খুলনা ব্যুরো: খুলনা বেতার কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ সম্প্রচার চালু ও শিল্পীদের ন্যায্য সম্মান নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে খুলনা বেতার শিল্পী সারথী নামের একটি সংগঠন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য সচিব এস এম ইকবাল হাসান তুহিন লিখিত বক্তব্যে শিল্পীদের বর্তমান সংকট তুলে ধরেন।
তিনি অভিযোগ করেন, পরীক্ষামূলক সম্প্রচারের নামে স্বল্প সময়ের অনুষ্ঠান প্রচার করা হচ্ছে, যার ফলে প্রায় ২ হাজার ৩০০ শিল্পী ও কলাকুশলী তাদের শিল্পচর্চার সুযোগ হারাচ্ছেন এবং মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ বাজেট সংকটের অজুহাত দিলেও আঞ্চলিক পরিচালক, প্রকৌশলী, সহকারী পরিচালকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন। অথচ অনুষ্ঠানমালা সীমিত করে শিল্পীদের কার্যত বঞ্চিত করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দক্ষিণাঞ্চলের শিল্প-সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় দ্রুত বেতার সংস্কার, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং পূর্ণাঙ্গ সম্প্রচার চালুর দাবি জানান।
এদিকে, অন্য একটি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ ও ৬ আগস্টে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশ বেতার, খুলনা কেন্দ্রের প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস হয়। সোনাডাঙ্গা থানায় দায়েরকৃত সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বেতারের আর্কাইভসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে যায়।
১৯৭০ সালের ৪ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করা এই বেতার কেন্দ্রের প্রথম দিনের সংগীত শিল্পী মাজেদ জাহাঙ্গীর বলেন, শিল্পীদের এমন দুরবস্থা আগে কখনও দেখা যায়নি।
তিনি স্মরণ করেন, ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর গল্লামারিতে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলায় বেতার কেন্দ্র ধ্বংস হওয়ার পরও দুই বছরের মধ্যে সম্প্রচার পুনরায় চালু হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ঘটনার পর প্রায় ২০ মাস পার হলেও পূর্ণাঙ্গ সম্প্রচার শুরু না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম জাকি, নাট্যশিল্পী শেখ সিরাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সুদীপন মোহাম্মদ, শিল্পী সুলতানা পারভীন, আবৃত্তিশিল্পী স্মৃতি রেখা বিশ্বাস, কাজল ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। #















