ব্রেকিং নিউজ

আজ- মঙ্গলবার, ২৫শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১০ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

শিরোনাম

  বাংলাদেশী মাছ চুরি করতে এসে ট্রলারসহ ১৪ ভারতীয় জেলে আটক       ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশের প্রতিবাদে আসামে তুমুল বিক্ষোভ       রাজশাহী কলেজে ১০ তলা বঙ্গবন্ধু একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মেয়র লিটন       ওয়েস্ট হ্যামকে হারিয়ে লজ্জা এড়িয়ে জয়ে ফিরলো আর্সেনাল       নিউজিল্যান্ডের হোয়াইট আইল্যান্ডে অগ্ন্যুৎপাতে নিহত ১৩       জলঢাকায় বেগম রোকেয়া দিবসে জয়িতাদের সংবর্ধনা       পুলিশের অভিযানে রাজশাহীর তানোরে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামীসহ গ্রেফতার ৬       নবাবগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরন        লালমনিরহাটে তৃণমূলের ভরসা এ্যাড. মতিয়ার       রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৫৫০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ গ্রেফতার ০১ জন       রাজশাহী সীমান্ত হতে মালিকবিহীন ভারতীয় ফেনসিডিল আটক করেছে বিজিবি       রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অভিযানে আটক ৪৩ জন ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার       রাজশাহী মহানগরীতে নানা কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন       রাজশাহীতে সম্মাননা পেলেন শ্রেষ্ঠ ১০ জয়িতা       বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রক্ষা করা ইতিহাসের বড় মানবাধিকার লঙ্ঘন : প্রধানমন্ত্রী       চিলি’র সামরিক বিমান ৩৮ যাত্রী নিয়ে নিখোঁজ    

নওগাঁয় বছরে ৪ মাস পানির নিচে সড়ক : দূর্ভোগে এলাকাবাসী


নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় সদর উপজেলার দুবলহাটি থেকে ভীমপুর। দুরুত্ব প্রায় ৬ কিলোমিটার। উপজেলার প্রত্যান্ত এলাকা। রাস্তা থাকলেও বছরের চারমাস থাকে পানির নিচে। বর্ষা মৌসুমে কালিপুর, সুনুলিয়া, হাতাস, প্রতাবদহ ও শশিধরপুর সহ কয়েকটি গ্রামের মানুষদের চলাচলে দূর্ভোগ পোহাতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হেঁটে আর বর্ষা মৌসুমে নৌকায় তাদের একমাত্র ভরসা। ভীমপুর থেকে বারোমাসা বিল (বিল মুনছুর) পার হয়ে হাতাস গ্রাম। দুরুত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। যেখানে সড়কের সংযোগ ছাড়াই রয়েছে ৪ টি ব্রিজ। বর্ষা মৌসুমে এই ব্রিজগুলো কোন কাজে আসেনা। রাস্তা হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে যা এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।

জানাগেছে, সদর উপজেলার শহরের আরজি-নওগাঁ শাহী মসজিদ থেকে হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের ভীমপুর উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার সড়ক। এরমধ্যে প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণ করা হয়েছে। আবার দুবলহাটি বাজার থেকে ভীমপুর উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত বাঁকী আছে ৬ কিলোমিটার। দুবলহাটি বাজার থেকে হাঁসাইগাড়ী বিলের মধ্য দিয়ে কাটখৈর বাজার হয়ে ভীমপুর উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত যে পাকা সড়ক রয়েছে তার দুরুত্ব প্রায় ১৫কিলোমিটার।

অপরদিকে, দুবলহাটি বাজার থেকে প্রতাবদহ, শশিধরপুর, কালিপুর, চোয়ারাপাড়া, হাতাস, মধ্যহাতাস ও সুনুলিয়া গ্রাম হয়ে বারোমাসা (বিল মুনছুর) বিলের মাঝ দিয়ে ভীমপুর উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ করা হলে প্রায় ৯ কিলোমিটার সাশ্রয় হবে। এ এলাকাগুলো সদর উপজেলার প্রত্যান্ত এলাকা। এসব গ্রামের মানুষ তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে ঠিক সময় নিতে পারে না।

বর্ষা মৌসুমে এসব গ্রামের মানুষদের চলাচলে দূর্ভোগ পোহাতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হেঁটে চলাচল করতে পারলেও বর্ষা মৌসুমে নৌকা তাদের একমাত্র ভরসা। বর্ষার সময়ে এ গ্রামগুলো দুর থেকে দেখলে মনে হবে এক একটি দ্বীপ। এ ৬ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ করা হলে- সদর উপজেলাসহ জেলার মান্দা উপজেলার ও মহাদেবপুর উপজেলার কয়েকটি গ্রামসহ প্রায় লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের সুবিধা হবে।

একই সড়কের ভীমপুরগ্রাম থেকে বারোমাসা বিল পার হয়ে হাতাস গ্রামের দুরুত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। যেখানে সড়কের সংযোগ ছাড়াই রয়েছে ৪ টি ব্রিজ। বর্ষা মৌসুমে এই ব্রিজগুলো কোন কাজে আসেনা। বছরে চার মাস রাস্তা পানির নিচে ডুবে থাকে। এই রাস্তা না থাকায় স্থানীয় কৃষকরা তাদের মাঠের ন্যায্য ফসল পাওয়া থেকে অনেকটাই বঞ্চিত হন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বিটিসি নিউজকে জানান, বন্যার সময় গ্রামগুলোর যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। ব্রীজ আছে কিন্তু রাস্তা নাই। রাস্তা হলে অনেক উপকার হতো। বিশেষ করে বোরো মৌসুমে দ্রুত বোরো ধান সংগ্রহ করা যেত। এমনকি ফসলের চাষ ও পরিচর্যাও করা যেত সহজেই। শুধু যাতায়াত বিড়ম্বনার জন্য ফসল অনেকটা কম হচ্ছে। সড়কটি দ্রুত সংষ্কার করা হলে বোরো চাষাবাদ করতে সহজ হয়। এমনকি আরো কয়েক শ’ টন ধান বেশি উৎপাদন হবে বলে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা। রাস্তা হলে সহজেই ক্ষেতের জমিতে যাতায়াত করা এবং সময়, শ্রম ও ফসলহানীর শঙ্কাও কমে যেত। আর ফসলের উৎপাদনও হতো দ্বিগুণ।

ভীমপুর গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান সরদার বিটিসি নিউজকে বলেন, তার ১২ বিঘা জমি এ মাঠে আছে। হাজার হাজার বিঘা জমি রয়েছে বারোমাসা বিলে। ধান কাটার সময় হঠাৎ করে বৃষ্টি হলে ফসল ডুবে যায়। তখন ধান কাটা ও জমি থেকে উঠানো নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় কৃষকদের। এতে শ্রমিক খরচ বেশি পড়ে। কয়েকটি ব্রীজ পানির মধ্যে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। রাস্তা থেকেও নেই বললেই চলে। যদি রাস্তাটি সংস্কার করা হয় তাহলে ধান কেটে সহজেই রাস্তায় উঠিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসা সম্ভব।

একই গ্রামের এসএম জালাল হোসেন পিন্টু বিটিসি নিউজকে বলেন, ব্রিটিশ সময় থেকে রাস্তাটি আছে। কিন্তু সংস্কারের অভাবে রাস্তাটি কোন কাজে আসছে না। উপর থেকে পানি এসে মাঠের ধান ডুবে যায়। গতবছর একটি খাল খনন হওয়ার পর কিছুটা উপকার হচ্ছে। এক বিঘা জমিতে ধান কাটতে যেখানে ২ হাজার টাকা খরচ হতো সেখানে বৃষ্টির কারণে ৪/৫ হাজার টাকা খরচ হয়। এই রাস্তাটি হয়ে গেলে জেলা শহরের সাথে দুরুত্ব অনেক কমে যাবে। অল্প খরচে মানুষ চলাচল করতে পারবে। ভাদ্র থেকে অগ্রহায়ন (চার) মাস পর্যন্ত রাস্তা ডুবে থাকে। অগ্রহায়নের শেষের দিকে রাস্তা জেগে উঠে। এলাকার কয়েক হাজার বোরো চাষিদের ক্ষেতে মাঠে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক এটি।

নওগাঁ সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার (এলজিইডি) প্রকৌশলী ইমতিয়াজ জাহিরুল হক বিটিসি নিউজকে বলেন, ওই রাস্তা সরস্কারে ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকার একটা প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ আসার পর রাস্তাটি সংস্কার করা হবে।

নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম বিটিসি নিউজকে বলেন, ওই রাস্তাটি এলাকাবাসীর জন্য খুবই জরুরী। রাস্তা করা হলে- বিশেষ করে কৃষি কাজের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। প্রতি বছরই কৃষকদের ফসল নিয়ে দূর্ভোগ পোহাতে হয়। আমরা রাস্তাটি সংস্কারের জন্য আলোচনা করেছি।

সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর নওগাঁ প্রতিনিধি মো: আব্বাস আলী। #

Comments are closed.