BTC News | বিটিসি নিউজ

আজ- মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

আজ- ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় ১৯৯তম ঈদ জামাতে জনসমুদ্র, বিশ্বশান্তি কামনায় দোয়া

ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় ১৯৯তম ঈদ জামাতে জনসমুদ্র, বিশ্বশান্তি কামনায় দোয়া

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ জামাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লির উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের ঈদ জামাতে প্রায় ৫ লাখেরও বেশি মুসল্লি অংশ নেন। ঈদের আগের দিন থেকেই কিশোরগঞ্জমুখী মানুষের ঢল নামে। দেশের ৬৪ জেলা ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলে দলে মুসল্লিরা ছুটে আসেন শোলাকিয়ায়। কেউ আত্মীয়ের বাসায়, কেউ মসজিদে, আবার অনেকে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান শুধু একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায়ের আকাঙ্ক্ষায়।

সকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈদগাহ ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জায়গা না পেয়ে আশপাশের সড়ক, ভবনের ছাদ এমনকি নরসুন্দা নদীর তীরেও কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা।

শোলাকিয়ার ঐতিহ্য অনুযায়ী, জামাত শুরুর ১০ মিনিটি আগে ৫টি, ৫ মিনিট আগে ৩টি এবং ১ মিনিট আগে দু’টি পরপর তিনবার শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে জামাতে দাঁড়ানোর সংকেত দেওয়া হয়। নামাজ শেষে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি এবং বিশেষ করে ফিলিস্তিনের মুসলমানদের জন্য মোনাজাত করা হয়।

এবারের ঈদের জামাতে ইমামতি করেন বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

ঈদ জামাত শেষে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, দেশের ঐতিহ্যবাহী এই বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়া অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন। শোলাকিয়া ঈদগাহ সংস্কার করার জন্য সরকার প্রধানের সঙ্গে কথা বলে প্রকল্প নেওয়া হবে। যেন মাঠটি আরও বড় ও সৌন্দর্য মণ্ডিত হয়।

শোলাকিয়ার ঈদ জামাত শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্য, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং জনসমাবেশ ব্যবস্থাপনার একটি অনন্য উদাহরণ। প্রতি বছরই এই জামাতকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। এবারের ১৯৯তম আয়োজনও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলো।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ঈদুল ফিতরের জামাত সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এখন মূল লক্ষ্য হচ্ছে মুসল্লিরা যেন নিরাপদে ও সহি-সালামতে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন। পুরো ঈদ জামাত নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল এবং কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন বলেন, প্রায় ১১০০ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), সেনাবাহিনী, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সাদা পোশাকে মাঠ পর্যায়ে অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। পুরো এলাকায় প্রবেশ ও প্রস্থান পথগুলোতে ছিল কড়া নজরদারি, পাশাপাশি জনস্রোত নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি মো. সেলিম রেজা ফারুক। #

এইরকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর

ব্রেকিং নিউজ
লক্ষ্মীপুরে অবৈধভাবে মজুতের অভিযোগ: ডিজেলভর্তি ২৪টি ড্রাম জব্দ, গ্রেপ্তার-১ বিচার বিভাগকে ‘ন্যায় ও আস্থার জায়গা’ করতে চায় সরকার : প্রধানমন্ত্রী জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে পণ্যের দাম বেশি বাড়বে না : বাণিজ্যমন্ত্রী মিডিয়া স্বাধীনভাবে কাজ করবে, এটি প্রধানমন্ত্রীর নীতি : তথ্য প্রতিমন্ত্রী কিছু রাজনৈতিক মহল জুলাই সনদ ও সংস্কার ইস্যুতে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে : বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষকে বগুড়ার মানুষের মতো সুখী করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে এনে কৃষক ও সাধারণ জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে : প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে বসবাসরত যোগ্য রোহিঙ্গাদের দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ: মোরেলগঞ্জে স্বর্ণালংকার টাকাসহ ১০ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী অপহরণ কালীগঞ্জে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত