BTC News | বিটিসি নিউজ

আজ- বৃহস্পতিবার, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

আজ- ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

খেতে পড়ে আছে আলু- ঈদ আনন্দ নেই আলুচাষিদের পরিবারে

খেতে পড়ে আছে আলু- ঈদ আনন্দ নেই আলুচাষিদের পরিবারে

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: রাত পোহালেই ঈদ। কিন্তু উৎসবের সেই চিরচেনা আমেজ নেই লালমনিরহাটের আলুচাষি পরিবার গুলোর ঘরে। মাঠভরা আলু, কিন্তু নেই ক্রেতা—লোকসানের বোঝা কাঁধে নিয়ে ঈদের আনন্দ যেন হারিয়ে গেছে তাদের জীবন থেকে।

টানা দ্বিতীয় বছরের মতো আলুচাষে লোকসান গুনছেন কৃষকরা। উৎপাদিত আলু খেতেই পড়ে আছে, আর তা ঘিরেই হতাশায় ডুবছেন তারা। ফলে ঈদের কোনো প্রস্তুতিই নেই এসব পরিবারে।

লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, চারদিকে ঈদকে ঘিরে ব্যস্ততা থাকলেও আলুচাষিদের ঘরে বিরাজ করছে নীরবতা। উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে আলু বিক্রি করেও ঋণের বোঝা কমাতে পারছেন না তারা। অনেকেই পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোস্তফি এলাকার কৃষক নুর ইসলাম এ বছর ১৫ বিঘা জমিতে আলুচাষ করেছেন। আশা ছিল, আগের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

তিনি বলেন, “উৎপাদনের অর্ধেক দামে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে, তবুও ক্রেতা মিলছে না। হাতে টাকা নেই, সন্তানদের নতুন পোশাক কিনে দিতে পারিনি। আলুচাষ আমাকে পথে বসিয়েছে, আমাদের ঈদের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে।

পরিবারের জন্য সেমাই, চিনি ও দুধ কিনেছি, কিন্তু কাউকেই নতুন পোশাক দিতে পারিনি। খুব কষ্ট লাগছে। ঈদের দিনটাও বিষাদের মধ্যেই কাটবে। গত বছরও আলুচাষে লোকসান করায় ভালোভাবে ঈদ করতে পারিনি।

হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান এলাকার আলু চাষি আব্দুর রহিম একই চিত্র তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “আলুচাষে লোকসান করে মানসিকভাবে খুব দুশ্চিন্তায় আছি। উৎপাদিত আলু বিক্রি করে কিছু ঋণ শোধ করেছি, কিন্তু এখনও দেনা রয়ে গেছে। হাতে কোনো টাকা নেই। পরিবারের কাউকেই নতুন পোশাক কিনে দিতে পারিনি। এখনো সেমাই- চিনি কিনতে পারিনি। ঈদের দিন মাংস খাওয়ার কথাও ভাবতে পারছি না।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৫টি উপজেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৫ শত হেক্টর, কিন্তু চাষ হয়েছে ৭ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় উৎপাদনও ভালো হয়েছে।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. শাইখুল আরেফিন বিটিসি নিউজকে বলেন, ‘চাষিরা লক্ষ্যমাত্রার বেশি চাষ করেছেন। উৎপাদন খরচ ও বাজার দরে প্রতি কেজি আলুতে প্রায় ১০ টাকার লোকসান হচ্ছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় আলুর বহুমুখী ব্যবহার ও শিল্পজাত কারখানা গড়ে তোলা জরুরি।’ আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু বাজারদর কম থাকায় কৃষকরা হতাশ।

তিনি আরও বলেন, “বিদেশে আলু রপ্তানির সুযোগ তৈরি না হলে কৃষকরা বড় ধরনের সংকটে পড়বেন। এতে ভবিষ্যতে আলুচাষে আগ্রহ কমে যেতে পারে।

সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর লালমনিরহাট প্রতিনিধি হাসানুজ্জামান হাসান। #

এইরকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর

ব্রেকিং নিউজ
শিক্ষকরাই দেশে সুশিক্ষিত নাগরিক গড়ে তুলতে পারেন — এমপি- মহিত তালুকদার আদমদীঘিতে মাদক কারবারির জেল-জরিমানা ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’, থাকবে সরকারি ছুটি ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার পরিবর্তনের চেয়ে মানসিকতার পরিবর্তন বেশি জরুরি : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সাক্ষাৎ সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর সঙ্গে মা‌র্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক কসবায় ২২শত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ জামালপুরে অনলাইনে কবিরাজীর নামে প্রতারণা, ২৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ কন্টেন্ট ক্রিয়েটর গ্রেফতার বকশীগঞ্জে সাড়ে ১২শ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ