আজ- মঙ্গলবার, ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

  করোনাকালে মরুভূমিতে বসিয়ে রাখা হয়েছে অসংখ্য বিমান       সবুজ বাংলাদেশ সুবর্ণচর শাখার ঈদপূর্ণমিলন ও পরিচিত সভা এবং বৃক্ষরোপন কর্মসূচি       তিস্তায় বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন       রাজ্যে লকডাউন’র দিন বদল, নতুন তালিকা প্রকাশ করল নবান্ন       করোনাকালে দেশের রেমিট্যান্স ও রিজার্ভে রেকর্ড       নেপালে আবারও ভূমিধসে ১০ জন’র মৃত্যু       ইংল্যান্ড দল’র ব্যাটিং কোচ’র দায়িত্ব পেলেন ট্রট       শান্তিতে নোবেলজয়ী জন হিউম’র প্রয়াণ       ভ্রমণ পিয়াসীদের পদচারণায় ৫ মাস পরে মুখরিত হয়ে উঠেছে রাজশাহীর চিড়িয়াখানা ও পদ্মাপাড়       নবীগঞ্জে করোনায় মারা গেলেন চিত্তরঞ্জন দাশ       উজিরপুরে মসজিদ কমিটিকে কেন্দ্র করে যুবলীগ সম্পাদকসহ আহত ৫       বাগেরহাটে ইয়াবাসহ দু’বোনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ       রাজশাহীতে লুকু-কালুর জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান, কালুসহ-১২ জুয়াড়ী আটক       নাগেশ্বরীতে শহীদ সাফাত সড়কের নামফলক উন্মোচন        উজিরপুরে জুয়াড়ী রফিক গণধোলাইয়ের শিকার       আফগানিস্তান কারাগারে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত-২১, আহত-৪৩    

লোভনীয় শীতকালের পিঠার ২৪টি বিটিসি রেসিপি

বিটিসি রেসিপি ডেস্ক: শীতের পিঠার রেসিপি নিয়ে আজকের আয়োজন। শীত মানেই শীতের পিঠা। বিকেলে কিংবা সকালের নাস্তায় শীতের পিঠার জুড়ি নেই। পিঠা পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুজে পাওয়া আমার কাছে মনে হয় কঠিন কাজ। তাইতো আজ নিয়ে এলাম ২৫ পদ শীতের পিঠার বিটিসি রেসিপি। কম খরচে ও খুব সহজেই ঘরেই তৈরী করতে পারেন এসকল পিঠা। যদিও সকল খাবারের মুল উপকরণ সাজসজ্জা বা ডেকরেশন। যাই হোক আর কথা না বাড়াই।

আসুন শিখে নেই মাজাদার শীতের পিঠার বিটিসি রেসিপি গুলো:

১. ভাপা পিঠা

উপকরণ:
সিদ্ধ চালের গুঁড়া ২ কাপ

ভেঙে নেওয়া খেজুরের গুড় ১ কাপ
নারিকেল কোরানো ১ কাপ
লবণ স্বাদমতো

প্রণালী: চালের গুঁড়িতে লবণ মিশিয়ে হালকা করে পানি ছিটিয়ে ঝুরঝুরে করে মেখে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, যেন দলা না বাঁধে। এবার বাঁশের চালনিতে চেলে নিন। ভাপা পিঠা বানানোর হাঁড়িতে পানি দিন। এবার মুখ ছিদ্র ঢাকনা বসিয়ে আটা দিয়ে আটকে দিন। যাতে বাষ্প বের হতে না পারে। চুলায় বসিয়ে জ্বাল দিন। পাতলা সুতার দুই টুকরা কাপড় ও ছোট দুটি বাটি নিন। এবার বাটিতে চালা চালের গুঁড়ি দিয়ে মাঝখানে গর্ত করে গুড় ও নারিকেল দিন। আবার চালের গুঁড়া দিয়ে ঢেকে দিন। এবার এক টুকরা পাতলা সুতির কাপড় ভিজিয়ে পিঠার বাটি ঢেকে উল্টে মুখ ছিদ্র ঢাকনার ওপর পিঠা রেখে সাবধানে বাটি খুলে পিঠা ঢেকে দিন। সিদ্ধ হলে পিঠা উঠিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

বি. দ্র. ভাপা পিঠা তাজা গুঁড়ি অর্থাৎ সঙ্গে সঙ্গে গুঁড়ি করে বানালে ভালো হয়। শুকনা গুঁড়ি দিয়ে বানালে অনেকক্ষণ আগে গুঁড়ি পানি ছিটা দিয়ে রেখে পরে বাঁশের চালানিতে চালতে হবে।

২. খেঁজুর রসে ভাপা পিঠা

ঘন খেজুরের রস আধা কাপ, পাতলা খেজুরের রস ২ কাপ, মিহি কুরানো নারকেল ১ কাপ, সেদ্ধ চালের গুঁড়া ২ কাপ, আতপ চালের গুঁড়া আধা কাপ, পানি ১ কেজি, পাতলা পরিষ্কার কাপড় ২ টুকরা, ভাপাপিঠার হাঁড়ি ও বাটি ১টি।

সেদ্ধ ও আতপ চালের গুঁড়া, লবণ ও ঘন রস আস্তে আস্তে দিয়ে মাখাতে হবে, যাতে পুরো মিশ্রণ ঝরঝরে থাকে। খেয়াল রাখতে হবে, যাতে চাকা না হয়ে যায়। তারপর একটা মোটা চালনিতে মিশ্রণটুকু চেলে নিতে হবে। এই মিশ্রণে হালকা হাতে নারকেল মেশাতে হবে। হাঁড়িতে পানি ফুটে উঠলে বাটিতে হালকা হাতে চেপে পিঠা বসাতে হবে। এবার বাটি কাপড়ে মুড়িয়ে ভাপে বসিয়ে চটজলদি কাপড় একটু ফাঁক করে বাটি উঠিয়ে দিয়ে আর একটি পিঠা তৈরি করতে হবে। বাটি ওঠাতে দেরি করলে পিঠা বাটিতে আটকে যাবে। সব পিঠা বানানো হলে ঠান্ডা করে ওপরে ঠান্ডা পাতলা রসে ভিজিয়ে রাখতে হবে।

৩. শাহি ভাপা পিঠা

সেদ্ধ চালের গুঁড়া ২ কাপ, পোলাওর চালের গুঁড়া ২ কাপ, খেজুরের গুড় দেড় কাপ, নারকেল কোরানো ২ কাপ, দুধের ক্ষীর ১ কাপ, মালাই ১ কাপ, কিশমিশ ২ টেবিল চামচ।

পিঠার হাঁড়িতে বাষ্প করতে হবে। চালের গুঁড়ায় স্বাদমতো লবণ ও পরিমাণমতো কুসুম গরম পানি এমনভাবে মেশাতে হবে যেন চালের গুঁড়া দলা না বাঁধে। চালের গুঁড়া বাঁশের চালনিতে চেলে নিতে হবে। গুঁড়ায় অর্ধেক নারকেল কোরানো মেশাতে হবে। একটি বাটিতে অল্প কিছু চালের গুঁড়া, কিছু নারকেল মাখানো চালের গুঁড়া, কিছু গুড় দিয়ে এর ওপর আবার নারকেল মাখানো চালের গুঁড়া দিয়ে দুধের ক্ষীর, পেস্তাবাদাম, কিশমিশ দিয়ে আবার কিছু চালের গুঁড়া মিশিয়ে এটি পাতলা ভেজা কাপড় দিয়ে ধরে গরম পিঠার হাঁড়ির মুখে রেখে বাটি উল্টে দিতে হবে। এরপর তা ঢেকে দিয়ে ১০-১২ মিনিট পর কাপড়সহ পিঠা তুলে কাপড় থেকে ছাড়িয়ে রাখতে হবে। পিঠার ওপর মালাই পেস্তাবাদাম কুচি দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করতে হবে।

৪. খোলা চিতুই

চিতুই পিঠার খোলায় সামান্য তেল মাখিয়ে খোলা খুব গরম করে দুই টেবিল চামচ গোলা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। ঢাকনার চারপাশে পানি ছিটিয়ে ৩-৪ মিনিট পর পিঠা তুলে গুড়ের সিরায় ভেজাতে হবে।

৫. দুধ চিতুই

চালের গুঁড়া ৪ কাপ, দুধ ১ লিটার, গুড় ২ কাপ, কোরানো নারকেল আধা কাপ।

প্রথমে দুধ জাল দিয়ে ঘন করে, আলাদা গুড়ের সিরা তৈরি করে রাখতে হবে। এবার হালকা গরম পানিতে গুঁড়া গুলে পাতলা গোলা তৈরি করে মাটির খোলায় কাপে করে গোলা দিয়ে পিঠা তৈরি করতে হবে এবং গুড়ের রসে ভেজাতে হবে।পিঠা ঠাণ্ডা হলে তার ওপর ঠাণ্ডা দুধ ঢেলে দিয়ে নারকেল ছড়িয়ে দিতে হবে।

৬. ডিম চিতই

ডিম- চারটা, চাল-এক কাপ, লবণ- এক চামচ, ফুটন্ত পানি-দেড় কাপ।

চালের গুড়া আড় ফুটন্ত পানি দিয়ে ব্লেন্ড করে একটি মাটির তাওয়া গরম করে তেল দিয়ে মুছে নিতে হবে। তারপর অল্প ব্লেন্ড করা চালের গোলা দিয়ে একটি ডিম ভেঙ্গে ও অল্প লবণ ছিটিয়ে ঢেকে দিতে হবে।

৭. সিদ্ধ কুলি পিঠা

আতপ চালের গুঁড়া ২ কাপ, খেজুরের গুড় পরিমাণমতো, কোরানো নারকেল ১ কাপ।

আতপ চালের গুঁড়া হালকা ভেজে পরিমাণমতো পানি দিয়ে কাই করে নতে হবে। কড়াইতে গুড় ও নারকেল একসঙ্গে চুলায় দিয়ে জ্বাল দিতে হবে। মিশ্রণটি শুকিয়ে আঠা আঠা হলে নামাতে হবে। খামির হাতে নিয়ে গোল গোল করে বেলে মাঝখানে পুর দিয়ে অর্ধচন্দ্রাকার দিয়ে মুখটি বন্ধ করে দিতে হবে। এভাবে সব পুলি পিঠা বানিয়ে ভাপে সিদ্ধ করতে হবে।

৮. ভাজা কুলি পিঠা

আতপ চালের গুঁড়া হালকা ভেজে পরিমাণমতো পানি দিয়ে কাই করে নিতে হবে। কড়াইতে গুড় ও নারকেল একসঙ্গে চুলায় দিয়ে জ্বাল দিতে হবে। মিশ্রণটি শুকিয়ে আঠা আঠা হলে খামির হাতে নিয়ে গোল গোল করে পাতলা করে বেলে মাঝখানে পুর দিয়ে হাফ সার্কেল করে সেপ দিয়ে মুখ বন্ধ করে দিতে হবে। গরম তেলে ছেড়ে মুচমুচে করে ভাজতে হবে।

৯. ঝাল কুলি

চালের গুঁড়া ৩ কাপ, পুরের জন্য হাড়ছাড়া মুরগির মাংস ২ কাপ, মরিচের গুঁড়া আধা চা চামচ, পেঁয়াজ কিউব করে কাটা ২ কাপ, কাঁচা মরিচ কুচি ৪-৫ টি, হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ, গুঁড়া দুধ ১ টেবিল চামচ, তেল পরিমাণমতো, দারুচিনি ২-৩ টুকরো, এলাচ ৩-৪ টা, পানি পরিমাণমতো, লবণ পরিমাণমত!

প্রথমে পুর তৈরি করার জন্য পেঁয়াজ তেলে ভেজে মাংসের কিমা ও সব মসলা দিয়ে ভূনা করে নিতে হবে। এবার পানিতে লবণ দিয়ে ভালোভাবে ফুটিয়ে তাতে চালের গুঁড়া দিয়ে খামির তৈরি করে ও এই খামির থেকে রুটি তৈরি করে তার ভেতর মাংসের পুর দিয়ে তেলে ভেজে নিতে হবে।

১০. তিলের পুলি

চালের গুঁড়া ২ কাপ, ঘি ২ টেবিল চামচ, লবণ পরিমাণমতো, নারকেল কোরানো ২ কাপ, সাদা তিল আধাকাপ, গুড় দেড় কাপ, পানি সোয়া এক কাপ।

লবণ, পানি ও ঘি একসঙ্গে চুলায় দিতে হবে। ফুটে উঠলে চালের গুঁড়া দিয়ে কাই বানাতে হবে। তিল শুকনা খোলায় টেলে নিতে হবে। গুড় ও নারকেল চুলায় দিয়ে জ্বাল দিতে হবে। চটচটে হলে তিল দিয়ে নামাতে হবে। খামির ১৬ ভাগ বা ইচ্ছামতো ভাগ করে প্রতি ভাগে বাটির মতো অর্ধচন্দ্রাকার বা ইচ্ছামতো আকার দিয়ে মুখ বন্ধ করে পুলি করতে হবে। ভাপে সেদ্ধ করে নিতে হবে।

১১, ছানার পুলি

ছানা ২৫০ গ্রাম, কনডেন্সড মিল্ক আধা টিন, ময়দা ৬-৭ টেবিল চামচ, বেকিং পাউডার আধা চা-চামচ, ভাজার জন্য তেল, সাড়ে তিন কাপ চিনি ও সাড়ে তিন কাপ পানি মিলিয়ে জ্বাল দিয়ে সিরা বানিয়ে নিতে হবে। ছানা, কনডেন্সড মিল্ক, ময়দা, বেকিং পাউডার এবং বড় ১ টেবিল চামচ ঘি মিলিয়ে খুব করে মেখে মোলায়েম ডো বানাতে হবে। ডো দিয়ে ছোট ছোট পুলি বানিয়ে হালকা গরম তেলে (অল্প আঁচে) সোনালি করে ভেজে সিরায় দিতে হবে। মাওয়া বা গোলাপ পাপড়ি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

১২. দুধপুলি

চালের গুড়া ২ কাপ, নারকেল ১ ভাগের ৪ কাপ, দুধ ২ কাপ, চিনি ১ কাপ, এলাচ কয়েকটি, পানি ২ কাপ।

পানি ও চালের গুড়া দিয়ে শক্ত ডো তৈরী করে নিতে হবে। এবার ছোট ছোট বা ২ বাই ২ রুটি বেলে ভিতরে নারকেল দিয়ে ছোট পুলি তৈরি করে চুলায় দুধ জ্বাল দিয়ে তাতে চিনি ও এলাচ সহ পুলি দিয়ে তুলে নামিয়ে নিতে হবে।

১৩. নারকেলের তিল পুলি

কুরানো নারকেল ২ কাপ ভাজা তিলের গুঁড়া আধা কাপ খেজুরের গুড় ১ কাপ আতপ চালের গুঁড়া ২ টেবিল চামচ এক চিমটি এলাচ গুঁড়া দারচিনি ২-৩টা,আতপ চালের গুঁড়া ২ কাপ পানি দেড় কাপ লবণ স্বাদমতো ভাজার জন্য তেল দুই কাপ

কুরানো নারকেলে গুড় দিয়ে ১৫-২০ মিনিট রান্না করতে হবে। একটু শক্ত হয়ে এলে এলাচ, তিল ও চালের গুঁড়া ছড়িয়ে আরও একটু রান্না করতে হবে। তেল উঠে পুর যখন পাকানোর মতো শক্ত হবে, তখন নামিয়ে ঠান্ডা করে লম্বাভাবে সব পুর বানিয়ে রাখতে হবে। এবার চালের গুঁড়া সেদ্ধ করে ভালোভাবে চুলার আঁচ কমিয়ে নাড়তে হবে, যাতে খামিরে কোনো চাকা না থাকে।

একটু ঠান্ডা হলে পানি ছিটিয়ে ভালো করে ছেনে রুটি বানাতে হবে। রুটির এক কিনারে পুর রেখে বাঁকানো চাঁদের মতো উল্টে পিঠে আটকে দিতে হবে। এবার টিনের পাত অথবা পুলিপিঠা কাটার চাকতি দিয়ে কেটে নিতে হবে। কিনারে মুড়ি ভেঙে ও নকশা করা যায়। গরম তেলে মচমচে করে ভাজতে হবে।

১৪. ক্ষীরে ভরা পাটি সাপটা

ক্ষীর- ২৫০ গ্রাম, চালের গুড়া- ১ কেজি
গুড়- ২৫০ গ্রাম, ময়দা- ১/৪ কাপ

গুড় ভেঙ্গে ১ কাপ পানিতে গুলে নিতে হবে। গুড়ি, ময়দা ও গুড় দিয়ে গোলা করতে হবে। কড়াইয়ে সামান্য তেল মাখিয়ে নিতে হবে। আধা কাপ গোলা কড়াইয়ে দিয়ে কড়াই ঘুরিয়ে গোলা ছড়িয়ে নিতে হবে। পিঠায় উপরের দিক শুকিয়ে গেলে এবং রুটির কিনারা কড়াই থেকে আলাদা হলে ১ টেবিল চামচ ক্ষীর পাশে রেখে রুটিটা মুড়িয়ে নিতে হবে।

১৫. কলার পিঠা

পাকা কলা ৪-৫টি, কাঠবাদাম গুঁড়া ৩ টেবিল চামচ, লবণ সামান্য, নারকেল কোরা ১-২ কাপ, খেজুরের রস পরিমাণমতো, সয়াবিন তেল (ভাজার জন্য) ১-২ কাপ, ঘি ১ চা-চামচ, চালের আটা ১-২ কাপ।

খেজুরের রস জ্বাল দিয়ে কলা চটকে নিয়ে লবণ, কাঠবাদাম গুঁড়া, নারকেল কোরা, ঘি ও চালের আটা দিয়ে মাখিয়ে একটু ঘন গোলা তৈরি করে নিন। এরপর ডুবো তেলে ভেজে নিন। ভাজা কলার পিঠা রসে দিয়ে ১০-১৫ মিনিট পর পরিবেশন করা যায়।

১৬. গাজর কপি পাটি সাপটা

চালের গুঁড়া সিকি কাপ, ময়দা ১ কাপ, খেজুরের রস ১ কাপ, গাজরকুচি ১ মুঠো, ফুলকপি ১ মুঠো, নারকেলের কোরা ২ মুঠো, চিনি ১ কাপ।

প্রথমে উপরের ১-৩ নং পর্যন্ত উপকরণগুলো সব দিয়ে গোলা তৈরি করতে হবে। তারপর ৪-৭ নং পর্যন্ত উপকরণগুলো সব মিলিয়ে জ্বাল দিয়ে পুর তৈরি করতে হবে। প্যানে সামান্য ঘি লাগিয়ে ১ হাতা করে গোলা দিয়ে পাটিসাপটা রুটি বানিয়ে তার মধ্যে পুর দিয়ে ভাঁজ করে নামিয়ে নিতে হবে। এভাবে সব বানিয়ে সার্ভিং ডিশে রেখে খেজুরের রস জ্বাল দিয়ে ঘন করে পিঠার ওপর দিয়ে দিতে হবে।

১৭. তেলেভাজা পিঠা অথবা পাকান পিঠা

চালের গুঁড়া আধা কেজি, খেজুরের গুড় ৫০০ গ্রাম, আটা এক পোয়া, তেল আধা কেজি।

খেজুরের গুড় আর এক গ্লাস পানি জ্বাল দিয়ে নিতে হবে। তারপর এতে চালের গুঁড়া ও আটা দিয়ে ঘন করে মিশাতে হবে। কড়াইতে তেল দিয়ে গরম হলে এক চামচ করে পিঠার গোলা ছেড়ে দিতে হবে। পিঠা ফুলে উঠলেই তৈরী হয়ে গেলো তেলেভাজা বা পাকান পিঠা।

১৮. সুন্দরী পাকান পিঠা

দুধ এক লিটার, নারকেল একটা (কুরানো), ময়দা এক কেজি, লবণ অল্প, তেল ভাজার জন্য। এক কেজি, পানি দুই কাপ, তেজপাতা দুইটা, দারচিনি দুইটা। একসঙ্গে জ্বাল দিয়ে সিরা বানাতে হবে।

দুধ জ্বাল দিয়ে ফুটে উঠলে মিহি বাটা নারকেল, লবণ ও ময়দা দিয়ে খামির তৈরি করতে হবে। ভাল করে মাখিয়ে পুরু করে বেলে বিস্কুট কাটার দিয়ে কেটে উপরে খেজুর কাঁটা অথবা ছুরি দিয়ে ডিজাইন করে সব পিঠা তৈরি করে ডুবোতেলে ভেজে সিরায় ডুবাতে হবে।

১৯. গোলাপ ফুল পিঠা

দুধ ২ কাপ ময়দা ৩ কাপ চিনি ৪ টেবিল চামচ লবণ সামান্য ঘি ২ টেবিল চামচ।সিরার জন্য-চিনি ৩ কাপ পানি দেড় কাপ দারুচিনি ২ টুকরা।

দুধ গরম হলে চিনি, লবণ, ময়দা দিয়ে কাই করে নিতে হবে। পরে ঠান্ডা হলে অল্প অল্প করে ঘি দিয়ে ভালো করে মথে রুটি বেলে দুই ইঞ্চি ব্যাসে গোল গোল করে কেটে গোলাপ তৈরি করতে হবে। এবার গরম ডুবোতেলে বাদামি রং করে ভেজে সিরায় ছাড়তে হবে।

২০. দুধে ভেজানো হাতকুলি

উপকরণ:
ঘন দুধ ২ লিটার
রান্না করা নারকেলের পুর ২ কাপ

খেজুরের গুড় মিষ্টি অনুযায়ী
পানি ১ কাপ

আতপ চালের গুঁড়া দিয়ে বানানো সিদ্ধ খামি ২ কাপ
কাজু কিশমিশ পরিমাণমতো

মাওয়া আধা কাপ
এলাচ গুঁড়া সামান্য

প্রণালী: হাতে ছোট ছোট পুরির আকারে খামির নিয়ে একটু গর্ত করে তাতে পুর ভরে ভালোভাবে আটকে মুখ বন্ধ করে দিতে হবে। পিঠার মুখ ভালো করে না আটকালে দুধে ভেজালে ভেঙে যেতে পারে। এভাবে সব পিঠা বানানো হলে চুলায় গুড়-পানি দিয়ে ১০ মিনিট ফোটাতে হবে। আস্তে আস্তে ঘন দুধ দিয়ে আরও দু-তিন মিনিট রেখে ধীরে ধীরে অল্প অল্প করে পিঠা ছড়িয়ে দিতে হবে। পিঠা সিদ্ধ হয়ে গেলে মাওয়া দিয়ে মাখাতে হবে। সুন্দর বাটি বা ডিশে বেড়ে ওপরে বাদাম ও কিশমিশ দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

২১. লাল পুয়াপিঠা

উপকরণ:
আতপ চালের গুঁড়া ৩ কাপ

মিহি করে বাটা নারকেল আধা কাপ
ময়দা ১ টেবিল-চামচ

বেকিং পাউডার আধা চা-চামচ
খেজুরের গুঁড় বা রস মিষ্টি অনুযায়ী

পানি পরিমাণমতো
ডিম ২টি
এক চিমটি লবণ এবং তেল ১ কাপ

প্রণালী: তেল ছাড়া সবকিছু মিশিয়ে অন্তত ৩০ মিনিট রেখে দিতে হবে। এবার তেল গরম হলে গোল চামচে গোলা নিয়ে একটা একটা করে ভেজে তুলুন।

২২. ঝাল সবজি ভাপা

উপকরণ:
ভাপা পিঠার চালের গুঁড়া

ধনেপাতা কুচি ১ কাপ
পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ

কাঁচামরিচ কুচি ১ টেবিল-চামচ
গাজর ৩/৪ কাপ
লবণ সামান্য

প্রণালী: ভাপা পিঠার নিয়মে চালের গুঁড়া ও পিঠার তৈরির হাঁড়ি তৈরি করে নিন। ধনেপাতা পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচ কুচি সামান্য লবণ দিয়ে মাখুন। ভাপা পিঠার নিয়মে চালের গুঁড়া ভেতরে ধনেপাতার পুর ভরে পিঠা বানিয়ে নিন। ভাপা পিঠার মতোই ভাপে পিঠা তৈরি করুন। এই পিঠা ভুনা মাংসের সঙ্গে গরম গরম খেতে মজা।

২৩. ঝিনুক পিঠা

উপকরণ:
আটা বা ময়দা পরিমাণ মতো
চিনি

নারিকেল কোরানো
সয়াবিনের তেল

এলাচ ও দারুচিনি
একটি তালপাখা

পদ্ধতি: প্রথমে একটি পাত্রে পরিমাণ মতো আটা বা ময়দার মধ্যে চিনি ও খুব অল্প পরিমাণ কোরানো নারিকেল দিয়ে পানি গরম করে সিদ্ধ করে নিন। তারপর সিদ্ধ করা ময়দা ঠাণ্ডা করে হাত দিয়ে ভালোভাবে পেস্ট করে ছোট ছোট লম্বা টুকরো করে রাখুন। এবার তালপাখা ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। শুকানো হয়ে গেলে সিদ্ধ ময়দার লম্বা করা টুকরাগুলো তালপাখার গোড়ার চিকন দিকে দিয়ে হাত দিয়ে চাপ দিন। দেখবেন পিঠাগুলো দেখতে একদম ঝিনুকের মতো দেখাবে। অন্য একটি পাত্র পানি, চিনি, এলাচ ও পরিমাণ মতো দারুচিনি নিয়ে হালকা গাঢ় করে চিনির সিরা তৈরি করুন। এবার আর একটি পাত্রে পরিমাণ মতো সয়াবিন তেল দিয়ে চুলায় আঁচ দিতে থাকুন। এবার তালপাখা দিয়ে তৈরি করা পিঠাগুলো ভাজুন। হালকা বাদামি রং হলে নামিয়ে চিনির সিরার মধ্যে চুবিয়ে অন্য পাত্রে রাখুন।

২৪. লবঙ্গ লতিকা পিঠা

উপকরণ:
ময়দা
চালের গুড়া

লবণ
দুধ

নারকেল
চিনি বা গুড়
লবঙ্গ ও তেল

প্রনালী: প্রথমে ময়দা, চালের গুড়া ও লবণ একসাথে নিয়ে পানি দিয়ে মাখিয়ে ময়ান করে নিন। তারপর দুধ জ্বাল দিয়ে নারকেল কোড়া চিনি বা গুড় দিয়ে জ্বালিয়ে পুর বানিয়ে নিন। এরপর রুটির মত গড়ে গোল করে কেটে ওর মধ্যে নারকেলের পুর দিয়ে চারদিক দিয়ে ভাঁজ করে মাঝখানে লবঙ্গ গেঁথে মুখ আটকে দিন। এবার গরম তেলে একটি একটি করে ডুবো তেলে ভেঁজে গরম গরম পরিবেশন করুন। #

বিভাগসমূহঃ বিটিসি রেসিপি

Comments are closed.