বিটিসি স্পোর্টস ডেস্ক: আগের ম্যাচে ৩-০ গোলের পরাজয়ের পর এবার ২৫ মিনিটের মধ্যেই দুই গোল হজম। আরেকটি হারের শঙ্কা চোখ রাঙাচ্ছিল ইন্টার মায়ামিকে। কিন্তু লিওনেল মেসি তো আর প্রতিদিনই নিষ্প্রভ থাকবেন না! আর্জেন্টাইন জাদুকর তার ঝলক দেখালেন দ্বিতীয়ার্ধে। দুই গোল শোধ করে দুই গোলের ব্যবধানেই জিতে গেল মায়ামি।
মেজর লিগ সকারের ম্যাচটিতে বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোরে অরল্যান্ডো সিটিকে ৪-২ গোলে হারায় ইন্টার মায়ামি।
ঘরের মাঠে ১৮ ও ২৪তম মিনিটের দুটি গোল করে অরল্যান্ডো। দ্বিতীয়ার্ধে মায়ামির হয়ে দুটি গোল করেন মেসি, একটি করে গোল করেন মাতেও সিলভেতি ও তেলাস্কো সেগোভিয়া।
এই দুই গোলে মেসির ক্যারিয়ার গোল হলো এখন ৮৯৮টি।
ঘুরে দাঁড়িয় এমন পারফরম্যান্স ছাড়াও মায়ামির জন্য জয়টি বিশেষ কিছু আরেকটি কারণে। অরল্যান্ডোর মাঠে ১০ বারের চেষ্টায় তাদের প্রথম জয় এটি।
ম্যাচের ৬২ শতাংশ সময় বল ছিল মায়ামির নিয়ন্ত্রণে। অরল্যান্ডো গোলে শট নিতে পারে স্রেফ দুটি। সেই দুটিই কার্যকর হয়। মায়ামি গোলে ৯টি শট নিয়ে লক্ষ্যে রাখে ৭টি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে দ্রুতই সফল হয় মায়ামি। ৪৯তম মিনিটে বক্সের একটু বাইরে থেকে বাঁকানো শটে বল জালে জড়ান সিলভেতি।
মেসির সাবেক ক্লাব নুওয়েল’স ওল্ড বয়েজ থেকে গত বছর মায়ামিতে যোগ দেওয়া ২০ বছর বয়সী উইঙ্গারের দ্বিতীয় ক্যারিয়ার গোল এটি।
মেসির প্রথম গোলটি আসে ৫৭তম মিনিটে। বক্সের একটু বাইরে নিজেদের মধ্যে বল দেওয়া-নেওয়া করে বাইরে থেকেই যখন বাঁ পায়ে শট নেন তিনি, সামনে তখন প্রতিপক্ষের চারজনের জটলা। কিন্তু তার গতিময় শট আশ্রয় নেয় জালে।
মায়ামি ম্যাচে প্রথমবার এগিয়ে যায় ৮৫তম মিনিটে। বক্সের ভেতর মেসির টোকা থেকে বল পেয়ে ফাঁখা থাকা সেগোভিয়া অনায়াসেই পরাস্ত করেন গোলকিপারকে।
৮৮তম মিনিটে মেসিকে পেছন দিক থেকে ফেলে দিয়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন অরল্যান্ডোর কলিন গাসকি। সেই ফ্রি-কিক থেকেই দ্বিতীয় গোল করেন মেসি। তার শটে অবশ্য জোর খুব ছিল না। বল নিচু হয়ে আসে গোলকিপারের ঠিক সামনে। কিন্তু আটকাতে গিয়ে গড়বড় করেন তিনি। বল গড়িয়ে চলে যায় জালে।
ম্যাচের পর মায়ামি কোচ হাভিয়ের মাসচেরানো বললেন, তার দলের ঘুরে দাঁড়ানোর মূল কৃতিত্ব মেসির।
“এই খেলাটির সর্বকালের সেরা ফুটবলার সে। একজন নেতাও সে এবং নেতা হিসেবে সে অন্যদেরকে অনুপ্রাণিত করে। তবে কখনও কখনও তার নিজেরও প্রেরণার প্রয়োজ হয়।”
“আজকে সে যখন সামনে ধাবিত হচ্ছিল, আক্রমণের বিকল্প অনেক বেশি ছিল তার। যখন সুযোগ তৈরি হয়, অন্য যে কারও চেয়ে বেশি সুযোগ তৈরি করে সে। এতেই আমরা ম্যাচটি ঘুরিয়ে দিতে পেরেছি।” #















