খুলনা ব্যুরো: খুলনা বিভাগে হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার (১৩ এপ্রিল) পর্যন্ত অর্থাৎ মাত্র ৩০ দিনে বিভাগটির ১০টি জেলায় মোট ১,৩১২ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় ৫১ জনের শরীরে হামের ভাইরাসের নিশ্চিত উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই সময়ের মধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে বিভাগে মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ দৈনিক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে নতুন করে ১১৫ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন ৭৬ জন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে হামে কোনো নতুন মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি এবং ল্যাব পরীক্ষায় নতুন কোনো নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়নি।
জেলা ভিত্তিক চিত্রে বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে কুষ্টিয়া ও যশোরে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
কুষ্টিয়ায় গত এক মাসে সর্বোচ্চ ৪২৭ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৮ জনই মৃত্যুবরণ করেছেন। যশোরে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ২৭৩ জন, যার মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে রেকর্ড ২৪ জনের শরীরে। বিভাগীয় শহর খুলনায় সন্দেহভাজন রোগী ১০৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২ জনের।
এছাড়া মাগুরায় ১৩৪ জন, মেহেরপুরে ১০০ জন এবং সাতক্ষীরায় ৬৬ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও নড়াইল জেলাতেও রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।
এক নজরে গত এক মাসের পরিসংখ্যানে খুলনা বিভাগে মোট সন্দেহভাজন রোগী ১,৩১২ জন, হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৭৯ জন,হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন ৬৮৯ জন।এছাড়া ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগী পাওয়া গেছে ৫১ জন। মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলায় মৃত্যুর হার বেশি হওয়ায় সেখানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শিশুদের সময়মতো হামের টিকা (MR Vaccine) নিশ্চিত করা এবং কোনো শিশুর শরীরে জ্বর ও র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৯০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংক্রমণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। #















