বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনিজুয়েলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এক বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ওপর থেকে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের পরপরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন রদ্রিগেজ।
গত বুধবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ তাদের ‘স্পেশাললি ডেজিনেটেড ন্যাশনাস’ (SDN) তালিকা থেকে ডেলসি রদ্রিগেজের নাম সরিয়ে নেয়। এর ফলে তিনি এখন থেকে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে বাণিজ্যিক লেনদেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তার সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ভেনিজুয়েলার গণতন্ত্র ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে রদ্রিগেজ ও তার ভাই হোর্হে রদ্রিগেজের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।
তবে চলতি বছরের শুরুতে এক নাটকীয় অভিযানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো মার্কিন বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর দৃশ্যপট পাল্টে যায়।
মাদুরো বর্তমানে মাদক পাচারের অভিযোগে নিউ ইয়র্কে বিচারাধীন। মাদুরোর পতনের পর রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী কালীন দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা শুরু করেন।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে ডেলসি রদ্রিগেজ নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে একে ‘দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে বড় পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তিনি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে বলেন, “আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে মূল্য দিই। এটি আমাদের দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের একটি নতুন সুযোগ তৈরি করবে।”
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, এই অগ্রগতির ফলে ভেনিজুয়েলার ওপর আরোপিত অন্যান্য অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও পর্যায়ক্রমে তুলে নেওয়া হবে, যা দেশটির বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভেনিজুয়েলার বিশাল তেল খনিগুলোতে মার্কিন বিনিয়োগ নিশ্চিত করতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই নমনীয় নীতি গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘পিডিভিএসএ’ (PDVSA)-কে সরাসরি মার্কিন বাজারে তেল বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ওয়াশিংটন এখন ভেনিজুয়েলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য রদ্রিগেজকেই মূল অংশীদার হিসেবে দেখছে। মার্কিন জ্বালানি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সচিবরা সম্প্রতি কারাকাস সফর করেছেন এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।
রদ্রিগেজ ও ট্রাম্পের এই ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ সম্পর্ক লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে বলে মনে করা হচ্ছে। #















