টা আক্রমণে ওঠে লিভারপুল এবং ডি-বক্সে সিলভার ধাক্কায় সালাহ পড়ে গেলে পেনাল্টির আবেদন ওঠে। রেফারির সাড়া যদিও পায়নি স্বাগতিকরা।
প্রথমার্ধে নিজেদের খুঁজে ফেরা ও তিনটি লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নিতে পারা লিভারপুল বিরতির পর যেন গা ঝারা দিয়ে মাঠে নামে। করতে থাকে একের পর আক্রমণ। তিন মিনিটের মধ্যে দারুণ পজিশন থেকে উগো একিটিকের দুটি প্রচেষ্টা লক্ষভ্রষ্ট হয়।
এরপর, ৭৪তম মিনিটে সোবোসলাইয়ের সেই দুর্দান্ত গোল। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে বুলেট গতির ফ্রি কিক নিলেন হাঙ্গেরির মিডফিল্ডার। বল হাওয়ায় বাঁক খেয়ে পোস্টে লেগে জালে জড়াল। জায়গায় দাঁড়িয়ে তাকিয়ে দেখলেন দোন্নারুম্মা।
চলতি মৌসুমে এই নিয়ে সরাসরি ফ্রি কিকে চারটি গোল করলেন সোবোসলাই। লিভারপুলের জার্সিতে ২০১২-১৩ মৌসুমের পর যা সর্বোচ্চ; সেই মৌসুমে পাঁচটি করেছিলেন লুইস সুয়ারেস।
নির্ধারিত সময়ের ছয় মিনিট বাকি থাকতে সিলভার দারুণ গোলে সমতায় ফেরে সিটি। হলান্ডের হেড পাস ছয় গজ বক্সের মুখে পেয়ে, স্লাইড ভলিতে আলিসনকে পরাস্ত করেন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার।
এবারের প্রিমিয়ার লিগে ২৫ ম্যাচে প্রথম জালের দেখা পেলেন সিলভা।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ডি-বক্সে মাথেউস নুনেসকে ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক ফাউল করলে পেনাল্টি পায় সিটি। এবং সফল স্পট কিকে দলকে এগিয়ে নেন হলান্ড।
প্রিমিয়ার লিগে তিন ম্যাচ পর জালের দেখা পেলেন নরওয়ের তারকা। আসরে ২৫ ম্যাচে তার মোট গোল হলো ২১টি।
সময় ফুরিয়ে আসছিল, তাই শেষ চেষ্টায় পোস্ট ছেড়ে আক্রমণে উঠে যান আলিসন। সেই সুযোগে মাঝমাঠ থেকে শটে বল জালে পাঠান হায়ান শেহকি। শেষ পর্যন্ত তা ব্যবধান না বাড়ালেও, বলের পিছু ছোটা হলান্ডকে পেছন থেকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন সোবোসলাই।
গোল উদযাপন ও নানা ঘটনায় সাত মিনিট যোগ করা সময়ের খেলা চলে ১৫ মিনিট পর্যন্ত। শেষের বাঁশি বাজতেই হতাশায় নুইয়ে পড়ে লিভারপুল, আর সিটি শিবিরে ফেরে শিরোপা লড়াইয়ে টিকে থাকার স্বস্তি। #















