BTC News | বিটিসি নিউজ

আজ- বুধবার, ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

আজ- ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আট গুণী ব্যক্তিত্ব পেলেন ‘আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড’

আট গুণী ব্যক্তিত্ব পেলেন ‘আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড’

ঢাকা প্রতিনিধি: খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের আটজন গুণী ব্যক্তিত্বকে ‘আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর লা মেরেডিয়ান হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অনুষ্ঠানের আয়োজক আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কো-অর্ডিনেটর আবু নাসের শেখ।

অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তরা হলেন- বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন, ফুটবলার আলফাজ আহমেদ, ক্রিকেটার মারুফা আক্তার, ক্রীড়াবিদ ঋতুপর্ণা চাকমা, হকি খেলোয়াড় আমিনুল হক, আল আমীন জুমার, খৈ খৈ মারমা, মো. সাগর ইসলাম ও চৈতী রানী দে।

সম্মাননা প্রদান শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, আরাফাত রহমান কোকো এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নিয়েও নিজেকে ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে নিবেদিত রেখে ছিলেন। তিনি নিজে একজন ক্রিকেটার ছিলেন এবং পরে ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি তৃণমূল থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়ার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা অনেক সংগঠক ও খেলোয়াড় আছেন, যারা প্রত্যক্ষ করেছেন কীভাবে তিনি ক্রিকেটকে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে নিরলস কাজ করেছেন।

আমিনুল হক আরও বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনক যে তিনি অকালে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করি যেন তিনি জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।

সাবেক তারকা ফুটবলার আমিনুল হক উল্লেখ করেন, সরকারের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে আয়োজক ট্রাস্টের আগের আয়োজনের ধারাবাহিকতায় এবারও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে।

আগামী বছর থেকে এই পুরস্কার অনুষ্ঠান জাতীয় পর্যায়ে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

আরাফাত রহমান কোকো যে স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটসহ ক্রীড়াঙ্গনকে সাজাতে চেয়েছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সবার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চান বলে জানান আমিনুল হক।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের গুরুত্ব ও সমর্থন অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ ক্রীড়া ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সমৃদ্ধ অবস্থানে পৌঁছাবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতি সংরক্ষণে এই আয়োজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সরকারিভাবে এই আয়োজনকে জাতীয় ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, আরাফাত রহমান কোকো এমন একজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যিনি দেশের ক্রীড়া অঙ্গনের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

আমি আশা করি, সরকারের পক্ষ থেকে তার শুরু করা কাজগুলো ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে এবং ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, তার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে ক্রীড়া ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া। খেলাধুলার অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং নতুন প্রজন্মকে সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়ে তিনি সবসময় চিন্তা করতেন। তার উদ্যোগে খেলাধুলার বিভিন্ন খাতে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়, যা দেশের ক্রীড়া অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ক্রিকেটার তামিম ইকবাল বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আরাফাত রহমান কোকোর সম্পর্ক কতটা গুরুত্বপূর্ণ-তা এখানে উপস্থিত অনেকেই জানেন, বিশেষ করে যারা তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।

তিনি বলেন, কিছুদিন আগে তাকে নিয়ে একটি ভিডিও দেখার পর মনে হয়েছে, এত বছর ধরে দেশের জন্য এত অবদান রাখার পরও আমরা আরাফাত রহমান কোকোর সম্পর্কে যথাযথভাবে কিছু বলতে পারিনি, দুঃখজনক মনে হয়েছে।

তামিম বলেন, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ইভেন্ট আয়োজন ও পরিকল্পনার ক্ষেত্রে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু তার সেই অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন আমরা দিতে পারিনি, এটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক।

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তামিম বলেন, তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা হওয়ার সুযোগ হয়েছিল এবং আমন্ত্রণও পেয়েছিলাম। তবে এত বছর ধরে তাকে নিয়ে ভাবলেও তার জন্য বিশেষ কিছু করতে না পারাটা আমার আক্ষেপের জায়গা।

তিনি বলেন, যারা তাকে কাছ থেকে চিনতেন, তারা সবাই জানেন ক্রিকেটে তার অবস্থান কতটা বড় ছিল। বাংলাদেশের ক্রিকেটে তার অবদান মানুষ আজীবন মনে রাখবে, আর যতদিন ক্রিকেট থাকবে, ততদিনই তার স্মৃতি ও অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ফারুক হোসেন ও তৌহিদ মোল্লা।

সংবাদ প্রেরক বিটিসি নিউজ এর ঢাকা প্রতিনিধি মো. লিটন চৌধুরী। #

এইরকম আরও খবর

সর্বশেষ খবর

ব্রেকিং নিউজ