এবার লোহিত সাগরে গ্রিক জাহাজে হামলা

 

বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লোহিত সাগরে একের পর এক জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিরা। গোষ্ঠীটি এবার গ্রিক বাল্ক ক্যারিয়ারে হামলা চালিয়েছে। বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জাহাজ পরিচালনা ও সামরিক সূত্র জানিয়েছে, গ্রিক পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার সি চ্যাম্পিয়নে হামলা হয়েছে। মঙ্গলবার ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে লোহিত সাগরে এডেন বন্দরে জাহাজটিতে হামলা কার হয়। যদিও জাহাজের এ হামলাকে হুতিদের ভুলক্রমে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আক্রমণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউএস সেন্টকম জানিয়েছে, সি চ্যাম্পিয়নকে লক্ষ্য করে হুতিরা দুটি জাহাজ বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এটি মার্কিন মালিকানাধীন বাল্ক ক্যারিয়ার। এরমধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র জাহাজের কাছাকাছি বিস্ফোরিত হয়েছে। এতে করে জাহাজটিতে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
গ্রিক শিপিং মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজটি আর্জেন্টিনা থেকে এডেনে ভুট্টা পরিবহন করেছিল। জাহাজটিতে দুবার হামলা করা হয়েছে। এতে করে জাহাজের জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো ক্রু হতাহত হয়নি।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, গত পাঁচ বছরে জাহাজটি ইয়েমেনে ১১ বার মানবিক ত্রাণ সরবরাহ করেছে।
পরিচর গোপন রেখে এডেন বন্দরের একটি সূত্র জানিয়েছে, জাহাজটিতে হামলা ভুল ছিল। ইয়েমেনের আরেক বন্দর হুদেইদাহের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, হুতিরা তাদের জানিয়েছে যে জাহাজে এ হামলাটি ইচ্ছাকৃত ছিল না।
বিষয়টি নিয়ে হুতিদের মন্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া এথেন্সভিত্তিক জাহাজ পরিচালনকারী প্রতিষ্ঠান ও গ্রিস মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
উল্লেখ্য, গাজায় ইসরায়েলি হামলার জেরে তেল আবিবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে হুতিরা। লোহিত সাগর হয়ে ইসরায়েলগামী এবং দেশটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, এমন জাহাজগুলোয় তারা হামলা শুরু করে আসছে। পাল্টা জবাবে হুতিদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে আসছে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন স্ট্রাইকিং ফোর্স। কিন্তু তাতেও হুতিদের হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
পশ্চিমা দেশগুলোর দাবি, লোহিত সাগরেকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা প্রশমন, আবারও স্থিতিশিলতা ফিরিয়ে আনা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করাই তাদের উদ্দেশ্য। কারণ, বিশ্বের শিপিং কনটেইনার পরিবহনের ৩০ শতাংশসহ সব পণ্যের বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ এই রুটের মাধ্যমে হয়ে থাকে। #

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.