নেতানিয়াহু কি আইসিসির ‘কাঠগড়ায়’ দাঁড়াচ্ছেন?

 

বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজায় চলমান যুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) অভিযোগ রয়েছে। এতে দেশটির সরকার প্রধান বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার সরকারের অন্য সিনিয়র কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে বেশ উদ্বেগের মধ্যে আছে সরকার।
ধারণা করা হচ্ছে, নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আইসিসির সন্দেভাজনদের তালিকায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, তার মন্ত্রিসভার সদস্য ও দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেনারেলরাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারেন।
যদিও আইসিসি এখনো জানায়নি যে, তারা এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবছে কি-না। তবে নেতানিয়াহু এটকে বেশ গুরুতর বিষয় হিসেবেই দেখছেন। গত ৩০ এপ্রিল তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যেকোনো পরোয়ানা বিক্ষোভ সৃষ্টি করবে।’ অন্যদিকে, আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটর করিম খান সতর্ক করে বলেছেন, আদালতের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধ নেয়ার’ হুমকি তার নিরপেক্ষতাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
আইসিসির ‘গ্রেফতারি পরোয়ানা’ ও এর ‘পরিণতি’ 
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় চলমান যুদ্ধে ইসরাইলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ইসরাইল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে কি না, তা নিয়ে নিষ্পত্তিমূলক শুনানি পরিচালনা করেছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। তবে, আইসিসি আইসিজের মতো দেশ নয়, ব্যক্তিকে নিয়ে কাজ করে।
গত দুই দশকের ইতিহাসে আইসিসি যাদের অভিযুক্ত করেছে, তাদের সংখ্যাও কম নয়। ৫৪ জনের এই দীর্ঘ তালিকায় রয়েছে লিবিয়ার অত্যাচারী শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি। ২০১১ সালে মৃত্যুর পাঁচ মাস আগে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। আরও আছেন ওমর আল-বশির, সুদানের সাবেক এক স্বৈরশাসক। ২০০৯ সালে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন; কিন্তু এখনো তিনি আইসিসির ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত আছেন। 
এছাড়া গত বছরের মার্চ মাসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। তার ‍বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অবৈধভাবে ইউক্রেনের শিশুদের নির্বাসিত করছেন।
ইসরাইলের আইনি কর্মকর্তাদের সন্দেহ, গাজায় মানবিক সরবরাহে বাধা দেয়ার বিষয়টি তদন্ত করছে আইসিসি। কারণ আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর দাবি, উপত্যকাটির কিছু অংশ চলমান এ সংঘাত ও ত্রাণ প্রবেশে বাধা দেয়ার কারণে দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে। যার ফলে আইসিসি বিষয়টিকে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ’ ও ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।
এমন অভিযোগ আংশিকভাবে কয়েকজন ইসরাইলি মন্ত্রীর বিবৃতির ওপর ভিত্তি করে হতে পারে। কারণ গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস হামলা চালানোর পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছিলেন, গাজায় সবকিছুর সরবরাহ বন্ধ করে উপত্যকাটিকে পুরোপুরি অবরুদ্ধ করা উচিত।
এদিকে, ইসরাইল রোম সংবিধিতে স্বাক্ষরকারী নয়, যা আইসিসিকে ক্ষমতা দেয়। যার ফলে, ইসরাইল তার কর্মকর্তাদের বিচারের জন্য হস্তান্তর করবে — এমন সম্ভাবনা কম। তবুও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে, ইসরাইলকে তা একটি আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে ফেলবে বলে মনে করেন এক ইসরাইলি কর্মকর্তা। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে তাদের বিদেশি অংশীদারদের যোগাযোগও বেশ জটিল হয়ে উঠবে। এছাড়াও আইসিসির সদস্য এমন ১২৪টি দেশে ভ্রমণ করলেও তারা গ্রেফতার হতে পারেন।
এক কথায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির হুমকি বেশ শক্তিশালী হতে পারে। আর এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার ভয়ে ইসরাইলি কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে গাজায় ত্রাণ সহায়তা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। রাফা শহরে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েও তা বিলম্বিত করার এটিও একটি কারণ। তারপরও গত ৭ মে ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা রাফা ক্রসিং নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
তবে ইসরাইলের অনেক সমর্থকের যুক্তি, আইসিসির হস্তক্ষেপ ‘অযৌক্তিক’। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, সরকারকে জবাবদিহি করার জন্য ইসরাইলের নিজস্ব স্বাধীন বিচার বিভাগ রয়েছে। পাঁচটি মানবাধিকার সংস্থার একটি পিটিশনে বর্তমানে ইসরাইলের হাইকোর্টে শুনানি চলছে, যা সরকারকে গাজায় আরও ত্রাণ সরবরাহের অনুমতি দেয়।
গত ৩ মে আবেদনকারীরা যুক্তি দিয়েছিলেন, ইসরাইল সরকার আগের শুনানিতে যে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা পূরণ করছে না। তারা যদি ইসরাইলি আদালতের রায় মানতে না পারে, তাহলে তাদের শিগগিরই আন্তর্জাতিকভাবে জবাবদিহি করতে হবে। #
 

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.