বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড কংগ্রেসে উপস্থাপিত ২০২৬ সালের হুমকি মূল্যায়নে পাকিস্তানকে রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া ও ইরানের সঙ্গে এমন পাঁচটি দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যাদের উন্নতমানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
তিনি জানিয়েছেন, এসব দেশ এমন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা উন্নয়ন করছে, যা পারমাণবিক ও প্রচলিত—উভয় ধরনের ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে আঘাত হানার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
পাকিস্তানের ক্ষেত্রে গাবার্ড বলেন, তাদের দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভবিষ্যতে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) পর্যন্ত উন্নীত হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা রাখবে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান অবস্থায় পাকিস্তানের সর্বোচ্চ কার্যকর ক্ষেপণাস্ত্র শাহীন-৩ মিসাইল, যার পাল্লা প্রায় ২৭৫০ কিলোমিটার। এতে ভারতের পুরো ভূখণ্ডকে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম।
আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, আইসিবিএম বলতে ৫৫০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রকে বোঝানো হয়, যা পাকিস্তানের বর্তমানে নেই।
যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের দূরত্ব প্রায় ১১২০০ কিলোমিটার হওয়ায়, এখনো কোনো দেশের পক্ষে পাকিস্তান থেকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানা সম্ভব নয়—এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বে বর্তমানে মাত্র কয়েকটি দেশ—যেমন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য—সম্পূর্ণ সক্ষম আইসিবিএম ধারণ করে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
তবে দেশটির সাবেক কর্মকর্তারা এই বক্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন, পাকিস্তানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি মূলত ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ নিশ্চিত করার জন্যই তৈরি। #















