BTC News | বিটিসি নিউজ

আজ- সোমবার, ১১ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

আজ- ১১ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাজশাহীতে সারের সংকট ও কালোবাজারি: বিপাকে কৃষকরা

রাজশাহীতে সারের সংকট ও কালোবাজারি: বিপাকে কৃষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলায় আমন মৌসুমকে সামনে রেখে তীব্র সারের সংকটে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও ডিলারদের দোকানে সার পাওয়া যাচ্ছে না, বরং একই সার খুচরা বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

গোদাগাড়ী উপজেলার ১নং ইউনিয়নের নবগ্রাম গ্রামের কৃষক মোঃ আরিফ রায়হান বিটিসি নিউজ বলেন, আমার আব্বা মোঃ আব্দুস শুকুর ৮১সাল থেকে কৃষি খামার পরিচালনা করছেন। তিনি তালিকাভুক্ত চাষিদের একজন। ৬৬বছর বয়সী এই খামাররি বলেন, চলতি মৌসুমে তিনি ২০ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েন। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে একই জমিতে ২৮ জাতের ধান, ভুট্টা তিন বিঘা জমিতে রোপণ করা হয়েছে কিন্তু সারের সংকটে নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ডিলারদের দোকানে সার পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে কালোবাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। একই গ্রামের কৃষক বাঁধন জানান, সরকারি নির্ধারিত দাম ১ হাজার টাকা হলেও ডিএপি সার কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৭৫০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়।

তানোর উপজেলার কৃষক আলিফ হোসেন বিটিসি নিউজ বলেন, এ দুই উপজেলার কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। তার অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশে কিছু ডিলার নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সার সরবরাহ করছেন, ফলে সাধারণ কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ডিলার ও কৃষি কর্মকর্তার যোগসাজশে কাগজে-কলমে সার বিক্রির হিসাব দেখানো হচ্ছে।

রাজশাহী নগরীর উপকণ্ঠ চব্বিশ নগরের এক কৃষক বিটিসি নিউজ জানান, দামকুড়া হাটের ইসলাম ট্রেডার্সে নিয়মিত সার পাওয়া যায় না। যদিও জেলা সার ডিলার সমিতির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে, তবে তারা কীভাবে সার ব্যবহার করছে তা স্পষ্ট নয়।

এদিকে জেলা বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম দাবি করেন, জেলায় সারের কোনো সংকট নেই। তিনি বলেন, উপজেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটিতে নিয়মিত প্রতিবেদন দেওয়া হয় এবং অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বিটিসি নিউজ বলেন, জেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই এবং চড়া দামে বিক্রির বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে ডিলারদের দোকানে টিএসপি ও ডিএপি সার পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ আমন মৌসুমের চারা রোপণের আগে প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৪০ কেজি ডিএপি সারের প্রয়োজন হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এপ্রিল মাসে বিসিআইসির ৮৯ জন ডিলারের জন্য ১২৫ মেট্রিক টন এবং বিএডিসির ১২১ ডিলারের জন্য ৪৮৩ মেট্রিক টন টিএসপি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডিএপি ও এমওপি সারেরও বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ রয়েছে। মার্চ মাসেও প্রায় একই পরিমাণ সার সরবরাহ করা হয়েছিল।

তবুও কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারদের দোকানে সার না পাওয়া গেলেও আশপাশের হাট-বাজারে তা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে সারের কালোবাজারি চললেও প্রতিকার মিলছে না বলে তারা জানান।

কৃষকদের দাবি, দ্রুত সারের সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং কালোবাজারি বন্ধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত না হলে আসন্ন আমন মৌসুমে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর নিজস্ব প্রতিনিধি মো. মাসুদ রানা রাব্বানী / রাজশাহী। #

এইরকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর

ব্রেকিং নিউজ
চীনের চার দফা প্রস্তাবে সমর্থন ইরানের নৌকা ও স্পিডবোট থেকে কোনো যাত্রী লঞ্চে উঠতে পারবে না : নৌমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে সরকার ঈদে গার্মেন্টসগুলো পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়া হবে : সড়কমন্ত্রী দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে এগোচ্ছে সরকার : সেতুমন্ত্রী অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচ্য নয় : প্রধানমন্ত্রী পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্ব গুরুত্ব সহকারে পালনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে বিশেষ কল্যাণ সভায় যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী “বিষমুক্ত আম উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারজাতকরণ” বিষয়ক সভা পরিপক্ক হলেই আম পাড়বেন চাষীরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাতিল ম্যাংগো ক্যালেন্ডার