ব্রেকিং নিউজ

আজ- বৃহস্পতিবার, ৩০শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং

শিরোনাম

  চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবি’র হেরোইন উদ্ধার       সকল প্রকারের রেনিটিডিন ঔষধ বিক্রি স্থগিত       র‌্যাবের অভিযানে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফেন্সিডিলসহ আটক ১       চাঁপাইনবাবগঞ্জে মডেল স্কুলের পিএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধণা       সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের দায়ে সু চি’র বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার আদালতে মামলা       শিশু শিক্ষা নিকেতনে পিএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধণা       ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইফা’র আলোচনা ও পুরস্কার বিতরন       লাদেন পাকিস্তানের হিরো ছিলেন : মোশাররফ       হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানায় তথ্য সংগ্রহে পুলিশের বাঁধা, ছেলের দায় পিতার ঘাড়ে        কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলো       লালমনিরহাটে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালিত       উজিরপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন       উজিরপুরে সিরাজুল ইসলামকে শোলক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্পাদক হিসেবে দেখতে চায় এলাকাবাসী       পাবনা ডিস্ট্রিক্ট কিন্ডারগার্টেন ঔনার’স এ্যাসোসিয়েশন’র আয়োজিত বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠিত       “মায়ের জন্য শিশু দুটির কান্না যেন থামছেই না”        আদমদীঘিতে ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার    

যৌতুক মামলায় জেল খাটা শিক্ষককে পদোন্নতি ও কারাগারে থাকাকালীন অনুপস্থিতিতেও বেতন ভাতা প্রদান

নীলফামারী প্রতিনিধি: যৌতুক মামলায় জেল খাটা এক প্রভাষককে পদোন্নতি দেওয়াসহ কারাগারে অবস্থানকালীন অনুপস্থিতির দিনগুলোতেও বেতন ভাতা প্রদান করা হয়েছে।

সে সাথে ওই শিক্ষককেই আবার অনিয়মতান্ত্রিকভাবে অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। যা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা সংক্রান্ত পরিপত্রের সম্পূর্ণ বিরোধী। তারপরও সকল নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে এমনটাই করা হয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সানফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজে।

প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি আমিনুল হক এক প্রকার গায়ের জোরেই এসব করেছেন। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তিনি এমন দূর্নীতি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তার দায়িত্বকালে প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত নানা অনিয়মের মধ্যে এটা একটি ঘটনা মাত্র। যা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার পরিবেশ চরমভাবে বিঘ্নিত করেছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা বিরোধী মনোভাব তৈরীতে বিরুপ প্রভাব বিস্তার করেছে।

এজন্য স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিবর্গ এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। নতুবা এ অবস্থা চলতে থাকলে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুন্ন হওয়াসহ ধারাবাহিক সাফল্য ধূলিস্যাত হয়ে যাবে।

জানা যায়, সানফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক (হিসাব বিজ্ঞান) মোঃ ফারুক আহম্মদ এর বিরুদ্ধে তার প্রথম স্ত্রী মোছাঃ তছলিমা নাছরিন বিগত ২০০৬ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল, নীলফামারী আদালতে একটি যৌতুক মামলা করেন।

মামলা নং ২৭৩/২০০৬, তারিখ- ২৮/৮/২০০৬ ইং। এই মামলার প্রেক্ষিতে তিনি ১৯/০৩/২০০৭ হতে ২২/০৪/২০০৭ পর্যন্ত মোট ৩৫ দিন জেলে ছিলেন। জেলে থাকাকালীন এই দিনগুলোতে নিয়মানুযায়ী বেতন কর্তন করার কথা থাকলেও তৎকালীন সভাপতি ও সাপ্তাহিক আলাপন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আমিনুল হক তার মাত্র ১০ দিনের বেতন কর্তন করে অবশিষ্ট দিনগুলোর বেতন ভাতা প্রদান করেন।

এ সময় তিনি প্রভাষক পদে ছিলেন। যৌতুক মামলায় জেল খাটার মত নৈতিক স্খলন জনিত অপরাধ করার পরও এবং সে জন্য বেতন কর্তন হওয়ায় তার পদোন্নতি হওয়া খুবই দুস্কর। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সভাপতির অনুগত ও সহযোগী পরবর্তী সভাপতি ছাইদুর রহমান সরকার (বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান) বিগত ২০/১২/২০১২ ইং তারিখে ওই প্রভাষককেই আবারও অনিয়মতান্ত্রিকভাবে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি প্রদান করেন।

নিয়মানুযায়ী জ্যেষ্ঠতাসহ এমপিও ভুক্তির তারিখ হতে ধারাবাহিকভাবে সন্তোষজনক চাকুরীকাল ৮ বছর লাগবে। কিন্তু স্ত্রীর যৌতুক মামলা জেলখাটা ওই প্রভাষকের চাকুরীকাল ছিল ৭ বছর ১০ মাস ২৫ দিন। তাছাড়া ৩৫দিন জেলে থাকায় চাকুরীর ধারাবাহিকতাও ছিলনা। তারপরও তাকেই করা হয় সহকারী অধ্যাপক। এক্ষেত্রেও নিয়মের কোন ধার ধারেনি কর্তৃপক্ষ।

এখানেই থেমে থাকেনি তাদের অনিয়ম দূর্নীতি।

বিধি মোতাবেক বেতন কর্তনের কারণে মোঃ ফারুক আহম্মদ এর সহকারী অধ্যাপক পদে সহকারী অধ্যাপক স্কেলে বেতন প্রাপ্য নয়। কিন্তু ২০১৩ সালের ফেব্র“য়ারী মাস থেকে সহকারী অধ্যাপক স্কেলে বেতন পাচ্ছেন তিনি। এতে রাষ্ট্রীয় টাকার অপচয় হচ্ছে। একইভাবে তার কণিষ্ঠ প্রভাষক হিসেবে থাকার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানের প্রধান বহিরাগমন/অনুপস্থিতি থাকাকালীন স্কুল এন্ড কলেজের ক্ষেত্রে সহকারী প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব থাকার কথা কিন্তু অত্র প্রতিষ্ঠানে এই কণিষ্ঠ বিতর্কিত সহকারী অধ্যাপক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকেন। যা আইনের পরিপন্থি।

এ ব্যাপারে ২০১১ সালে ৬ জুন প্রকাশিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে- লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কোন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ অবসর গ্রহণের কারণে শুণ্য হলে অথবা তিনি অসুস্থ হলে বা ছুটিতে থাকলে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান না করে অন্য কোন কণিষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে দায়িত্ব প্রদান করা হচ্ছে।

জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে বাদ দিয়ে কণিষ্ঠ শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ব্যাহত হয়। ফলে বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার পরিবেশ বিঘিœত হয়। উদ্ভুত প্রেক্ষাপটে সরকার প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে তাঁর দায়িত্বভার পালনের বিষয়ে নিম্নরুপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ‘বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক থাকা অবস্থায় তাঁকে ভিন্ন অপর কোন শিক্ষককে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার অর্পণ করা যাবে না। সহকারী প্রধান শিক্ষকের পক্ষে কোন কারণে দায়িত্ব গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ অসদাচরণ বলে গণ্য হবে।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক না থাকলে জ্যেষ্ঠতম সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার পালন করবেন।

জ্যেষ্ঠতম সহকারী শিক্ষক নির্বাচনের ক্ষেত্রে এমপিওভুক্তির তারিখ, একই তারিখে এমপিওভুক্তি হলে যোগদানের তারিখ এবং যোগদানের তারিখ একই হলে বয়সের দিক হতে বয়োজ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে দায়িত্ব প্রদান করতে হবে। একইভাবে একই বয়সের দু’জন হলে উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষককে জ্যেষ্ঠ গণ্য করা হবে।

এদিকে নীলফামারী জেলা জর্জ কোটের সিনিয়র আইনজীবি মোঃ কামরুল হক এ ব্যাপারে বিটিসি নিউজকে জানান যে, কোন শিক্ষক বা কর্মচারী বিনা অনুমতিতে ছুটিতে থাকলে এবং তার বেতন কর্তন হলে বা কোন শিক্ষকের ফৌজদারী আদালতে জেল জরিমানা হলে এবং এই জেল জরিমানার কারণে প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকলে তিনি বা তাঁরা জ্যৈষ্ঠতা ও চাকুরীর ধারাবাহিকতা হারাবেন এবং অননুমোদিত ছুটির কারণে অন্য শিক্ষক (সমপর্যায়ের শিক্ষক) জ্যৈষ্ঠতা প্রাপ্য হবেন।

এ ব্যাপারে মোঃ ফারুক আহম্মদ বিটিসি নিউজকে জানান, এবিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে পত্রিকায় লেখালেখি না করলে হয়না। ইতোপূর্বে এ সংক্রান্ত মামলা মিমাংসা হয়েছে। এরপরও যদি আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা হয় তাহলে সেই প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসময় তিনি বলেন, সংবাদ প্রকাশ হলে সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মীকে দেখা নেওয়া হবে।

সানফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ পদে অবৈধভাবে থাকা মোঃ মোখলেছুর রহমানকে তার মুঠোফোন ০১৭১৭০১২২৯৫ নম্বরে এবং সাবেক সভাপতি আমিনুল হক এর মুঠোফোন ০১৭১৮৩১৪২৮২ নম্বরে যোগাযোগ করতে বার বার কল করা হলেও তারা রিসিভ না করায় তাদের মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

অপর সাবেক সভাপতি ছাইদুর রহমান সরকারের সাথে কথা হলে তিনি বিটিসি নিউজকে জানান, পদোন্নতি ও তার বেতনের বিষয়ে সাবেক সভাপতি আমিনুল হক দায়িত্বে থাকাকালীন দেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে তিনিই ভালো বলতে পারবেন।

সৈয়দপুরের অনেক সচেতন ব্যক্তি এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্তব্য করেন যে, আমিনুল হক শুধু সানফ্লাওয়ার স্কুলেই দূর্নীতি অনিয়ম করেনি। তিনি বিভিন্নভাবে অবৈধ কাজ করেছেন। তার একতা প্রেস ও আলাপন অফিসটিও রেলওয়ের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে। সেসাথে তিনি সাংবাদিক হওয়ার সুযোগ নিয়ে সৈয়দপুরের বিভিন্ন মার্কেটে তার নিজের নামে দোকান বরাদ্দ নিয়েছেন বিনা পয়সায়। এক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে দুদকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের অনুসন্ধানী তদন্ত তথা অভিযান পরিচালনা করা খুবই প্রয়োজন।

এমতাবস্থায় সার্বিক পর্যালোচনা সাপেক্ষে দেখা যাচ্ছে যে, সানফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজে কর্তৃপক্ষ একের পর এক অনিয়ম করে ওই শিক্ষককে অবৈধ সুবিধা প্রদান করেছেন। যা দূর্নীতির সামিল এবং সরকার তথা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়মনীতির প্রতি চরম অবজ্ঞা। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে এমন অনৈতিক কাজ করা হয়েছে। যা আইনগতভাবে বিচারের মুখোমুখি করা একান্ত প্রয়োজন।

নতুবা এরকম অপকর্ম ধরাছোয়ার বাইরে থাকায় সমাজে এর একটা চরম বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হবে এবং একইভাবে অন্যরাও এমন অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার প্রতি ঝুকবে। যা প্রতিষ্ঠান, সমাজ বা দেশের জন্য কখনই হিতকর নয়। তাই এ ব্যাপারে প্রশাসন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ দ্রুততম সময়েই গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন সৈয়দপুরের সচেতন, দেশপ্রেমিক ও আদর্শ জনগণ।

সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর নীলফামারী প্রতিনিধি এম কে আনোয়ার। #

Comments are closed.