লালমনিরহাট প্রতিনিধি: উত্তরের জেলা লালমনিরহাটে তামাক চাষে নজিরবিহীন বৃদ্ধি দেখা গেছে। কম সময়ে অধিক লাভের আশায় তামাক চাষে ঝুকছে কৃষকরা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলায় প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে তামাক আবাদ হয়েছে, যা গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর ফলে খাদ্যশস্যের আবাদ কমে যাওয়ায় খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে জেলায় ৭ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়। পরবর্তী বছরগুলোতে তা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৫ হাজার ৫৭ হেক্টরে পৌঁছানোর পর চলতি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ হাজার হেক্টরে।
এক সময় ধান, গম, সরিষা, ভুট্টা, আলু ও বিভিন্ন শাকসবজির জন্য পরিচিত ছিল এ জেলা। কিন্তু টানা লোকসান, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সহজ ঋণ সুবিধার কারণে অনেক কৃষক তামাক চাষে ঝুঁকছেন। জেলা সদর থেকে তিস্তা নদী অববাহিকা হয়ে বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন তামাকের আবাদ চোখে পড়ছে।
স্থানীয় কৃষকরা বিটিসি নিউজকে জানান, তামাক কোম্পানিগুলো বিনামূল্যে বীজ, সহজ শর্তে ঋণ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ করছে। ফলে তুলনামূলক কম মূলধনে তামাক চাষ করা সম্ভব হওয়ায় তারা এ ফসলের দিকেই ঝুঁকছেন।
লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন আব্দুল হাকিম বিটিসি নিউজকে বলেন, তামাক চাষ ও তামাকজাত দ্রব্য সেবন মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে শ্বাসকষ্ট, স্ট্রোক ও ক্যানসারের মতো জটিল রোগ বাড়ছে। তামাক চাষের সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলোর মধ্যেও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন বিটিসি নিউজকে বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো যাতে সরাসরি কৃষকদের প্রভাবিত করতে না পারে, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারে মাটি ও পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। আমরা কৃষকদের নিরুৎসাহিত করতে সভা-সেমিনার ও উঠান বৈঠক করছি, কিন্তু অধিক মুনাফার আশায় তারা তামাক চাষেই ঝুঁকছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তামাকের লাগামহীন বিস্তার অব্যাহত থাকলে জেলার খাদ্যশস্য উৎপাদন কমে গিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে খাদ্যনিরাপত্তা, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক সংকটে পড়তে পারে।
সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর লালমনিরহাট প্রতিনিধি হাসানুজ্জামান হাসান। #















