BTC News | বিটিসি নিউজ

আজ- বুধবার, ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

আজ- ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গাজা থেকে ‘এক মিলিমিটারও’ পিছু হটবে না ইসরায়েল

গাজা থেকে ‘এক মিলিমিটারও’ পিছু হটবে না ইসরায়েল

বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ সমাপ্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু হলেও গাজার তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ‘এক মিলিমিটার’ পরিমাণও পিছু হটবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) হিব্রু দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথ আয়োজিত এক সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

কাটজ জোর দিয়ে বলেন, হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ না করা পর্যন্ত এবং তাদের টানেল বা সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ধ্বংস না করা পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনারা বর্তমান অবস্থান থেকে সরবে না।

গাজার পূর্বাঞ্চলে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ইসরায়েলি বাহিনী যে রেখা পর্যন্ত সরে এসেছিল, তাকেই মূলত ‘ইয়েলো লাইন’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে হামাসের সামরিক সক্ষমতা নির্মূল করার বিষয়ে ইসরায়েলের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, হামাসকে অস্ত্র বা টানেলসহ কোনোভাবেই গাজায় থাকতে দেওয়া হবে না এবং তাঁদের স্লোগান হচ্ছে ‘শেষ টানেলটি ধ্বংস না করা পর্যন্ত অভিযান চলবে’।

গত সোমবার ইসরায়েলি ক্যাবিনেট সচিব ইয়োসি ফুচস জানিয়েছিলেন, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের জন্য সরকার ৬০ দিন সময় দেবে এবং এই সময়ের মধ্যে শর্ত পূরণ না হলে পুনরায় যুদ্ধ শুরু করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরায়েল প্রায়ই গাজার বিভিন্ন অংশে বিমান হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে সেই চুক্তি লঙ্ঘন করে আসছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ গত জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে কার্যকর হয়েছে। এই ধাপের অধীনে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাহার, পুনর্গঠন কাজ শুরু, মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং একটি প্রশাসনিক কমিটির মাধ্যমে গাজা পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।

তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক এই অনড় অবস্থান শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি করেছে।

কাটজ তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘মহান মিত্র’ হিসেবে বর্ণনা করলেও যুদ্ধের সময় কিছু বিষয়ে মতবিরোধের প্রভাব ছিল বলে স্বীকার করেছেন। এই কারণেই ইসরায়েল এখন অন্যদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদন বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে।

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ‘শিল্ড অফ ইসরায়েল’ নামে একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় আগামী এক দশকে প্রতিরক্ষা বাজেটে আরও ৩৫০ বিলিয়ন শেকেল (প্রায় ৯৫ বিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ দেওয়া হবে।

কাটজ মনে করেন, শক্তিশালী অর্থনীতি ছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় এবং ঠিক একইভাবে নিরাপত্তা ছাড়া অর্থনীতিও টেকে না। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দুই বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে গাজায় ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং বেসামরিক অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। #

এইরকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর

ব্রেকিং নিউজ