নিজস্ব প্রতিবেদক: ৯০ দশক থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষার গুণগতমানের কারণে রাজশাহী পেয়েছিল শিক্ষা নগরীর খ্যাতি। এই ১৬ বছরে রাজশাহীতে সবচেয়ে বেশি নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন হয়েছে।
কোনপ্রকার টাকা-পয়সা ছাড়াই হয়েছে এমপিওভুক্ত, চাকরি হয়েছে শিক্ষিত বেকারের।
মূলত তৎকালীন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও পরে সদর আসনের এমপি মিজানুর রহমান মিনুর উদ্যোগে রাজশাহী মহানগরীতে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করেছিলেন রাজশাহী মহানগরীর উন্নয়নের রূপকার ও মহানায়ক নামে খ্যাত মিজানুর রহমান মিনু।
১৯৯১ সালে মিজানুর রহমান মিনু মেয়র হওয়ার পর রাজশাহীতে শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে একের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পাশাপাশি তিনি পুরোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঢেলে সাজিয়ে ছিলেন।
মিজানুর রহমান মিনুর চেষ্টায় রাজশাহী বিশ্বের কাছে রাজশাহী পেয়েছিল শিক্ষা নগরীর খ্যাতি। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, তিনি রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের ব্যাপক উন্নয়ন করেছিলেন।
মিনুর স্থাপন করা নগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাবোর্ডের টেকসই উন্নয়ন এখনো দৃশ্যমান হয়ে আছে। তবে শিক্ষা নগরীর মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য আবারো মিজানুর রহমান মিনুকে প্রয়োজন এমনটাই বলছেন নগরীর সচেতন, প্রবীন ও শিক্ষক মহল।
রাজশাহী নগরীতে ৬০টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ৫৫টি রয়েছে উচ্চ বিদ্যালয় (বালক ও বালিকা)। মূলত এসব শিক্ষা ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত স্থাপিত। কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগে স্থাপিত হলেও সেগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, এমপিওভুক্ত করেছিলেন মিজানুর রহমান মিনু।
শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয় বা উচ্চ বিদ্যালয়ই নয়, তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য রাজশাহী প্রকৌশল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল এন্ড কলেজ স্থাপন করেছিলেন।
মিজানুর রহমান মিনুর স্থাপন করা এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইতিহাসের সাক্ষি হয়ে আছে।
সর্বোচ্চ খ্যাতি সম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)।
রুয়েট স্থাপনে মিজানুর রহমান মিনুর ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। মিজানুর রহমান মিনুর প্রচেষ্ঠায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে বর্তমান দেশের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান সরকার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রকৌশল অনুষদ হিসেবে রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (বর্তমান রুয়েট) প্রতিষ্ঠা করে। এটি ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত দ্বিতীয় প্রকৌশল কলেজ।
রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (আরইসি নামে পরিচিত ছিল) মাত্র তিনটি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করে। ১৯৮৬ সালে রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে ইনস্টিটিউটে রূপান্তরিত করা হয়।
পরে কারিগরি শিক্ষা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (বিআইটি) রাজশাহী নামকরণ করা হয়। কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তেমন একটা ছিল না রাজশাহীতে। বিষয়টি মিজানুর রহমান মিনু অনুধাবন করে বিআইটিকে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের রুপ দেয়ার চেষ্টা করেন।
তার প্রচেষ্টায় ২০০৩ সালের ১৯ জুলাই সরকারের পক্ষ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি হয়। পরে সেপ্টেম্বর মাসে এই ইনস্টিটিউটটিকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়।
পরে এর নামকরণ করা হয় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)। এই নাম করণের পর থেকে রুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে।
এই রুয়েটের স্থাপনকাল দীর্ঘ হলেও তৎকালীন এমপি মিজানুর রহমান মিনু এটিকে সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ হিসাবে রুপদান করেন। বর্তমান রুয়েট বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। সারাদেশ থেকে রুয়েটে ভর্তি হয়ে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করছেন।
১৯৭৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর রাজশাহীর চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠা সাল ১৯৭৮ হলেও এর কার্যক্রম শুরু হয় নব্বইয়ের দশকে।
মিজানুর রহমান মিনু ওই সময় চারুকলা মহাবিদ্যালয়ের ১৬ জন শিক্ষক ১৪ জন কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে এ কলেজের কার্যক্রম শুরু করেন। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র থাকাকালীন সময় মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে শিক্ষার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯৪ সালে ১৯ মার্চ মহাবিদ্যালয়টিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে এনে ‘চারুকলা বিভাগ’ নামকরণ করেন।
পরে এটি অনুষদের মর্যাদা লাভ করে। তৎকালিন রাসিক মেয়র ও এমপি মিনু চারুকলা মহাবিদ্যালয়টিকে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে রুপ দিয়েছিলেন। যদিও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান থেকে শুরু করে যাবতীয় ধংস করে দেয়া হয়েছে।
রাজশাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষাবোর্ডের ব্যাপক উন্নয়ন করেন মিজানুর রহমান মিনু। ২০০১ সালে রাজশাহী সদর আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের সাথে তিনি রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ শুরু করেন।
২০০৩ সালে তিনি এই ভবন নির্মাণ শুরু করেন। পরে ২০০৬ সালে এটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। মিনুর নির্মাণ করা রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের দৃষ্টি নন্দন প্রশাসানিক ভবন এখানো তার উন্নয়নের সাক্ষি হিসাবে রয়েছে।
মাত্র এক হাজার এক টাকার কলেজ হিসাবে পরিচিত রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল এন্ড কলেজ। এক হাজার এক টাকা দিয়ে জমি কিনে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল এন্ড কলেজ স্থাপন করেন মিজানুর রহমান মিনু। এক সময় সরাসরি শিক্ষা বোর্ড পরিচালিত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না রাজশাহী নগরীতে।
মিজানুর রহমান মিনুর চিন্তা ও চেতনায় এ বিষয়টি উঠে আসার পর তিনি শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল এন্ড কলেজ স্থাপন করেন।
এছাড়াও সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, বিজিবি স্কুল, ক্যানপাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, শহিদ জিয়া উচ্চবিদ্যালয়, মসজিদ মিশন স্কুল এন্ড কলেজ, মেহেরচন্ডি উচ্চ বিদ্যালয়, সাহেরা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আটকোষি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ নগরীর প্রায় ২২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠন মিজানুর রহমান মিনুর প্রতিষ্ঠিত করেন। যার কারণে মিজানুর রহমান মিনুকে শিক্ষানুরাগি হিসাবে তার খ্যাতি ছিল।
এদিকে গত ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৬ বছর রাজশাহী নগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক আড্ডাখানায় পরিণত করা হয়। উন্নয়নের পরিবর্তে নিয়োগ বাণিজ্য করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ধংস করে দেয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি গত ১৬ বছরে শিক্ষার মান ধংস করে দেয়া হয়েছে।
শিক্ষক ও প্রবীণ ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিজানুর রহমান মিনুর রেখে যাওয়া এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান বলতে কিছু নেই। তিনি যদি এমপি নির্বাচিত হন তাহলে তাকে আগে শিক্ষার মানের দিকে নজর দিতে হবে। কারণ শিক্ষাকে জাতির মেরুদন্ড বলা হলেও শিক্ষানগরীর শিক্ষার মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে।
নগরবাসি মনে করছেন মিজানুর রহমান মিনু যেহেতু রাজশাহী নগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থাপতি, তিনি রাজশাহীকে শিক্ষা নগরীর রুপদান করেছিলেন, সেই মিনুকেই ধংস হয়ে যাওয়া শিক্ষার মান ফিরিয়ে আসনে। আর এই অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য রাজশাহীতে মিজানুর রহমান মিনুকে প্রয়োজন।
সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর নিজস্ব প্রতিনিধি ইফতেখার আলম (বিশাল) / রাজশাহী। #















