খুলনা ব্যুরো: আকাশে রঙের মেলা, মাঠে উৎসবের উচ্ছ্বাস,চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে এমনই এক বর্ণিল পরিবেশে মুখর ছিল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলা বর্ষপঞ্জির শেষ দিন উপলক্ষে সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসব।
বিকেল ৫টায় ঘুড়ি উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম। আকাশে একের পর এক উড়তে থাকে নানা রঙ, আকার ও নকশার ঘুড়ি যা মুহূর্তেই পরিণত হয় দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, চৈত্র সংক্রান্তির এই ঘুড়ি উৎসব খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে। তিনি বলেন, এ ধরনের উৎসব আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে। একইসঙ্গে এটি পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক আয়োজন জ্ঞানচর্চার পরিসরকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপন কমিটির সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. রুমানা হক, কমিটির সদস্য সচিব ও ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মো. নাজমুস সাদাতসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষক ও সহকারী ছাত্র বিষয়ক পরিচালকবৃন্দ। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীও অংশ নেন উৎসবে।
ঘুড়ি উৎসবে আকাশজুড়ে ভেসে বেড়াতে দেখা যায় প্রজাপতি, চিল, ঈগল, সাপ ও মাছ আকৃতির ঘুড়ি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল প্রবল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কেউ ঘুড়ি উড়াচ্ছেন, কেউবা আকাশে চোখ রেখে উপভোগ করছেন রঙিন দৃশ্য।
শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের মতে, এই আয়োজন শুধু বিনোদন নয়, বরং ঐতিহ্য ও শিকড়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগের একটি মাধ্যম।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।
সকাল ৯টায় বৈশাখী মেলার উদ্বোধন, সকাল ১০টায় শোভাযাত্রা এবং বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। দিনব্যাপী মেলায় থাকবে নানা ধরনের স্টল ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। #















