বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় কাদুনা রাজ্যের চারটি গ্রামে গত তিন দিন হামলা চালানো হয়েছে। এ সব হামলা চলাকালে অন্তত ৫১ জনকে অপহরণ করা হয়েছে ও তিনজন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে।
হামলাগুলো হয়েছে রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে। এলাকাটি খ্রিস্টান প্রধান। জানুয়ারিতে এখানে গির্জায় হামলার সময় ১৮০ জনের বেশি মানুষকে অপহরণ করা হয়।
শনিবার স্থানীয় সরকারের কাজুরু এলাকায় সশস্ত্র ব্যক্তিরা এক যাজকসহ ১১ জনকে অপহরণ করে।
এই দিন কাছাকাছি আরেকটি হামলায় তিন জন নিহত হন। একই ঘটনায় স্থানীয় মসজিদের এক ইমাম ও চার মুসল্লিসহ ৩৮ জনকে অপহরণ করা হয়।
এর আগের দিন, কাজুরু এলাকার মারোতে যাওয়ার সড়কে দুই জনকে অপহরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার মারোতে হামলাকারীরা ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালায়। তবে সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা জানানো হয়নি।
এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এ সব হামলার দায় স্বীকার করেনি।
২০২৫ সালের শেষ দিকে ধারাবাহিক গণ-অপহরণ নাইজেরিয়ার উদ্বেগজনক নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ওই সময়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং একই সঙ্গে সামরিক ও পুলিশ সদস্য নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়।
সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য পশ্চিম আফ্রিকার দেশটিকে সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খ্রিস্টানদের ‘নির্যাতন’ চলছে বলে অভিযোগ করেন।
তবে অধিকাংশ পর্যবেক্ষকের মতে, জিহাদি গোষ্ঠী ও অপরাধী চক্র হত্যা ও অপহরণ খ্রিস্টান ও মুসলমান নির্বিশেষে উভয়কে লক্ষ্য করেই চালানো হয়।
লাগোস ভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসবিএম ইন্টেলিজেন্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নাইজেরিয়ায় অপহরণ একটি ‘সংগঠিত ও লাভজনক শিল্পে’ পরিণত হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এই অপহরণের মাধ্যমে প্রায় ১৭ লাখ ডলার আয় করা হয়েছে। #















