BTC News | বিটিসি নিউজ

আজ- সোমবার, ১১ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

আজ- ১১ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মিনুর সময়ে স্বাস্থ্যসেবায় স্বস্তি, ১৬ বছরে অবহেলায় ধুঁকছে নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র

মিনুর সময়ে স্বাস্থ্যসেবায় স্বস্তি, ১৬ বছরে অবহেলায় ধুঁকছে নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু দীর্ঘ ১৫ বছর দায়িত্বে থাকাকালে নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে যে অবদান রেখেছিলেন, তা আজও স্মরণ করছেন নগরীর সাধারণ মানুষ।

তার সময়ে রাজশাহীতে স্বল্প ব্যয়ে সাধারণ মানুষের জন্য যে সংগঠিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, গত ১৬ বছরে তা অবহেলায় প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ নগরবাসীর।

মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেন মিজানুর রহমান মিনু।

এরই অংশ হিসেবে তিনি নগরীর সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে নগর স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেন।

শুধু নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রই নয়, তার প্রচেষ্টায় উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নও বাস্তবায়িত হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মিনুর পর রাজশাহী নগরীতে সরকারি উদ্যোগে নতুন কোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা হাসপাতাল স্থাপিত হয়নি। বরং গত ১৬ বছরে বিদ্যমান নগর স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। নেই পর্যাপ্ত ওষুধ, নেই চিকিৎসক, হয়নি অবকাঠামো উন্নয়ন। ফলে এক সময় যে নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে পূর্ণাঙ্গ প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা মিলত, তা থেকে আজ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বঞ্চিত হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালে প্রথমবার রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন মিজানুর রহমান মিনু। দায়িত্ব গ্রহণের পর অনুন্নত ও অবহেলিত রাজশাহীতে স্বল্প ব্যয়ে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি ১৯৯৫ সালে নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ৩০টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও প্রথম পর্যায়ে ১৭টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হয়। এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র সিটি করপোরেশনের অধীনে পরিচালিত হতো।

তৎকালীন সময়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের আর্থিক সক্ষমতা সীমিত থাকলেও নগরবাসীর কথা চিন্তা করে রাসিক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনা করতো। এসব কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, ইপিআই টিকাদান, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন এবং বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হতো। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় এসব কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

রাসিক সূত্র জানায়, বর্তমানে রাজশাহী নগরীতে ১৭টি নগর স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থাকলেও এর মধ্যে ১৪টি সচল রয়েছে, বাকি তিনটি বন্ধ। তবে সচল কেন্দ্রগুলোর অবস্থাও নাজুক। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় জনবল, ওষুধ ও মানসম্মত সেবা না থাকায় কেন্দ্রগুলো কার্যত অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছে। সিটি করপোরেশন এসব কেন্দ্র পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছে, যা নিজেদের মতো করে কেন্দ্রগুলো পরিচালনা করছে।

নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশাপাশি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও রয়েছে মিজানুর রহমান মিনুর উন্নয়নের ছোঁয়া। এক সময় ৫৩০ শয্যার রামেক হাসপাতালে অধিকাংশ রোগী বেড না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়তেন। বিষয়টি অনুধাবন করে মিনু হাসপাতালের শয্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেন। তার প্রচেষ্টায় ২০০৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রামেক হাসপাতালকে ১ হাজার শয্যায় উন্নীত করেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের অভ্যন্তরে বহুতল ভবন নির্মাণের ভিত্তি স্থাপন করা হয়, যেখানে বর্তমানে মেডিসিন ও অর্থোপেডিকস বিভাগ পরিচালিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৬ বছরে রামেক হাসপাতালে নতুন কোনো বড় অবকাঠামো উন্নয়ন হয়নি, বাড়েনি শয্যা সংখ্যাও। যদিও এই সময়ে সদর আসনের সংসদ সদস্য হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা হযরত আলী বলেন, “শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ—এই তিন খাতে মিনু যে উন্নয়ন করে গেছেন, তার বাইরে গত ১৬ বছরে তেমন কিছু হয়নি। আগে নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই মানুষ সম্পূর্ণ চিকিৎসা ও ওষুধ পেত। এখন নেই ওষুধ, নেই সেবা।”

তিনি আরও বলেন, “মিনু সাধারণ মানুষের কথা বুঝতেন। পরিকল্পিত উন্নয়ন করতেন। সামনে নির্বাচনে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমি তাকে আবার এমপি হিসেবে দেখতে চাই।”

শুধু হযরত আলী নন, নগরীর বিভিন্ন এলাকার নবীন ও প্রবীণ নাগরিকদের অভিমত—টেকসই উন্নয়ন ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার জন্য মিজানুর রহমান মিনুর বিকল্প নেই। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নির্বাচিত হলে নগরবাসী আবারও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন পাবে—এমন প্রত্যাশাই সাধারণ মানুষের।

সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর নিজস্ব প্রতিনিধি ইফতেখার আলম (বিশাল) / রাজশাহী। #

এইরকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর

ব্রেকিং নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিলে হরমুজ প্রণালি পার হওয়া সহজ হবে না : ইরান পুলিশ বাহিনীতে চেইন অব কমান্ড ভাঙলে ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে বেশ কিছু নতুন বিশ্ববিদ্যালয় আসার পথে : শিক্ষামন্ত্রী উজিরপুরে ঔষধ কোম্পানির প্রতিবাদী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হাম-রুবেলা টিকাদানে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ, শতভাগ সফলতা অর্জন রাজশাহী মহানগরীতে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার-৩৬ রাজশাহীতে মাদকবিরোধী অভিযান: ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার-১ রাজশাহীতে যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ, ভাইরাল ভিডিওতে চাঞ্চল্য এই দীপিকা আর সেই দীপিকা নেই প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে বিড়ম্বনায় অভিনেত্রী