BTC News | বিটিসি নিউজ

আজ- শনিবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৫ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি

আজ- ৬ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

বিলুপ্তির পথে বরগুনার টেংরাগিরি বন

বিলুপ্তির পথে বরগুনার টেংরাগিরি বন

বরগুনা প্রতিনিধি: উপকূলের তীব্র ঢেউ ও ক্রমবর্ধমান ভাঙনের কারণে বরগুনার টেংরাগিরি সংরক্ষিত বন দ্রুত বিলুপ্তির পথে। গত কয়েক বছরে প্রায় দুই হাজার একর বনভূমি বঙ্গোপসাগরে বিলীন হয়ে গেছে এবং শত শত কোটি টাকার বনসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, অব্যাহত ভাঙনরোধী পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে বনের অস্তিত্বই হারিয়ে যেতে পারে।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬০ সালে বরগুনার টেংরাগিরি বনকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করে।

স্থানীয়ভাবে ‘ফাতরার বন’ নামে পরিচিত এই বনটির আয়তন ১৩,৬৪৭ একর। বনের পূর্বদিকে কুয়াকাটা, মহিপুর ও আন্দারমানিক নদী, পশ্চিমে লালদিয়া, কুমিরমারাচর, পায়রা ও বিষখালী নদীর মোহনা, উত্তরে সোনাকাটা, নিশানবাড়িয়া ও সখিনা খাল এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। স্বাসূলীয় গাছের আধিক্যের কারণে এটি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় একটি স্থান।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, বঙ্গোপসাগরের ঢেউয়ের তীব্র আঘাতে বনের বিরাট অংশের গাছ উপড়ে মাটিতে পড়ে আছে। ভাটার সময় এসব গাছ দেখা গেলেও জোয়ারে সেগুলো সাগরে হারিয়ে যায়। বনভেতরে প্রায় ৫০০ মিটার এলাকায় গাছের গোড়ার মাটি সরে গেছে এবং এগুলো যেকোনো সময় উপড়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়রা দাবি করেন, বছরজুড়ে কোটি টাকার বনসম্পদ সাগরে ভেসে যাচ্ছে। বনভূমি সঙ্কোচনের পাশাপাশি বনদস্যুদের কার্যক্রমও আশঙ্কাজনক।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, একশ্রেণির অসাধু চক্র দিনের বেলায় গভীর বনে গাছ কেটে রাতের অন্ধকারে ট্রলারে করে পাচার করছে। এসব গাছ ইটভাটা ও কাঠবাজারে বিক্রি হচ্ছে। উপড়ে পড়া গাছও তারা অবৈধভাবে নিয়ে যাচ্ছে।

২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ এবং ২০০৯ সালের ‘আইলা’র আঘাতে বনটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এরপর থেকে ভাঙনের হার কয়েকগুণ বেড়েছে। ধুন্দল, কেওড়া, গেওয়া, হেতাল ও রেন্ট্রি প্রজাতির গাছ ইতোমধ্যেই নষ্ট হয়েছে।

পটুয়াখালী বিভাগীয় সহকারী বন সংরক্ষক মো. আমির হোসেন জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিনষ্ট হওয়া গাছগুলো সরানো হচ্ছে না। এই মরা গাছগুলো ঢেউয়ের প্রভাব যাতে উপকূলে না পড়ে তার জন্য বনের ভিতর রাখা হয়। তবে অসাধু ব্যক্তিরা যে বন উজাড় করছে এ ব্যাপারে আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই। যদি কোন অভিযোগ পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

তিনি আরো জানান, টেংরাগিরি বনের ভাঙনরোধে নতুন করে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সাগরের ঢেউ আছড়ে পড়া কমাতে ঝাউসহ অন্যান্য প্রজাতির গাছ ঘন করে লাগানো হচ্ছে।

পরিবেশকর্মীরা বলছেন, বন বিলীন হলে উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে। তারা টেকসই তটরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও নজরদারি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় বনটি রক্ষা করতে এখনই জরুরি সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর বরগুনা প্রতিনিধি মো. শফিকুল ইসলাম শফিক। #

এইরকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর

ব্রেকিং নিউজ
দেশে উৎপাদিত চিনি গুদামে মজুত থাকলে আমদানি করা হবে না : শিল্প উপদেষ্টা ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত বিএনপি : রিজভী বিয়ে নিয়ে প্রথমবার প্রশ্নের জবাব দিলেন রাশমিকা তাসনিয়া ফারিণ গান শুরু করেন টেলর সুইফট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত রোগমুক্তি কামনায় হামজারবাগ জামে মসজিদে দোয়া জামালপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত রাজশাহীতে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় ১৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির দোয়া মাহফিল বেগম জিয়ার সুস্থ্যতায় দেশবাসী কাঁদছে এবং আল্লাহর নিকট দোয়া করছে : মিনু রাজশাহীতে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় চন্দ্রিমা থানা বিএনপির দোয়া মাহফিল ইসরাইলকে অংশগ্রহণের অনুমতি, ইউরোভিশন বয়কট করছে স্পেনসহ ৪ দেশ