BTC News | বিটিসি নিউজ

আজ- সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

আজ- ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত, ফিরছে কিউবা মিসাইল সংকটের স্মৃতি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত, ফিরছে কিউবা মিসাইল সংকটের স্মৃতি

বিটিসি আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পারস্য উপসাগরের উত্তপ্ত জলরাশিতে আবারও বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা। আর এই ঘটনাই মনে করাচ্ছে গত শতাব্দীর শীতল যুদ্ধের সেই ভয়াবহ কিউবান মিসাইল সংকটের স্মৃতি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে বিশাল নৌবহর’ এখন ইরান অভিমুখে ধাবমান।

ওয়াশিংটনের এই সমরপ্রস্তুতি এবং তেহরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি বিশ্ব রাজনীতিকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

এই উত্তেজনার মূলে রয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ।

গত ডিসেম্বরের শেষভাগ থেকে অর্থনৈতিক মন্দা ও মুদ্রার দরপতনের প্রতিবাদে ইরানজুড়ে যে নজিরবিহীন বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, তা দমনে সরকারের কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, এই বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা জানিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি তাদের পথ পরিবর্তন না করে, পরমাণু তৎপরতা অব্যাহত রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি প্রয়োগে দ্বিধা করবে না।

ইতোমধ্যে ইরানের তেল বাণিজ্যের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সর্বোচ্চ চাপের নীতিতে ফিরেছে হোয়াইট হাউস।

পাল্টা জবাবে তেহরানও তাদের সমরশক্তির প্রদর্শন করছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের বাহিনী এখন ট্রিগারে আঙুল রেখে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিই সতর্ক করে বলেছেন, যেকোনো ধরনের মার্কিন হামলাকে সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।

দুই দেশের এই অনড় অবস্থান উপসাগরীয় অঞ্চলকে এমন এক বিন্দুতে নিয়ে গেছে, যেখানে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি থেকে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ১৯৬২ সালের কিউবান মিসাইল সংকটের প্রতিচ্ছবি। সে সময় যেমন কেনেডি এবং ক্রুশ্চেভ বিশ্বকে পরমাণু যুদ্ধের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরিয়ে এনেছিলেন, ট্রাম্প এবং খামেনিই কি সেই একই পথে হাঁটবেন নাকি সংঘাতই হবে চূড়ান্ত পরিণতি; সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা কেবল আঞ্চলিক অস্থিরতা নয় বরং বিশ্ব তেলের বাজার এবং ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

একদিকে চীন ও রাশিয়ার কৌশলগত অবস্থান, অন্যদিকে মিত্র দেশগুলোর উদ্বেগ; সব মিলিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল এখন এক আগ্নেয়গিরির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। #

এইরকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর

ব্রেকিং নিউজ