বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ১১তম দিনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এক নতুন ও চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার (১০ মার্চ) হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের ১৬টি মাইন স্থাপনকারী নৌযান ধ্বংস করার দাবি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে, যেখানে বিভিন্ন আকারের ইরানি জাহাজগুলোকে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিস্ফোরিত হতে দেখা যায়।
মার্কিন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের নৌবাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা। এই হামলার পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, তারা এই অঞ্চল থেকে শত্রুদের জন্য ‘এক লিটার তেলও’ রপ্তানি হতে দেবে না।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছেন যে, মঙ্গলবার ইরানে চালানো হামলাগুলো ছিল এযাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও তীব্র। তিনি জানান যে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ সংখ্যক যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমান ব্যবহার করে এই নিখুঁত হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালীতে যদি কোনো মাইন স্থাপন করা হয়, তবে ইরানকে এমন পর্যায়ের আঘাত করা হবে যা আগে কখনো দেখা যায়নি। যদিও তিনি পরবর্তীতে উল্লেখ করেন, এখন পর্যন্ত সেখানে মাইন পুঁতে রাখার কোনো নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্ববাজারের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহকারী এই কৌশলগত জলপথটি বর্তমানে ইরানের বাধার কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
সংঘাতের প্রভাব কেবল সমুদ্রপথেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এর আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে। গত সোমবার বাহরাইনের সিতরা এলাকায় এক ড্রোন হামলায় শিশুসহ অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন, যা নিয়ে বাহরাইনের যুবরাজ সালমান বিন হামাদ আল খলিফা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এ ছাড়া দক্ষিণ ইরানে একটি মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফুটেজ প্রকাশ পেয়েছে, যা যুদ্ধের শুরুতে ১৬৫ জনের প্রাণহানি ঘটানো একটি বিস্ফোরণস্থলের খুব কাছে আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে লেবাননের বৈরুতে হিজবুল্লাহর একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং তেহরানের প্রধান বাজারগুলোতে জনশূন্যতা ও স্থবিরতা লক্ষ্য করা গেছে।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও বেশ থমথমে। তেহরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোজতবার ছবি সংবলিত ব্যানার দেখা গেলেও যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে তিনি এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে উপস্থিত হননি।
বর্তমানে ইরানের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন এবং ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর নতুন করে হামলার হুমকি দিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থান এবং ক্রমাগত সামরিক আস্ফালন মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘমেয়াদী ও ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। #















