বিটিসি স্পোর্টস ডেস্ক: ক্রীড়াঙ্গনে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব ক্রমেই আরও প্রকট হচ্ছে। বিশেষ করে আসছে ফুটবল বিশ্বকাপে ইরান খেলবে কী না, খেললে কোথায় খেলবে এবং তাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নানারকম মন্তব্যের জের ধরে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হচ্ছে।
এর মধ্যে ইরানের ফুটবল প্রধান মেহদি তাজ আরও একবার জোর দিয়ে জানিয়ে দিলেন, তারা কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে যাবে না।
বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইচ্ছা অবশ্য তাদের নেই, পরিষ্কার করেছেন তাজ। বিশ্বকাপের লক্ষ্যে ইরান জাতীয় দল পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তুতিও নিচ্ছে।
চার-জাতি আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্টে আগামী ২৭ মার্চ নাইজেরিয়ার বিপক্ষে এবং চার দিন পর কোস্টা রিকার বিপক্ষে খেলবে ইরান। এই টুর্নামেন্টটি হওয়ার কথা ছিল জর্ডানে; তবে মধ্যপ্রাচে যুদ্ধের কারণে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে তুরস্কে।
বিশ্বকাপের আগে দল গুছিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে এবং এই দুই প্রীতি ম্যাচ খেলার বিষয়ে মেহদি তাজ বুধবার ফার্স বার্তা সংস্থায় নিজেদের পরিকল্পনা জানান। “জাতীয় দল তুরস্কে একটি ক্যাম্প করছে এবং আমরা এখানে দুইটি প্রীতি ম্যাচও খেলব।”
“আমরা আমেরিকাকে বয়কট করব, কিন্তু বিশ্বকাপ বয়কট করব না।”
বাছাই পেরিয়ে আগামী জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া প্রথম দলগুলোর একটি ইরান। এবার টানা চতুর্থবারের মতো এই মঞ্চে অংশ নেওয়ার হাতছানি তাদের সামনে।
তবে, ঘটনা নতুন ও অনাকাঙ্ক্ষিত মোড় নেয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে অতর্কিত হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ উচ্চপদস্থ অনেক কর্মকর্তা প্রাণ হারান।
সেই থেকে প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলসহ আশেপাশে দেশগুলোয় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান। সময়ের সঙ্গে যা আরও তীব্র হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা শুরু হয়। তবে কিছুদিন আগে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ‘তার সঙ্গে ট্রাম্পের আলোচনার’ সূত্র ধরে জানান, ইরান দলকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে হবে ৪৮ দলের বিশ্বকাপ। তবে গ্রুপ পর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচই হওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রে। প্রথম দুটি ম্যাচ হবে লস অ্যাঞ্জেলসে এবং পরেরটি হবে সিয়াটলে।
ইনফান্তিনোর ওই মন্তব্য নিয়ে আলোচনা শুরুর পরই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বিশ্বকাপে ‘না খেলার’ ঘোষণা দেন ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী।
“এই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার (যুক্তরাষ্ট্র) আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে, সেটা বিবেচনা করে কোনো অবস্থাতেই আমরা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারি না।”
তবে এ বিষয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ট্রুথ সোশ্যালে আরেকটি পোস্ট করেন ট্রাম্প এবং এরপরই ঘটনা দ্রুত নতুন মোড় নেয়। ফিফার প্রথম শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ট্রাম্প লেখেন, “ইরান জাতীয় ফুটবল দলকে বিশ্বকাপে স্বাগতম।
তবে আমি সত্যিই বিশ্বাস করি না যে, তাদের নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য এখানে আসা ঠিক হবে।”
তার অমন মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে তাজ বলেন, “যখন ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তিনি ইরান জাতীয় দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন না, তাহলে আমরা অবশ্যই আমেরিকায় যাব না।”
জটিলতা দূর করতে ইতোমধ্যে এগিয়ে এসেছে মেক্সিকো। ইরানের সবগুলো ম্যাচ নিজেদের দেশে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক দেশটি।
আর এখানেই তৈরি হয়েছে আরেক বিতর্ক, যার দায় আছে ফিফারও। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থার এক মুখপাত্র সম্প্রতি জানান, সূচিতে কোনোরকম পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নেই তাদের।
সংস্থাটি এমন অবস্থান ধরে রাখলে, চলমান জটিলতা দ্রুতই হয়তো নতুন মোড় নিবে। #















