BTC News | বিটিসি নিউজ

আজ- মঙ্গলবার, ১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

আজ- ১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের ৪ দেশে ইরানের নতুন হামলা

ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের ৪ দেশে ইরানের নতুন হামলা

বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং সৌদি আরবে একযোগে নতুন করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।

স্থানীয় সময় শুক্রবার থেকে (২০ মার্চ) এই হামলাগুলো চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে বিবিসি। ইরানের পক্ষ থেকে ছোড়া এই বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র বহর মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে।

বিশেষ করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে, গত দুই ঘণ্টার ব্যবধানে ইরান থেকে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় ঝাক তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ধেয়ে এসেছে। এই পরিস্থিতির কারণে ইসরায়েলজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এবং কুয়েত থেকেও শুক্রবার ভোররাত থেকে একের পর এক বিস্ফোরণ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয় হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহরের বিভিন্ন অংশে যে প্রচণ্ড শব্দ শোনা গেছে, সেগুলো মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সফল প্রতিরোধ অভিযানের ফল।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক আপডেটে নিশ্চিত করেছে যে, তারা ইরান থেকে আসা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে মোকাবিলা করছে। একইভাবে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে যে, তাদের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রুখে দিতে সামরিক বাহিনী কাজ করছে। তবে এই হামলাগুলোতে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যায়নি।

সৌদি আরবও ইরানের এই পাল্টাপাল্টি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একাধিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা তাদের পূর্বদিকের আকাশসীমায় অন্তত ছয়টি ইরানি ড্রোন শনাক্ত করেছে এবং সেগুলো মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এটিই এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় ধরনের পাল্টা আক্রমণের ঘটনা। বিশেষ করে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরান যে কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, এই হামলাগুলো তারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা। ইরানের দাবি অনুযায়ী, তারা এই অঞ্চলে অবস্থিত ‘মার্কিন সম্পদ’ এবং মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করেই এসব আক্রমণ পরিচালনা করছে।

বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিরতিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সাধারণ নাগরিকদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংকার বা নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালী ও এর আশপাশের দেশগুলোতে যুদ্ধের এই বিস্তার বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। সংঘাতের এই নতুন পর্যায়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ও লক্ষ্যভেদী সক্ষমতা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো চেষ্টা করলেও যুদ্ধের তীব্রতা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। #

এইরকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর

ব্রেকিং নিউজ
হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গ দেবে না ন্যাটো পোপকে নিয়ে ট্রাম্পের ‘অশালীন’ মন্তব্য, ক্ষেপলেন মেলোনি হরমুজে মার্কিন অবরোধ শুরু, ইরানি জাহাজ ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের ইরানের উপকূল থেকে ২০০ কিমি দূরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ও দুই যুদ্ধজাহাজ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি এরদোয়ানের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলার ঘোষণা পুতিনের ইরানে ফের হামলা করলে আবারও হারবে যুক্তরাষ্ট্র— তেহরানবাসীর বার্তা আইআরজিসির হুঁশিয়ারি: ইরানের বন্দর হুমকিতে পড়লে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধে সমর্থন দেবে না ব্রিটেন : স্টারমার মার্কিন নৌ-অবরোধের হুমকিকে ‘হাস্যকর’ বললেন ইরানের নৌবাহিনী প্রধান