খুলনা ব্যুরো: খুলনা বিভাগজুড়ে হামের সন্দেহভাজন রোগীর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। রবিবার (৫ এপ্রিল) পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিভাগে মোট ৩৫১ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫২ জন রোগী বাড়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত কুষ্টিয়া জেলাতে, যেখানে মোট ১০৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নতুন রোগীর সংখ্যা ২৯, যা চলমান সংক্রমণের তীব্রতা নির্দেশ করে।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে, যশোর জেলা, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৭০ এবং নতুন রোগী ১১ জন। একইভাবে খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায়ও ৫৪ জন রোগী শনাক্ত হওয়ায় নগর এলাকাতেও ঝুঁকি বাড়ছে।
বিশেষ করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিত্র পরিস্থিতির বাস্তবতা স্পষ্ট করে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১ এপ্রিল ১১ জন, ২ এপ্রিল ১৫ জন, ৩ এপ্রিল ১৯ জন, পরদিন ১৪ জন এবং রবিবার ১৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হওয়া সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।
অন্য জেলাগুলোর মধ্যে, মেহেরপুর জেলাতে ২৬ জনের মধ্যে নতুন ১২ জন, মাগুরা জেলাতে নতুন ৫ জনসহ মোট ২২ জন এবং ঝিনাইদহ জেলাতে ১৬ জনের মধ্যে ৫ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
বাগেরহাট জেলা-তে ৭ জন নতুনসহ মোট ১৩ জন রোগী রয়েছে।
তুলনামূলকভাবে কম আক্রান্ত পাওয়া গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলাতে, যেখানে মোট রোগী ৭ জন। অন্যদিকে খুলনা জেলা-তে নতুন রোগী না থাকলেও মোট ৫ জন শনাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি, সচেতনতার অভাব এবং সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়াই এই বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে হামের ঝুঁকি বেশি হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
খুলনার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বিটিসি নিউজকে জানান, হামের জটিলতা কমাতে ভিটামিন এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ডোজ নির্ধারণ করা উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত টিকাদান জোরদার, আক্রান্তদের বিচ্ছিন্ন রাখা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এখনই সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে খুলনা বিভাগের এই প্রাদুর্ভাব বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিতে পারে। #















