BTC News | বিটিসি নিউজ

আজ- বৃহস্পতিবার, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

আজ- ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যানবাহনের হর্নে অতিষ্ঠ রাজশাহী নগরী, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

যানবাহনের হর্নে অতিষ্ঠ রাজশাহী নগরী, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক: নগরায়নের প্রভাবে রাজশাহীতে শব্দ দূষণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। শনিবার নগরীর ব্যস্ততম রেইলগেট এলাকায় পরিচালিত এক পরিমাপে দেখা গেছে, শব্দের মাত্রা সরকারি সহনীয় সীমা ছাড়িয়ে গেছে বহুগুণ।

বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে এবং বারিন্দ এনভায়রনমেন্টের সহযোগিতায় পরিচালিত এই পরীক্ষায় সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত গড় সর্বোচ্চো শব্দমাত্রা পাওয়া যায় ১০০.৫ ডেসিবেল এবং বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০৩.৭ ডেসিবেলে। যেখানে বাংলাদেশের শব্দ দূষণ বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী বাণিজ্যিক এলাকায় দিনের বেলায় সহনীয় মাত্রা ৭০ ডেসিবেল।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, একই স্থানে ২০২২ সালে শব্দের গড় মাত্রা ছিল ৯০ ডেসিবেল, ২০২৩ সালেও ছিল ৯০ ডেসিবেল, ২০২৪ সালে ৯৬ ডেসিবেল এবং ২০২৫ সালে সর্বোচ্চো গড় ছিল ৯৭ ডেসিবেল। ধারাবাহিকভাবে শব্দ দূষণ বৃদ্ধির এই প্রবণতা নগরবাসীর জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিমাপ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন প্রকৌশলী ড. মোঃ জাকির হোসেন খান। তাকে সহযোগিতা করেন ড. অলি আহমেদসহ অন্যান্য গবেষক ও স্বেচ্ছাসেবীরা।

গবেষণায় দেখা গেছে, শব্দ দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ও যানবাহনের অতিরিক্ত হর্ন ব্যবহারের প্রবণতা দায়ী। বিশেষ করে টিটি হর্নের ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। এছাড়া বাসগুলোকে যত্রতত্র দাঁড়িয়ে হর্ন বাজাতেও দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অটোরিকশায় ভেপু হর্ন বাধ্যতামূলক করা, যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট লেন চালু করা এবং বাস স্টপেজ নির্ধারণ করলে অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহার কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে শহরে নির্দিষ্ট গতি সীমা নির্ধারণ করলে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এদিকে, জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (টঘঊচ)-এর ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে ঢাকাকে বিশ্বের সবচেয়ে শব্দ দূষণকারী শহর এবং রাজশাহীকে চতুর্থ স্থানে উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে রাজশাহীতে শব্দের মাত্রা ১০৩ ডেসিবেল হিসেবে দেখানো হয়।

চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, অতিরিক্ত শব্দের কারণে মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, অনিদ্রা, মানসিক অস্থিরতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, শব্দ দূষণের প্রভাব শুধু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; পশু-পাখি ও পরিবেশের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ ক্ষেত্রে গাছপালা শব্দ প্রতিরোধে কার্যকর ভ‚মিকা রাখতে পারে। রাজশাহীতে আম, জাম, নিম ও সজনে গাছের মতো পরিবেশবান্ধব বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে শব্দ ও বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।

বরেন্দ্র পরিবেশ উন্নয়ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা জানায়, তারা অতীতেও শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে লিফলেট বিতরণ ও মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি পরিচালনা করেছে এবং ভবিষ্যতেও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ অব্যাহত রাখবে।

সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর নিজস্ব প্রতিনিধি মো. মাসুদ রানা রাব্বানী / রাজশাহী। #

এইরকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর

ব্রেকিং নিউজ
শিক্ষকরাই দেশে সুশিক্ষিত নাগরিক গড়ে তুলতে পারেন — এমপি- মহিত তালুকদার আদমদীঘিতে মাদক কারবারির জেল-জরিমানা ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’, থাকবে সরকারি ছুটি ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার পরিবর্তনের চেয়ে মানসিকতার পরিবর্তন বেশি জরুরি : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সাক্ষাৎ সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সঙ্গে মা‌র্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক কসবায় ২২শত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ জামালপুরে অনলাইনে কবিরাজীর নামে প্রতারণা, ২৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ কন্টেন্ট ক্রিয়েটর গ্রেফতার বকশীগঞ্জে সাড়ে ১২শ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ