মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন: দক্ষিণ চট্টলা বিখ্যাত আলেম ওলামা ও বেশ কিছু জাতীয় ব্যক্তিত্বের জন্য সুপরিচিত। বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে নানান ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার মত আলেম-ওলামা ও পীর-মাশায়েখ সহ বহু গুণীজন উপহার দিয়েছে। তৎকালীন দক্ষিণ চট্টগ্রামের আলিমদের অতীত খুবই সমৃদ্ধ।
তারা অত্র এলাকায় দ্বীন প্রচার বিশেষ করে দ্বীন শিক্ষা প্রসারে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তারা নিজ গৃহে ছাত্র সংগ্রহ করে এবং থাকা খাওয়া নিজেই বহন করে দ্বীনি শিক্ষা দিতেন।
আলিমগণ শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড ও জনকল্যাণ মূলক কাজে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। তাছাড়া অত্র এলাকার আলেমগণ অনেক আন্দোলন ও সংগ্রামের রূপকার এবং পুরোধা ছিলেন। দক্ষিণ চট্টগ্রামে অনেক আলেম ওলামা রয়েছেন যারা লেখালেখির সাথে যুক্ত আছেন।
তাদের মধ্যে অনেকেই দার্শনিক, কবি,সাহিত্যিক, ইতিহাসবিদ , অনুবাদক, লেখক এবং গবেষক। আলেম ওলামাগণ তাদের লেখা বই আকারে প্রকাশিত করে সমাজে আলো ছড়াচ্ছেন। এমন কি তাদের মধ্যে অনেকেই উপমহাদেশ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সুনাম ও সুপ্রসিদ্ধ লাভ করেছেন।
দক্ষিণ চট্টগ্রাম একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের অধিকারী অঞ্চল, যেখানে লেখক, গবেষক, দার্শনিক, আলেম ওলামাদের মিলন ঘটেছে। এই অঞ্চলে বহু খ্যাতিমান ব্যক্তি জন্মগ্রহণ করেছেন যারা সাহিত্য, গবেষণা, ধর্মতত্ত্ব এবং সমাজ সংস্কারে অবদান রেখেছেন।
পটিয়া উপজেলা:
১. আল্লামা মুফতি আযীযুল হক শাহ (রহ):
তিনি পটিয়া আল-জামেয়া আল ইসলামিয়া (জমিরিয়া কাছেমুল উলুম) মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ছিলেন একজন দ্বীনিশিক্ষার স্তম্ভ ও আলেমে দ্বীন এবং অত্যন্ত মেধাবী, জ্ঞানী, তেজস্বী ব্যক্তি। মাদ্রাসা শিক্ষার সর্ব বিষয়ে পারদর্শিতা ও দক্ষতা অর্জন করে আরবী, উর্দু, ফার্সী ভাষায় কাব্য রচনা লেখার মধ্যে খ্যাতি লাভ করেন।
২. শায়খুল হাদীস হাফেজ আহমদুল্লাহ:
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার শায়খুল হাদিস দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি দীর্ঘ ২৩ বছর আল জামিয়াতুল আরাবিয়াতুল ইসলামিয়া জিরিতে অধ্যাপনায় নিযুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি কওমি শিক্ষা বোর্ড ‘আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশের’ সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
তাঁর লেখা ও সম্পাদিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: মাযহাব ও মাযহাবের প্রয়োজনীয়তা, মহিমান্বিত রমজান, নাফহাতুল আহমদিয়া, যুগোপযোগী দশ মাসায়েল, তাসকীনুল খাওয়াতীর এবং গায়রে মুকাল্লিদের ইন্টারভিউ ইত্যাদি।
৩. আল্লামা জালালুদ্দীন আল কাদেরী (রহ):
তিনি একজন বাংলাদেশি আলেম, শিক্ষাবিদ, অধ্যক্ষ, খতিব ও সংগঠক। তিনি চট্টগ্রামের খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে অসংখ্য পুস্তক সম্পাদনা করেছেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পত্রিকায় লেখালিখি করতেন। তিনি মাসিক তরজুমানের সম্পাদক ছিলেন।
৪. মাওলানা হারুন ইসলামাবাদী (রহ):
তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশি দেওবন্দি ইসলামি পণ্ডিত, লেখক, অনুবাদক, সম্পাদক, উপস্থাপক ও সমাজ সংস্কারক। পূর্ব পাকিস্তান থেকে প্রকাশিত একমাত্র উর্দু দৈনিক পাসবান-এ অনুবাদকের দায়িত্বও পালন করেন দীর্ঘদিন। তিনি মাসিক আত তাওহীদের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তার অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে :ফাযায়েলে সাদাকাত (অনুবাদ),আহকামুস সুলতানিয়া, ইসলামি অর্থনীতি, মুয়াত্তা ইমাম মালেক (অনুবাদ), আমাকে পড়ো (ভ্রমণকাহিনী)।
বোয়ালখালী উপজেলা:
১। অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি মোহাম্মদ ইদ্রিছ রেজভী: তিনি বোয়ালখালী থানার অন্তর্গত চরণদ্বীপ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং একজন প্রখ্যাত আলেম ও পীর ছিলেন। তিনি “ওস্তাজুল ওলামা” এবং “বড় হুজুর” নামে পরিচিত ছিলেন, এবং চরণদ্বীপ রজভীয়া ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও নায়েবে আ’লা হযরত ছিলেন।
২। আব্দুল ওয়াহেদ বাঙ্গালী: তিনি একজন দেওবন্দি দার্শনিক এবং সমাজ সংস্কারক। তারই প্রচেষ্টায় আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়। যেটি হাটহাজারী মাদরাসা নামে বেশ পরিচিত।
৩। মাওলানা আবুল খায়ের নক্সবন্দী (রহ): তিনি একজন আধ্যাত্মিক সাধক ছিলেন। তিনি বেশ কয়েকটি সংগীত গ্রন্থ রচনা করেন। তার উল্লেখযোগ্য ‘ফানা ফিল্লার পথে (মুক্তির পথে)’ নামে আধ্যাত্মিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
চন্দনাইশ উপজেলা:
১. মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী:
তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, দার্শনিক এবং ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামী। তিনি “আল-ইসলাম” পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ।
২. আল্লামা মুসলেহ উদ্দিন:
তিনি একজন খ্যাতিমান ইসলামি গবেষক, অধ্যক্ষ এবং জামিয়া আহামদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসা ও ছোবহানিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ছিলেন। এছাড়াও তিনি জামাতে আহলে সুন্নাত বাংলাদেশের মহাসচিব ছিলেন।
৩. অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা শফিউর রহমান:
তিনি “মুফতি সাহেব” নামে সুপ্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি নিজ এলাকা চন্দনাইশে হাশিমপুর মকবুলিয়া সিনিয়ার মাদ্রাসা এবং জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ ছিলেন।
৪. শায়খুল হাদীস আল্লামা ফখরুদ্দীন রহ:
তিনি মাদরাসা-ই-আলিয়া ঢাকার সাবেক মুহাদ্দিস, সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবং চুনতী হাকিমিয়া আলিয়া মাদরাসার শায়খুল হাদীস ছিলেন। দেশের বিভিন্ন জার্নাল ও ম্যাগাজিনে তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। হাদীস ও উসূলে হাদীস এবং আছমাউর রেজাল এর উপর তাঁর কয়েকটি গবেষণা মূলক প্রবন্ধ ও নিবন্ধ উর্দু ভাষায় তাঁর বিবিধ জ্ঞান সমৃদ্ধ পান্ডুলিপি রয়েছে। তিনি এ গুলিকে “মাখযানুল উলূম” নামকরণ করেছিলেন। যা অদ্যাবধি প্রকাশিত হয়নি। সিহাহ সিত্তার হাদীস গ্রন্থাবলীর ইযাযত সম্বলিত তাঁর লিখিত একটি সনদ মাদ্রাসা-ই- আলিয়া সিলেট এর কর্মরত থাকাবস্থায় বিভিন্ন সময়ে তা প্রকাশিত হয়েছে।
৫. শমে-এ বাংলা মাওলানা আলাউদ্দিন শাহ (রহ):
কর্মজীবনে জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় উপাধ্যক্ষ, রাঙ্গুনিয়া নূরুল উলূম সিনিয়ার মাদরসায় শিক্ষকতা করেন। পটিয়া অহিদিয়া ও বোয়ালখালী চরণদ্বীপ রিজভীয়া মাদরাসায় অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি ইন্তেকালে পূর্ব পর্যন্ত সোবাহানিয়া আলিয়া কামিল মাদরাসায় মুহাদ্দিস পদে কৃতিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর প্রণীত “লাইলাতুল কদর” শীর্ষক পুস্তকটি (উর্দু ও বাংলা) প্রকাশিত হয়েছে। তিনি আঞ্জুমানে মুহিব্বানে রসূল এর পৃষ্ঠপোষকতায় পাকিস্তানের খ্যাতনামা আলিম মুফতি শফি ওকাড়বী (রহ) এর রচিত সাওয়াবুল ইবাদত ও বরকাতে মীলাদ উর্দু দু’টি বই বঙ্গানুবাদ করেন। যা যথাক্রমে ১৯৭৯ ও ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়।
৬. প্রফেসর ড. মুহাম্মদ রশিদ, সাবেক বিভাগীয় প্রধান, আরবী বিভাগ , (চ. বি)।
৭. অধ্যক্ষ মাওলানা আমিনুর রহমান, জোয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা, ইসলামী চিন্তাবিদ, বহু গ্রন্থ প্রণেতা। (মাওলানা মন্জিল, চন্দনাইশ)
৮. অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ বদিউল আলম রিজভি, (পশ্চিম এলাহাবাদ)। অধ্যক্ষ মাদরাসা-এ তৈয়্যবিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া ফাজিল,ইসলামী চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ ও বহু গ্রন্থ প্রণেতা।
৯. মাওলানা মোজাহেরুল হক, সাবেক অধ্যক্ষ হুগলী মাদরাসা। এক দার্শনিক আলেম ছিলেন। তাঁর নামে মৌলভী বাজার নামকরণ হয়। তিনি ডাক্তার মতিনের পিতা এবং অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের দাদা।
১০. মাওলানা নাদেরুজ্জমান (রহ), কলকাতা আলিয়া মাদরাসার উপাধ্যক্ষ, পটিয়া ও বোয়ালখালী থানার ক্বাজী (বিচারক) ছিলেন। তিনি একজন দার্শনিকও বঠে।
১১. মাওলানা মোহাম্মদ আলী, সাতবাড়িয়া, ইসলামী চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদ।
আনোয়ারা উপজেলা:
১. আল্লামা মুফতি ওবায়দুল হক নঈমী:
তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস ছিলেন। তিনি গবেষণা ও লেখালেখির সাথেও যুক্ত ছিলেন।
২. মাওলানা শাহ মুহাম্মদ ইদ্রিস আনোয়ারাী:
তিনি একজন বিখ্যাত আলেম, লেখক এবং গবেষক ছিলেন। আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
৩. মাওলানা মুফতি ফয়জুল্লাহ আনোয়ারী:
তিনি একজন বিশিষ্ট আলেম, মুফাস্সির এবং গবেষক ছিলেন। তিনি আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন।
৪. মাওলানা মুফতি আবদুর রহমান আনোয়ারী:
তিনি একজন খ্যাতিমান আলেম ও গবেষক ছিলেন। আনোয়ারা উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন।
৫. মাওলানা মুফতি শওকত ওসমান আনোয়ারী:
তিনি একজন গবেষক ও লেখক এবং আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের বাসিন্দা।
৬. মাওলানা মুফতি নুরুল ইসলাম আনোয়ারী:
তিনি একজন আলেম ও লেখক। আনোয়ারা উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা।
৭. মুফতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান:
তিনি আনোয়ারা উপজেলার একজন প্রসিদ্ধ আলেম, লেখক ও গবেষক। তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয়ে লেখালেখি করেছেন এবং বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামে অংশ নিয়েছেন।
বাঁশখালী উপজেলা:
১. মাওলানা হাফেজ মুহাম্মদ তৈয়ব (রহ):
তিনি বাঁশখালীর ভাদালিয়ার কৃতি সন্তান। তিনি মুহিউসসুন্নাহ মাদরাসার পরিচালক, তালিমুল কুরআন কমপ্লেক্স চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা, চট্টগ্রাম প্রাইভেট মাদরাসা সংস্থার সভাপতি এবং হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ছিলেন।
২. হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ্:
বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মিনজিরিতলা আমির মুহাম্মদ তালুকদার বাড়ি (আইম্মার পাড়া) এলাকার বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রামস্থ সেগুনবাগান মাদরাসার সাবেক শিক্ষক, জলদী মিয়ার বাজার নুরুল কোরআন হেফজ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এবং ভাদালিয়া দারুল উলুম হামিউছসুন্নাহ মাদরাসার হেফজ বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ছিলেন। তাঁর হাত ধরে বহু হাফেজে কোরআন তৈরি হয়েছে।
সাতকানিয়া উপজেলা:
১. ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন: তিনি একজন ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা এবং আলেম-ওলামাদের সামাজিক গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি নিয়মিত পত্র-পত্রিকা এবং জার্নালে লেখালেখি করেন।
২. মাওলানা মুহাম্মদ ইউনুস: তিনি ফিকহ, তাফসির এবং হাদিস বিষয়ে একাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন।
৩. মাওলানা নূরুল ইসলাম: তিনি ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ ও নিবন্ধ লিখেছেন।
৪. মাওলানা মুহাম্মদ ইদরীস: তিনি তাফসির, ফিকহ এবং ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করেছেন।
৫. মাওলানা আব্দুল হালিম বুখারী (রহ): তিনি একজন বাংলাদেশি দেওবন্দি ইসলামি পণ্ডিত, শিক্ষাবিদ, ধর্মীয় লেখক, বক্তা, সমাজ সংস্কারক ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। তিনি আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ার মহাপরিচালক ছিলেন।তিনি আরবি সাহিত্য ও ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন।
৬. মাওলানা আবদুল্লাহ আল মামুন: তিনি ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ ও নিবন্ধ লিখেছেন।
৭. মাওলানা মুফতি ইজহারুল ইসলাম: তিনি ফতোয়া এবং ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করেছেন।
৮. মাওলানা শামসুল আলম: আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ার শিক্ষক ছিলেন এবং তিনি আরবি ভাষা ও সাহিত্য এবং ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন।
৯. মাওলানা হাবিবুর রহমান: তিনি সাতকানিয়ার একজন সুপরিচিত আলেম এবং বিভিন্ন ইসলামিক বিষয়ে লেখালেখি করেন।
১০. মাওলানা মুফতি ফজলুল হক: তিনি সাতকানিয়ার একজন বিশিষ্ট আলেম এবং ফতোয়া ও অন্যান্য ইসলামিক বিষয়ে লেখালেখির জন্য পরিচিত।
১১. মাওলানা আবদুর রউফ: তিনি সাতকানিয়ার একজন আলেম এবং বিভিন্ন ইসলামিক বিষয়ে গবেষণা ও লেখালেখি করেন।
১২. মাওলানা কাজী সৈয়দ আব্দুল শাকুর রায়হান আজিজী: তিনি সাতকানিয়া উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি মুজাদ্দেদে আলফাসানী (রহ)’র মকতুবাদ শরীফের আমলের অংশটুকু মামুলাতে মোজাদ্দেদ (অনুবাদ), হযরত গৌছুল আজম খুলনবী (রহ) সংক্ষিপ্ত জীবনী, শাহ মাওলানা ইসলাম শাহ চাটগামী (রহ) এর জীবনীগ্রন্থ।
১৩. মাওলানা আবুল হায়াত মুহাম্মদ তারেক: তিনি একজন গবেষক, লেখক,ইসলামি চিন্তাবিদ ও সুবক্তা। বিভিন্ন বিষয়ে তার রচিত ও অনূদিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩৮টি।
১৪. অধ্যাপক ড. মাওলানা নিজামুদ্দিন: তিনি শিক্ষাবিদ, ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক।
লোহাগাড়া উপজেলা:
১. মাওলানা মুহাম্মদ ফজলুল্লাহ:
চুনতী হাকিমিয়া আলিয়া মাদ্রাসার নাজেমে আলা ছিলেন এবং লেখালেখির মাধ্যমে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতেন।
২. আল্লামা শাহ সুফি মুহাম্মদ কুতুব উদ্দিন (রহ.):
লোহাগাড়ার একজন প্রখ্যাত আলেম ও পীর ছিলেন, যিনি ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতেন এবং তাঁর ভক্ত ও অনুসারীরা তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
৩. মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী:
বায়তুশ শরফের পীর এবং বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও গবেষক। তিনি বহুগ্রন্থ লিখেছেন। তাঁর রচিত গ্রস্থ দেশ-বিদেশে সুখ্যাতি অর্জন করেন। এ পর্যন্ত প্রায় ১৫০টি বই প্রকাশিত হয়।
৪. অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুন নূর সিদ্দিকী (রহ):
তিনি চুনতী হাকীমিয়া আলীয়া মাদ্রাসা এবং পদুয়া হেমায়াতুল ইসলাম সিনিয়র মাদ্রাসায় (আল জামেউল আনওয়ার) সাবেক মুহাদ্দিস ছিলেন। এমনকি তিনি বাংলাদেশ ছাড়া বার্মা (মিয়ানমার) এবং ভারতের কাশমীরী গেইট, উঁচী মসজিদ দিল্লীতে পেশ ইমাম ও খতীব হিসেবে নিবিড়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ভারতের দিল্লি প্রদেশে “শ্রেষ্ঠ খতীব” হিসেবেও সম্মাননা সনদ এবং পুরস্কার লাভ করেন। এমনকি এই আলেমে দ্বীনকে অভিজ্ঞ অধ্যক্ষ ও প্রশাসক হিসেবে স্বীকৃতিস্বরূপ চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ে “শ্রেষ্ঠ শিক্ষক” হিসেবে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
তিনি কবি ইকবালের শিকওয়া ওয়া জওয়াবে শিকওয়া’র ভাষ্যকার। ইলমী ফরায়েযের বিষয়েও তাঁর উর্দু পুস্তক ইসলামিয়া লাইব্রেরী থেকে প্রকাশিত হয়।
তিনি জাতির উদ্দেশে “তাক্বরীরে খোশবায়ান” এবং শাহসূফী “হযরত আহমদ শাহ সাহেব কেবলা (রহ.) জীবন চরিত” গ্রন্থ রচনা করেন। তাছাড়া তিনি আরো অনেক গ্রন্থ অনুবাদ করেন।
৫. আল্লামা জালাল উদ্দিন (রহ):
তিনি লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং তিনি এলাকার একজন আলোকিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি শিক্ষা, আদর্শ ও চরিত্রের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আলো ছড়িয়েছেন।
৬. মাওলানা মুহাম্মদ ছরওয়ার কামাল আজিজী:
তিনি ইসলামী আন্দোলনের প্রাণপুরুষ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির। পদুয়া ইউনিয়নে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি হুজ্জিয়াতে হাদিস, মুহাদ্দিস শাহ আবুল মোজাফফর (রহ) জীবনীগ্রন্থ, আতিয়বুন্নগম ও শানে নবুওয়াত গ্রন্থ রচনা করেন। ইসলামী রাষ্ট্র কি ও কেন, ইয়াদে আছলাফ ও “পাক,ভারত ও বাংলাদেশের পীর আওলিয়াগন” প্রকাশনাধীন অবস্থায় আছে।
৭. অধ্যাপক ড. শাব্বির আহমদ:
তিনি একজন গবেষক ও দার্শনিক। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অসংখ্য সেমিনারে তিনি কি-নোট পেপার উপস্থাপক এবং সমালোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন।গবেষণামূলক তাঁর রচিত অনেক প্রবন্ধ দেশী বিদেশী জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
৮. ড. আনোয়ারুল হক খতিবী:
তিনি একজন শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং দার্শনিক আলেম ছিলেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা জার্নালে আরবি,বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় বহু প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি উর্দু ভাষায় কবিতাও রচনা করেন।
৯. ড. হাফেজ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা:
তিনি একজন উঁচুমানের গবেষক এবং দার্শনিক। গবেষণামূলক তাঁর রচিত অনেক প্রবন্ধ দেশী বিদেশী জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
১০. প্রফেসর ড. আহমদ আলী:
তিনি বাংলাদেশের প্রথম সারির ইসলামী লেখক ও গবেষক। দেশ বিদেশের বিভিন্ন জার্নাল ও ম্যাগাজিনে তার গবেষণাধর্মী লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়া তিনি অসংখ্য ইসলামী সাহিত্য রচনা করেন।
১১. ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী:
তিনি ইসলামী চিন্তাবিদ, প্রাবন্ধিক ও গবেষক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসে পিএইচডি পর্যায়ে প্রথম ফারসি ভাষায় থিসিস লিখে ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। ইতিমধ্যে তিনি মাওলানা রুমির বিশ্ববিখ্যাত মসনবী শরীফের বাংলা অনুবাদ ও ব্যাখ্যা ১ম খন্ড প্রকাশ করেছেন। তাঁর লিখিত ২০টির অধিক গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও তাঁর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবন্ধ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
১২. মৌলানা মুহাম্মদ মুসলিম খান:
লোহাগড়া উপজেলার চুনতী গ্রামের মুসলিম পরিবারে জন্ম। তিনি একজন দার্শনিক আলেম ছিলেন। তিনি উর্দু ভাষায় অত্যন্ত উঁচু মানের কাসিদা রচনা করেন।
১৩. মৌলানা এরশাদ উল্লাহ খান:
লোহাগড়া উপজেলার চুনতী গ্রামের মুসলিম পরিবারে জন্ম। তিনি একজন গবেষক ও কবি হিসেবে সুখ্যাত।
১৪. মৌলানা শফিক আহমদ:
তিনি আধুনগর ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে ১৯৮০-১৯৮৭ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি অত্যন্ত উঁচু মানের কাসিদা রচনা করেন।
১৫. ড. হেলাল উদ্দীন মুহাম্মদ নোমান:
তিনি একজন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন, ইসলামী চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ, লেখক ও গবেষক। তাঁর লিখিত ৮টির অধিক বই মাদরাসার বিভিন্ন শ্রেণিতে পাঠ্যবই হিসাবে নির্বাচিত হয়েছে এবং গবেষণাভিত্তিক ১টি বই প্রকাশিত হয়েছে।
১৬. মাওলানা আবু সালেহ মুহাম্মদ ছলীমুল্লাহ:
বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে “মাহমুদ আলূসী- জীবন ও কর্ম” বিষয়ে পিএইচডি গবেষণা লকরছেন। ‘মক্কামে মাহমুদ’ তাঁর অনূদিত গ্রন্থ, তাঁর রচিত গ্রন্থ ‘জুম’আর খুৎবা। এছাড়াও তাঁর বেশ কয়েকটি গ্রন্থ প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি মাসিক জুমাবার, মাসিক দ্বীন দুনিয়া, শিশু-কিশোর দ্বীন দুনিয়া, খাতুনে জান্নাত, দারসুল কোরআন ও দারসুল হাদিস-এর নিয়মিত লেখক ।
১৭. মাওলানা কাজী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন:
তিনি একজন প্রখ্যাত ওয়ায়েজ,কবি, খ্যাতিমান আলেমে দ্বীন ও ইসলামী শিক্ষা-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক। লোহাগাড়ার আধুনগর ইউনিয়নের সুফি মিয়াজীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
তথ্যসূত্র:
১. ড. হেলাল উদ্দীন মুহাম্মদ নোমান, “চট্টগ্রামের আলিম সমাজ জীবন ও কর্ম” (পিএইচডি গ্রন্থ)
২. ড. সাইয়েদ মুহাম্মদ আবু নোমান, ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রচার ও প্রসারে চট্টগ্রাম দারুল উলুম আলিয়া মাদরাসার অবদান। (পিএইচডি গ্রন্থ)
৩. চন্দনাইশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য, সোহেল মো. ফখরুদ-দীন।
৪.”জ্ঞান-বিজ্ঞান ও দ্বীনী ইসলাম প্রচারে ঐতিহ্যবাহী “মুফতি পরিবার” এর অবদান”, মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন, দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র, ২৯ মার্চ ২০১৯।
৫. চুনতী হাকিমিয়া কামিল মাদরাসার ২০০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আনজুমান’১০ সংখ্যা,১৫ জানুয়ারি ২০১১ খ্রি.
বার্তা প্রেরক লেখক: সংগঠক ও কলামিস্ট। সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মুসলমান ইতিহাস সমিতি। #















