আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি: আজ বাংলা ৩১ চৈত্র-১৪৩২ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বগুড়ার আদমদীঘিতে সনাতন ধর্মাম্বলি সম্প্রদায়ের চৈত্র সংক্রান্তি চড়ক মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
তাদের পঞ্জিকামতে বাংলা বছরের সমাপনী মাসের শেষ দিন ৩০চৈত্র এই চড়ক ঘুড়ানো পুজা করা হয়।
এই দিনটিকে চৈত্র সংক্রান্তি বলা হয়ে থাকে। বাংলা চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে আদমদীঘির মাঝিপাড়ায় ঐতিহ্যবাহি চড়কতলা মন্দিরে যুগযুগ ধরে চড়ক ঘুরানো পুজা ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
সেই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) আদমদীঘি উপজেলা সদরের মাঝিপাড়া গ্রামে চড়কতলা মন্দিরের সামনে প্রায় ৮শত বছরের অধিক কাল পূর্ব থেকে চৈত্র সংক্রান্তিতে মানুষের পিঠে বড়শি ফুটিয়ে চড়ক ঘুরানো ও মেলা বসে থাকে।
মন্দির ও চড়কপুজা আয়োজক কমিটির প্রধান উপদেষ্ঠা জমিদার পরিবারের প্রবীন ব্যক্তিত্ব বাবু শিবেশ চন্দ্র নিয়োগী ভ্যানু বাবু ও শ্রী কাঞ্চন সরকার জানায়, তাদের মতে বাংলা সনের শেষ মাসের নামকরন করা হয়েছে-চিত্রা-নক্ষত্রের নামনুসারে আদিগ্রন্থ পুরাণে বর্ণিত রয়েছে-২৭টি নক্ষত্র আছে যা রাজা/প্রজাপতির দক্ষের সুন্দরী কন্যার নামানুসারে নামকরন করা হয়।
হিন্দুধর্মে কথিত মতে মহা ধুমধামে চন্দ্রদেবের সংগে বিয়ে হলো দক্ষের ২৭কন্যার। দক্ষের এক কন্যা চিত্রার নামনুসারে চিত্রানক্ষত্র এবং চিত্রানক্ষত্র থেকে চৈত্র মাসের নামকরন করা হয়।
আর হিন্দু সম্প্রদায়ের চৈত্র মাসের অন্যতম প্রধান উৎসব চড়কপুজা।
আদমদীঘি উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক মিহির কুমার সরকার জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আজ মঙ্গলবার বিকেলে লম্বা গাছের খুটিতে বাঁশ বেঁধে দড়ি ঝুলিয়ে চড়ক গাছ তৈরী করে মানুষের পিঠে বড়শি ফুটিয়ে চড়ক ঘুরানো হবে।
চড়ক কল্পে মানুষের পিঠে বড়শি ফুটানো সহ তান্ত্রিকমন্ত্র পরিচালনা করবেন মাঝিপাড়া গ্রামের সন্যাসী মদন বিশ্বাস এবং পিঠে বড়শি ফুটিয়ে চড়ক করবেন খোকন চন্দ্র বিশ্বাস।
এই চড়ক ঘুরানো ও মেলা দেখতে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে শতশত হিন্দু সম্প্রদায় ছাড়াও অন্য ধর্মাম্বলির জামাই-মেয়ে সহ আতœস্বজনের সহ হাজার হাজার শিশু কিশোর, নারী ও পুরুষের সমাগম ঘটে থাকে। #















