নিজস্ব প্রতিবেদক: নিঃশব্দ গভীর রাত। ২২ তারিখ দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিট। চারপাশে সুনসান নীরবতা, কেবলই কান্না আর আর্তনাদের শব্দ ভেসে আসছে। রাজশাহী নগরীর সদর হাসপাতাল মোড়ে অবস্থিত মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের গেটের সামনে প্রসব ব্যথায় ছটফট করছিলেন এক অচেনা, অসহায় গর্ভবতী নারী।
কেন্দ্রে কোনো চিকিৎসক না থাকায় সঙ্গে থাকা তিন নারী তাকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু গভীর রাতে নেই কোনো যানবাহন, নেই সহায়তার হাত। অসহায়ত্ব, আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায় তারা ভেঙে পড়েন। কাতর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে রাতের বাতাস।
ঠিক তখনই মানবতার আলো হয়ে সামনে আসেন মোঃ ফায়সাল সরকার ডিকো। রাজশাহী জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ডিকো নিজের গাড়ি গ্যারেজে ঢোকাতে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ চোখে পড়ে অসহায় সেই দৃশ্য। এক মুহূর্ত দেরি না করে, কোনো পরিচয় বা পরিচিতির প্রশ্ন না তুলে, তিনি নিজ গাড়িতে তুলে নেন প্রসব যন্ত্রণায় কাতর নারীকে।
দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে ভর্তি নিশ্চিত করেন। শুধু পৌঁছে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি—রাত ৩টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত হাসপাতালে অবস্থান করে খোঁজখবর নেন, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন। তার সঙ্গে ছিলেন যুবদল নেতা মিঠু রাকিব ও আনোয়ার।
ভোরের আলো ফুটতেই আসে সুখবর—একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়েছে। মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ। আলহামদুলিল্লাহ।
ডিকো বলেন, “আমি শুধু একজন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। ও মুহূর্তে মনে হয়েছে, যদি আমি সাহায্য না করি, তাহলে হয়তো বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত। আল্লাহর অশেষ রহমতে মা ও সন্তান সুস্থ আছে—এটাই আমার সবচেয়ে বড় শান্তি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা যারা সমাজ ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, আমাদের প্রথম পরিচয় হওয়া উচিত মানুষ হিসেবে। ক্ষমতা বা পদ নয়, মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোই আসল দায়িত্ব।”
সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর নিজস্ব প্রতিনিধি ইফতেখার আলম (বিশাল) / রাজশাহী। #


